নড়েচড়ে বসেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা

কঠোর অবস্থানে প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ অক্টোবর ২০২৬


সরকারের ৪ মাস বয়স থেকে শুরু, এরপর পরবর্তী সাড়ে ৪ মাস মিলে সাড়ে ৮ মাস বয়সী সরকারের মন্ত্রিসভা থেকে ইতোমধ্যে দুজন মন্ত্রী ও একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে। সেই সঙ্গে পদত্যাগ করতে হয়েছে একজন সংরক্ষিত নারী সংসদ সদস্যকে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে তাদের সরে যেতে হয়েছে। তাদের কারও বিরুদ্ধে দলীয় কোন্দল, কারও বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সমর্থকদের সঙ্গে গোপন বৈঠক করা এবং কারও বিরুদ্ধে জনস্বার্থবিরোধী কাজে সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠার পরই পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।

মুলত অভিযোগ নজরে আসার পর নিশ্চিত হয়েই তাদের ব্যাপারে অ্যাকশনে যান প্রধানমন্ত্রী। তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়ার এই বিষয়টি মন্ত্রিসভার সদস্য থেকে শুরু করে এমপি ও দলের নেতাকর্মীদের জন্য একটি কঠোর বর্তা। প্রধানমন্ত্রীর এমন অবস্থানে নড়েচড়ে বসেছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা। মন্ত্রিসভার যেসব সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে তারাও এখন সতর্ক থাকছেন। এ নিয়ে অনেকের মধ্যে এক ধরনের আতঙ্কও বিরাজ করছে।

রাজনৈতিক বোদ্ধাদের মতে, তাৎক্ষণিক কঠোর পদক্ষেপ নিয়ে তারেক রহমান স্পষ্ট করেই  বুঝিয়ে দিয়েছেন- তার দল এবং সরকারে কেউ অপরিহার্য নয়। প্রধানমন্ত্রী তার অবস্থানে দৃঢ় থাকলে ক্ষমতার ভারসাম্য রক্ষা হয়। না হলে  লাগামহীন হয়ে পড়ে নেতাকর্মীরা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কঠোর অবস্থানের বিষয়টি ওঠে এসেছে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামানের কথাতেও। তিনি বলেছেন, কেউ জনপ্রত্যাশার পরিপন্থি কোনো কাজ করলে, তিনি প্রধানমন্ত্রীর যতই কাছের হোক, ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে বিন্দুমাত্র চিন্তা করবেন না প্রধানমন্ত্রী। ইতোমধ্যে তা প্রমাণ করেছেন তিনি । কেউ যে সরকারে অপরিহার্য নয়, তা পরিষ্কার হয়েছে বলে মনে করছেন মন্ত্রিসভার সদস্যরা।

মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিরা কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় উল্লেখ করে মো. আসাদুজ্জামান জানান,  বিষয়টি মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী এবং এমপিদের মাথায় রাখতে হবে।

সাধারণ মানুষ মনে করছে, মন্ত্রিসভার আরও কিছু সদস্য রয়েছেন, যাদের কথা ও কাজ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার সে বিষয়ে সতর্কতার সঙ্গে মনোযোগ দেবে বলেও প্রত্যাশা তাদের।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, সরকারের চার মাস বয়সে প্রথম পদত্যাগ করেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়কমন্ত্রী দীপেন দেওয়ানকে। শারীরিক অসুস্থতা কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করলেও দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে তাকে মন্ত্রীর পদ ছাড়তে হয়েছে বলে জানা গেছে। দলের অভ্যন্তরে একাধিক বিষয় নিয়ে একমত হতে না পারায় শেষ পযন্ত  সরে দাঁড়ান তিনি। এরপর আগষ্টে এসে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে জহির উদ্দিন স্বপনকে সরিয়ে সেখানে নিযুক্ত করা হয় আন্দালিভ রহমান পার্থকে। যদিও জহির উদ্দিন স্বপনকে মন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা হিসাবে নিয়োগ দেওয়া হয়। পদত্যাগপত্রে জহির উদ্দিন স্বপন কোনো কারণ উল্লেখ করেননি। তবে তার বিরুদ্ধে ঢাকা ক্লাবে বসে জেলখানায় আটক এক সাংবাদিকের স্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের খবর চাউর হয় । এছাড়া মন্ত্রণালয়ের কিছু বিষয়েও অনিয়মের অভিযোগ ছিল ।

সবশেষ সোমবার (১৯ অক্টোবর) মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. ইশরাক হোসেন। পদত্যাগের পর গণমাধ্যমকে বলেন, দল চায়নি। তাই পদত্যাগ করলাম। রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় সম্প্রতি মাদকবিরোধী  অভিযানে তাকে ও তার সহযোগীদের অস্ত্র হাতে দৌড়াদৌড়ি করতে দেখা যায়। এটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়। এরপর প্রধানমন্ত্রী তাকে পদত্যাগ করতে নির্দেশ দিয়েছেন- এমন খবর রোববার রাতে সামনে আসে। গেন্ডারিয়ায় মাদকবিরোধী  অভিযানে বিষয়ে ইশরাক বলেন, আমি সেখানে গিয়েছি মাদকের বিরুদ্ধে পরিচালিত অভিযান দেখতে। কোনো ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কাজে সেখানে যাইনি।

অপর দিকে মিরপুরের এমপি ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি গত ১ অক্টোবর পদত্যাগ করেন। মিরপুর-১ নম্বরে রাড্ডা ক্লিনিকে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা থাকায় তাকে পদত্যাগের নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী ।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর