ইউনিয়ন
পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের সম্ভাব্য সূচি নির্ধারণ নিয়ে সরকার
ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) মধ্যে সমন্বয়হীনতা রয়েছে। ইসির পক্ষ থেকে
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ৭ ধাপে
ইউপি নির্বাচন আয়োজনের পরিকল্পনার কথা জানানোর পরের দিনেই
মঙ্গলবার ( ১৫ সেপ্টেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী,
স্থানীয় সরকার
প্রতিমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি জানা গেছে।
তারা
জানিয়েছে, সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ও সংসদ নির্বাচনের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসি। অন্য নির্বাচনগুলো স্থানীয় সরকার আইন অনুযায়ী
হয়। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাংবিধানিকভাবে ইসির দুটি দায়িত্ব- রাষ্ট্রপতি
নির্বাচন ও সংসদ নির্বাচন। এর বাইরে বলা আছে, আইনে প্রদত্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করা নির্বাচনসংক্রান্ত।
তিনি
বলেন, স্থানীয় সরকার আইন অনুসারে হবে স্থানীয়
নির্বাচন। এ আইনে এমন কিছু নেই, যেখানে বলা আছে সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা ব্যতিরেকে
করতে পারে; এটি সমন্বয়ের ব্যাপার।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
আরও বলেন, নির্বাচন কমিশন সিদ্ধান্ত নিয়েছে ১৭ সেপ্টেম্বর আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার সিদ্ধান্তের
আলোকে নির্বাচনের তফসিল সাজাবে ইসি। মনে
হয় আন্তঃমন্ত্রণালয়ের সভার পর নির্বাচনের সূচি
ঘোষণা হবে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে ঢাকা শহরের
মেগা প্রজেক্টের কারণে উদ্ভূত যানজট রোধসংক্রান্ত এক সভা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা
বলেন।
এদিকে স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, পত্রিকা, সামাজিক মাধ্যম ও টেলিভিশনের মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন তারিখ জেনেছেন তিনি। এ ব্যাপারে সরকার কিছু জানে না। এমনকি সরকারের সঙ্গে কোনো পত্র যোগাযোগ বা অন্য কোনোভাবে আলোচনা হয়নি।
নির্বাচন কমিশন স্বাধীন এবং নির্বাচন পরিচালনার সাংবিধানিক ক্ষমতা তাদের রয়েছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে প্রস্তুতিমূলক সভা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে বৈঠকের পর নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা হয়। এখানে বাজেটসহ বিভিন্ন বিষয় থাকে। নির্বাচন কমিশন যে তারিখগুলো ঘোষণা করেছে, সে বিষয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বা সরকারের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি। এ ব্যাপারে কিছু জানে না সরকার। সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন তিনি।
ওদিকে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন, এই নির্বাচন আয়োজনের বিষয়ে ইসির একক কোনো এখতিয়ার নেই। স্থানীয় সরকার নির্বাচন কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেবে সরকার। তিনি জানান, এই ধরনের নির্বাচন অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সরকারের সঙ্গে আলোচনা ও সমন্বয় করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে ইসিকে।
এর আগে সোমবার নির্বাচন কমিশনে বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, এবার দেশের সাড়ে ৪ হাজার ইউপিতে ৭ ধাপে নির্বাচন হবে। প্রথম ধাপ ১২ নভেম্বর, দ্বিতীয় ধাপ ১৩ ডিসেম্বর, তৃতীয় ধাপ ৩০ ডিসেম্বর, চতুর্থ ধাপ ১৭ জানুয়ারি, পঞ্চম ধাপ ৪ ফেব্রুয়ারি, ষষ্ঠ ধাপ ২২ এপ্রিল এবং ২৭ মে সপ্তম ধাপের ভোট হবে। তিনি আরও বলেন, এটি প্রাথমিক সিদ্ধান্ত, চূড়ান্ত নয়। আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা আছে ১৭ সেপ্টেম্বর, সেখানে এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।
এদিকে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রেক্ষিতে নির্বাচন কমিশনারদের অবস্থান জানতে চাইলে সরাসরি উত্তর দেননি তারা। স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, উনি যেটা বলেছেন সেটা শিরোধার্য। এ বিষয়ে পালটা কোনো মন্তব্য করার ধৃষ্টতা দেখাব না। নো কমেন্টস ফ্রম মাই সাইড।
আখতার আহমেদ জানান, নির্বাচন কবে এবং কী পদ্ধতিতে বা কোন পর্যায়ে হবে, তা নিয়ে গত দুই দিন ধরে প্রাক-প্রস্তুতিমূলক আলোচনা হয়েছে কমিশনে। এর ধারাবাহিকতায় সম্ভাব্য সময়সূচি করা হয়েছে। সেখানে পাঁচটি ধাপে নির্বাচন আয়োজনের কথা বলা হয়েছে। দুটি ধাপ রিজার্ভ রাখা হয়েছে। এটি একেবারেই প্রাথমিক সময়সূচি। ১৭ সেপ্টেম্বর বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও নির্বাচন কার্যক্রমের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে বৈঠক হবে। সেখানে সবার মতামতের ভিত্তিতে নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করবে কমিশন।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে