দেশে শিক্ষিত যুবকের সংখ্যা বাড়লেও সে অনুপাতে তৈরি হচ্ছে না কর্মসংস্থান। ফলে উচ্চশিক্ষা শেষ করেও বেকারত্বের কশাঘাতে ধুঁকছে বিপুলসংখ্যক যুবক। এর পেছনে শিক্ষাব্যবস্থার দুর্বলতা ও দক্ষতার ঘাটতি বড় কারণ। ২০২৩ সাল থেকে ২০২৪ সাল- এই এক বছরে দেশে বেকারের সংখ্যা বেড়েছে ১ লাখ ৬০ হাজার। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবে, দেশে উচ্চশিক্ষিত যুবকদের প্রতি ১০০ জনের ৩৬ জনই থাকছেন বেকার। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, স্নাতক ডিগ্রীধারীদের তুলনায় মাধ্যমিক পাশ করা ব্যক্তিরা কম বেকার থাকছেন।
বিবিএস-এর শ্রমশক্তি জরিপ-২০২৪- অনুযায়ী, দেশে ২০২৪ সালে বেকারের সংখ্যা ছিল ২৬ লাখ ২০ হাজার। ২০২৩ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ২৪ লাখ ৬০ হাজার। শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক সম্পন্নকারীদের বেকারত্ব সবচেয়ে বেশি, ১৩ দশমিক ৫৪ শতাংশ। উচ্চমাধ্যমিক শেষ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং মাধ্যমিক পাশ করা ব্যক্তিদের বেকারত্ব ২ দশমিক ৯১ শতাংশ। আনুষ্ঠানিক শিক্ষা না থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বেকারত্ব মাত্র ১ দশমিক ২৫ শতাংশ। উচ্চশিক্ষা শেষে চাকরি না পাওয়ার বাস্তবতা দেশের শ্রমবাজারের বড় সংকট হয়ে উঠেছে।
আইএমএফ-এর একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষিত যুবকদের বেকারত্ব ৩৬ শতাংশ। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে উচ্চশিক্ষিত যুবকদের বেকারত্বের হারে তৃতীয় অবস্থানে বাংলাদেশ।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, গত এক দশকে দেশের শ্রমবাজারে প্রবেশ করেছেন প্রায় ১ কোটি ৪০ লাখ যুবক। বিপরীতে এ সময়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে ৮৭ লাখ। অন্যদিকে সরকারের জিইডির কৌশলপত্র অনুযায়ী, দেশে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সি প্রায় ৫৫ লাখ যুবক শিক্ষা, কর্মসংস্থান বা কোনো প্রশিক্ষণের সঙ্গে যুক্ত নেই। কর্মজীবনে প্রবেশের প্রস্তুতি ও কাজের সুযোগ- দুই ক্ষেত্রেই পিছিয়ে রয়েছেন বিপুলসংখ্যক তরুণ।
বাংলাদেশ
উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) গবেষণা অনুযায়ী, চাকরির সন্ধানের অনলাইন প্লাটফর্ম
বিডিজবস ডটকমে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ চাকরিপ্রার্থীর
প্রোফাইল রয়েছে। প্রতিদিন গড়ে প্রায় দুই লাখ চাকরিপ্রার্থী এ প্ল্যাটফর্ম থেকে পছন্দের
চাকরি খুজে থাকেন। দুই বছর আগে এ সংখ্যা ছিল
প্রায় দেড় লাখ।
এদিকে
কর্মসংস্থানের ঘাটতির পাশাপাশি চাকরিদাতাদের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরিতেও পিছিয়ে রয়েছেদেশ। কিউএস ওয়ার্ল্ড ফিউচার স্কিলস ইনডেক্স-২০২৫ অনুযায়ী, চাকরিদাতাদের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ দক্ষ গ্র্যাজুয়েট তৈরির সক্ষমতায় ৮১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ৬৭তম। বিবিএস-এর ‘স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস’ অনুযায়ী, দেশের সামগ্রিক এনইইটি হার প্রায় ৪১ শতাংশ।
ওদিকে
তরুণদের মেধা,
দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে কাজে
লাগাতে নানা
উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে সরকার। সম্ভাবনাময় তরুণ উদ্যোক্তাদের সহায়তায় ৫০০ কোটি টাকার স্টার্টআপ তহবিল ঘোষণা করা হয়েছে সরকারিভাবে। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের
আওতায় এ পর্যন্ত ৮০ লাখের বেশি তরুণ-তরুণীকে বিভিন্ন মেয়াদে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ
দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৫ লাখ আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বাবলম্বী হয়েছেন।
এসব তরুণের অনেকে মাসে ২০ হাজার থেকে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। কেউ কেউ এর চেয়েও
বেশি উপার্জন করছেন। যুব উদ্যোক্তাদের আর্থিক সহায়তা দিতে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ২
হাজার ৮৬১ কোটি ৮৭ লাখ টাকার যুবঋণ বিতরণ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে