গাফিলতিতে বহু মায়ের বুক খালি

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশে হামের টিকাদান কর্মসূচিতে বিগত সরকারের সময়  দীর্ঘ চার বছর গাফিলতি ও বিলম্বের কারণে বহু মায়ের বুক খালি হয়েছে। এই চার বছরের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছিল, দায়িত্ব নেওয়ার পর তার খেসারত বর্তমান সরকারকে দিতে হয়েছে।

শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) ঢাকায় বনানীতে  দ্বিতীয় ধাপে হামের টিকা ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন  স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

মন্ত্রী বলেন, ২০২০ সাল থেকে পর প্রতি চার বছরে একবার মহামারির বিরুদ্ধে টিকাদান কর্মসূচি চালু করার দায়িত্ব সরকার। কিন্তু বিগত সরকারের সময় তা দেওয়া হয়নি। ।

তিনি বলেন, টিকা সংগ্রহের ক্ষেত্রে ইউনিসেফের ডেলিগেটেড ওয়েতে সরাসরি কেনাকাটার পরিবর্তে  ওপেন টেন্ডার ব্যবস্থায় যেতে চেয়েছিল আগের সরকার। এ বিষয়ে বিদেশি সংস্থাগুলো  একাধিকবার অনুরোধ করলেও তা শোনা হয়নি। এতে সময়ক্ষেপণ হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের অনেক মাকে কষ্ট পেতে হয়েছে এবং অনেক মায়ের বুক খালি হয়েছে। ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ জন রোগীর মধ্যে প্রায় এক হাজার শিশু মারা গেছে।

মন্ত্রী জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর ৫ এপ্রিল থেকে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়। প্রথম ধাপে ইউনিসেফ নির্ধারিত তিনটি পর্যায়ে ১৮টি জেলায় কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। পরবর্তীতে ঢাকা এবং আরও দু’টি বড় সিটি করপোরেশনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এরপর ৪ মে থেকে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও কর্মসূচি এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে টিকাদান কর্মসূচি চালু করা হয়। এ কর্মসূচিতে ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে।

হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে পুষ্টির ঘাটতিও দেখা গেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী জানান, হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ নিউমোনিয়া এবং এর সঙ্গে থাকা অপুষ্টি। অনেক শিশুর শরীরে পর্যাপ্ত পুষ্টি না থাকায় হাম হলে দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে এবং গুরুতর অবস্থায় তাদের ফুসফুসে অক্সিজেন প্রবেশে সমস্যা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা খরচে একটি বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ ব্যবস্থা উদ্ভাবন করেছেন বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

স্বাভাবিকভাবে  যেসব শিশু অক্সিজেন নিতে পারছিল না, তাদের জন্য এ পদ্ধতিতে অক্সিজেন সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে- যোগ করেন মন্ত্রী।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর