দায়িত্ব
পালন করতে গিয়ে মাঠপর্যায়ে একের পর
এক হামলার শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। অপরদিকে, পুলিশের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, মাদক সংশ্লিষ্টতা ও নানা অপরাধে
জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ গোটা বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ হচ্ছে। এক কথায় বর্তমানে হামলা
ও জনআস্থার প্রশ্নের মুখে পড়েছে পুলিশ।
প্রাপ্ত
তথ্যমতে ,বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি
নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে মাদকবিরোধী
অভিযান এমনকি আসামি গ্রেফতার করতে গিয়ে হামলার মুখে পড়তে হচ্ছে পুলিশকে। কোথাও চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে, কোথাও পিটিয়ে আহত করা হচ্ছে তাদের। চলতি বছর প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ৪৯ জন পুলিশ
সদস্য হামলার শিকার হয়েছেন। এভাবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ২১ মাসে হামলায়
আহত হয়েছেন ১ হাজার ৪৩
জন পুলিশ সদস্য। হামলায় পুলিশ সদস্য আহতের এ
পরিসংখ্যান পাওয়া গেছে পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধসংক্রান্ত রিপোর্ট থেকে।
অপরদিকে, গত ২০ অক্টোবর চট্টগ্রামে ডাকাতি করতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্য আটক হয়েছে জনতার হাতে। পাশ্ববর্তী জেলা বান্দরবানে চোরাই মোটরসাইকেলসহ আটক হয়েছে দুই পুলিশ সদস্য। ঘুষ, দুর্নীতি, মাদক সংশ্লিষ্টতা, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অপরাধে সাম্প্রতিক পুলিশের অর্ধশতাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনায় কয়েকজন গ্রেফতারও হয়েছেন। মাদকাসক্তি পরীক্ষায় শনাক্ত হওয়ার পর ১৬৫ জনের বেশি পুলিশ সদস্যকে বিভাগীয় শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের অপরাধসংক্রান্ত পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ২১ মাসে হামলায় যে ১ হাজার ৪৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তার মধ্যে ২০২৫ সালে ৬০১ জন এবং চলতি বছরের প্রথম ৯ মাসে ৪৪২ জন আহত হন। তবে আহতদের মধ্যে পরবর্তী সময়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়া পুলিশ সদস্যের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা পাওয়া যায়নি।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যানুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযানকে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার অন্যতম ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আসামি ধরতে গিয়ে, মব পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ও হামলার শিকার হচ্ছেন তারা। সবশেষ গত শনিবার রাজধানী ঢাকার উত্তরায় পোশাকশ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে ১৯ পুলিশ সদস্য আহত হন। এর মধ্যে দুজনকে পিটিয়ে তাদের হাত ভেঙে দেওয়া হয়েছে। এর আগের দিন গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা চালিয়ে দুই পুলিশ সদস্যকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে জখম করা হয়েছে। মাদকসহ আটক দুই আসামিকে ছিনিয়ে নিতে এ হামলা চালানো হয়। গত ৭ অক্টোবর খুলনায় দায়িত্ব পালন শেষে ফেরার পথে ছিনতাইকারীরা দুই হাতের রগ কেটে দেয় পুলিশ পরিদর্শক মো. শাহ আলমের। সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি)এসআই আলতাফ হোসেনকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। রায়েরবাজারে মাদকবিরোধী অভিযানে গিয়ে কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় চার পুলিশ সদস্য আহত হন। পটুয়াখালী, ময়মনসিংহ, রাজবাড়ী ও ভোলাসহ বিভিন্ন স্থানেও আসামি গ্রেফতার এবং অভিযান চালাতে গিয়ে পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। সাম্প্রতিক হামলার পর রাতে একা চলাচল না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে পুলিশ সদস্যদের।
আইজিপি জানিয়েছেন, পুলিশ সদস্যের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। হামলাকারীদের গ্রেফতার ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণে বিশেষ অভিযান চলছে।
এদিকে পুলিশ বাহিনীকে আরো কার্যকর, গতিশীল ও জনবান্ধব করতে সংস্কারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। পুলিশে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে স্বাধীন পুলিশ কমিশন গঠনের উদ্যোগও রয়েছে। পুলিশ সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে রেঞ্জ, মহানগর ও জেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সতর্ক করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে