কোনো গুম-বিচারবহির্ভূত হত্যা চায় না সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৯ অক্টোবর ২০২৬


বিএনপি সরকারের ৮ মাসে দেশে কোনো ক্রসফায়ার, বিচারবহির্ভূত হত্যা বা গুমের ঘটনা ঘটেনি। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু- এর কোনটাই চায় না সরকার। এ ধরণের মৃত্যুর পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সংবিধান ও আইনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সরকার ইতোমধ্যে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনও করেছে।

 

বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিষয়টি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।  এদিন সংসদে গত ১৭ বছরে গুমের শিকার হওয়া এবং এখনো ফিরে না আসা ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেন সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির  সদস্যরা।

 

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বৈঠকে একটি অভিন্ন বক্তব্য এসেছে। ভবিষ্যতে দেশে কেউ ও যেন গুমের শিকার না হয়, সে ব্যবস্থা করা। গুমসংক্রান্ত সব মামলার দ্রুত ও সুষ্ঠু বিচার করা।  

 

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, গুমের সংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করার পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও কারা হেফাজতে মৃত্যুর অবসান চাই আমরা। এ জন্য সংবিধানে অন্তর্ভুক্তির প্রয়োজন রয়েছে— এমন বিষয় সংবিধানে এবং আইন বা বিধিমালার মাধ্যমে বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট কাঠামোয় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।

 

গুমের অভিযোগ ওঠা মিরাজ শেখের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সরকার তদন্ত করছে। মানবাধিকার সংস্থাগুলোকেও স্বাধীনভাবে তদন্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোকে এ বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানানো হলেও এখন পর্যন্ত কেউ সুনির্দিষ্ট ও প্রমাণযোগ্য অভিযোগ দেয়নি বলে জানান তিনি। এদিনও ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্যকে অসতর্কতাবশত ভুল উল্লেখ করে বলেন, ‘এমন শব্দচয়ন ঠিক হয়নি।’

 

এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে। এ বিষয়ে সংবিধানে পর্যাপ্ত স্বীকৃতি রয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

বর্তমান বিরোধী দলের গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের বৈঠকে আমন্ত্রণ জানানো  প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেমকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। তিনি বৈঠকে উপস্থিত হননি।

 

এদিকে বৈঠক বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও তাহসিনা রুশদী বৈঠকে তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা নির্যাতন, আইনি সুরক্ষার অভাব এবং ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার বিষয়গুলো তুলে ধরে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন।

 

বৈঠকে গুম প্রতিরোধ, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বীকৃতি দেওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবিও জানানো হয়।

 

বিডি২৪অনলাইন/ এনএন/ এমকে

 

 


মন্তব্য
জেলার খবর