বহিরাগতদের দখলে কুবির কেন্দ্রীয় খেলার মাঠ, দর্শক সারিতে শিক্ষার্থীরা

আকরাম চৌধুরী, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়
০১ নভেম্বর ২০২৬


‎কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে দিন দিন বহিরাগতদের দখলে চলে যাচ্ছে।  শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত এ মাঠে বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ ও খেলাধুলার কারণে ব্যাহত হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক ক্রীড়া কার্যক্রম। মাঠের অধিকাংশ জায়গা বহিরাগতদের দখলে থাকায় অনেক সময় খেলার সুযোগ না পেয়ে দর্শক সারিতে বসে থাকেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

এ নিয়ে কয়েক দফায় বহিরাগতদের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের বাকবিতণ্ডার ঘটনাও ঘটেছে। বিশেষ করে শুক্রবার ও শনিবার কুমিল্লা শহরের বিভিন্ন এলাকা থেকে একাধিক দল মাঠে খেলতে আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, দুপুর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বহিরাগতদের উপস্থিতি বাড়তে থাকে, যা বিকেল পর্যন্ত অব্যাহত থাকে। মাঠে প্রায় শতাধিক মানুষকে খেলাধুলা করতে দেখা যায়, যাদের অধিকাংশই বহিরাগত। মাঠের মূল অংশে বহিরাগতদের ফুটবল খেলার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থীকে মাঠের এক কোণে খেলতে দেখা যায়। আবার কেউ কেউ খেলার সুযোগ না পেয়ে দর্শক সারিতে বসে সময় কাটাচ্ছেন।

 

শিক্ষার্থীরা জানান, বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশের কারণে মাঠের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। পাশাপাশি মাঠে মাদক সেবন ও অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ডের খবরও পাওয়া যায়।  অন্যদিকে, বৃষ্টির মধ্যেও নিয়মিত খেলাধুলার কারণে মাঠের বিভিন্ন স্থানে গর্তের সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্রিকেট পিচ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে মাঠের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ, নিয়মিত পরিচর্যা এবং শিক্ষার্থীদের জন্য খেলাধুলার উপযুক্ত পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীরা।

 

‎বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ১৬তম আবর্তনের শিক্ষার্থী রকিবুল ইসলাম জিসান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “ক্যাম্পাসে নতুন সীমানা প্রাচীর ও সতর্কতামূলক নোটিশ বোর্ড থাকা সত্ত্বেও বহিরাগতদের অবাধ প্রবেশ কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না। বিশেষ করে সেন্ট্রাল ফিল্ডে নিয়মিত মাদকের আসর ও নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সাধারণ শিক্ষার্থীরা খেলাধুলা করতে পারছে না। মাঠের পরিবেশ নষ্ট হওয়ায় ক্রীড়াপ্রেমী শিক্ষার্থীরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও হতাশায় ভুগছে।”

‎

‎​কুবি স্পোর্টস ক্লাবের সভাপতি এম এইচ পিয়াস বলেন, “খেলার মাঠে বিশেষ করে রাতে এবং শুক্রবারের ছুটির দিনগুলোতে বহিরাগতরা খেলাধুলা করতে আসে। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ পায় না। এমনকি বৃষ্টি চলাকালীনও খেলাধুলা অব্যাহত রাখার কারণে মাঠে ছোট-বড় একাধিক গর্তের তৈরি হয়েছে এবং ক্রিকেট পিচটি মারাত্মকভাবে নষ্ট হয়ে গেছে।”

‎

তিনি আরও বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে দাবি তারা যেন এ বিষয়ে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করে। একই সঙ্গে  মাঠের উঁচু-নিচু অংশ সমতল করা, নিয়মিত ঘাস কাটা এবং সার্বিক পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ করে।”

 

‎​এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপপরিচালক মনিরুল আলম বলেন, “বহিরাগতদের নিয়মিত মাঠে খেলতে আসার কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা খেলাধুলার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে। অনেক সময় শিক্ষার্থীদের মাঠের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। এ সমস্যা সমাধানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও প্রক্টোরিয়াল বডির দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের প্রবেশপথগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে, যেন বহিরাগতরা অবাধে প্রবেশ করতে না পারে।”

 

এ ব্যাপারে ‎বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. মোঃ শাহাদাৎ হোসেন বলেন, বহিরাগতদের প্রবেশ রোধে আমরা হলের গেটগুলোতে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দিচ্ছি। কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় যাতে কোনো ব্যাঘাত না ঘটে, সেজন্য আমরা কিছু নতুন নির্দেশনা তৈরি করছি। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরও বিষয়টির প্রতি নজর রাখার আহ্বান জানাচ্ছি।

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর