আইজিপির মুখে ক্রসফায়ার, বিব্রত ও প্রতিবাদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৮ অক্টোবর ২০২৬


‘সরকার অনুমতি দিলে পুলিশ  প্রয়োজনে ‘ক্রসফায়ার’ করবে’- পুলিশের মহাপরিদর্শক ( আইজিপি) আলী হোসেন ফকিরের এমন বক্তব্য নিয়ে দেশজুড়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। তার এই বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করার মতো বলে মনে করছেন বিএনপির অন্যতম শীর্ষ নেতাসহ অনেকেই। বিরোধী দল জামায়াত এ বক্তব্যের জন্য আইজিপিকে ক্ষমা চাইতে বললেও এনসিপি তার পদত্যাগ দাবি করে বসেছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা টিআইবি তার এ বক্তব্যের ব্যাপারে তীব্র নিন্দা ও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। জবাবদিহি নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আইজিপিকে দায়িত্ব থেকে অপসারণেরও দাবি জানিয়েছে সংস্থাটি। প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা বলেছেন, তার বক্তব্যের বিষয়ে যদি অন্য সিদ্ধান্ত নিতে হয়, তবে জাপান সফর শেষে দেশে ফিরে বিবেচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইজিপিকে সহজ-সরল আখ্যায়িত করে বলেছেন, সরকার ক্রসফায়ার চায় না। ক্রসফায়ার বিষয়ে সরকারের অবস্থান জিরো ট্রলারেন্স।  তবে পুলিশদের সংগঠন ‘পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন’  আইজিপির বক্তব্যের সাফাই গেয়ে বলেছে,  অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা নিশ্চিত করা এবং জননিরাপত্তা রক্ষায় পুলিশের সক্ষমতা বাড়ানোর সময়োপযোগী আহ্বান এটা।

সোমবার রাজধানীর চকবাজারে এক অনুষ্ঠানে  আইজিপি বলেন, সরকার অনুমতি দিলে প্রয়োজনে পুলিশ ‘ক্রসফায়ার’ করতে পিছপা হবে না।  তিনি বলেন, পুলিশ বলপ্রয়োগ করলে এক পক্ষ পুলিশকে ফ্যাসিস্ট বলে। নিষ্ক্রিয় থাকলে আবার দুর্বল বলে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত পরিবেশ দিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গণমাধ্যমকে এ প্রসঙ্গে বলেন, আইজিপি অসতর্কতাবশত এমন কথা বলেছেন। এটা ঠিক হয়নি, উচিত হয়নি। তিনি বলেন, সরকার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হতে দেবে না, এ বিষয়ে সরকার অত্যন্ত কঠোর। বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, কাস্টডিয়াল ডেথ (পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু) সরকার সহ্য করবে না। আইনের শাসন সরকারের প্রধান লক্ষ্য এবং আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন সরকারের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে অপরাধ দমন এবং আইনের যথাযথ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সরকার দরকারি  সবই করবে।

 

এদিকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী ক্রসফায়ার নিয়ে আইজিপির বক্তব্য সরকারের জন্য বিব্রতকর বলে মন্তব্য করেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে এক অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, বিএনপি দীর্ঘদিন গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে লড়াই করেছে, তাই বিএনপি সরকার ক্ষমতায় থাকার সময় পুলিশপ্রধানের মুখে ক্রসফায়ারের কথা তাদের ভাবিয়ে তুলছে।

একটা পুলিশ বাহিনীর প্রধান সরকারের একটা অংশ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, তিনি ক্রসফায়ারের কথা বলেন কী করে? যদি স্লিপ অব টাং করেন, সেটা ভিন্ন ব্যাপার। কিন্তু এটা সরকারকে বিব্রত করার মতো অবস্থা। তিনি বলেন, দেশে পর্যাপ্ত আইন আছে। এই আইন দিয়েই সন্ত্রাস, অপরাধ দমন করা সম্ভব। বেআইনি পদ্ধতি কখনোই অপরাধ দমনে কার্যকর হয় না।

ওদিকে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, আইজিপি আসলে তার বক্তব্যে যেটা বোঝাতে চেয়েছেন, সে বিষয়টি মিস কমিউনিকেশন হয়েছে। তিনি বিষয়টার ক্ল্যারিফিকেশন দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ প্রধান ‘ক্রসফায়ার’ শব্দটি দিয়ে বহির্বিচারবহির্ভূত হত্যা বা বিচারিক প্রক্রিয়ার বাইরে কোনো শাস্তিকে বোঝাননি। জননিরাপত্তার জন্য হুমকি সৃষ্টকারী মাদক ব্যবসায়ী, সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে বাহিনীর অঙ্গীকার ব্যক্ত করতেই শব্দটি রূপক অর্থে ব্যবহার করেছেন তিনি।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর