যত দীর্ঘায়িত হবে রোহিঙ্গা সংকট, ততই বাড়বে দেশের মানবিক ও নিরাপত্তাঝুঁকি। তাই মানবিক সহায়তায় এ সংকট সামাল না দিয়ে রীতিমতো পথ তৈরি করতে হবে প্রত্যাবাসনের। এ জন্য যথাযথ দায়িত্ব নিতে হবে আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পক্ষগুলোকে । পাশাপাশি সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে প্রণয়ন করতে হবে একটি সমন্বিত জাতীয় কৌশল।
রোববার
(৬ সেপ্টেম্বর) রোহিঙ্গা
সংকট নিয়ে এক গোলটেবিল বৈঠকে
এসব বিষয় উঠে
আসে। রাজধানী ঢাকার রমনায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড
স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস–বিস) মিলনায়তনে এ বৈঠক হয়।
বৈঠকে অংশ নেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম, প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ, শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, গবেষণাপ্রতিষ্ঠান ওসমানী সেন্টার ফর পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের চেয়ারম্যান ও সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের (এএফডি) সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান, আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইডের এ দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির রাজনীতিবিজ্ঞান ও সমাজবিদ্যার অধ্যাপক বুলবুল সিদ্দিকী, বিসের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল এ এস এম রিদওয়ানুর রহমান, জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) এ দেশীয় প্রতিনিধি ইভো ফ্রেইসেন, লিবিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল (অব.) শহীদুল হক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নীলয় রঞ্জন বিশ্বাস ও সাজ্জাদ সিদ্দিকী, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নুরুল হুদা সাকিব, ইনডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক কাজী মাহমুদুর রহমান, ইউল্যাবের সহকারী অধ্যাপক অবন্তী রহমান এবং আইজিসিএফের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা চৌধুরী আদনান রহমান বৈঠকে অংশ নেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বলেন,
রোহিঙ্গা শিবিরগুলোয় নারীর প্রতি সহিংসতা বাড়ছে। মাদক চোরাচালানের ঘটনা ঘটছে। সার্বিক নিরাপত্তা ঝুঁকিপূর্ণ হচ্ছে। তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধান যত দেরি হবে,
তত বেশি বাড়বে সার্বিক সংকট । এতে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি রোহিঙ্গারা নিজেরাও ভুক্তভোগী
হবে।
তিনি
বলেন, নিরাপত্তা
ও মানবিক সংকট প্রকট হওয়ার কারণেই দ্রুত রোহিঙ্গা সংকট সমাধানের কোনো বিকল্প নেই। রাখাইনে স্থিতিশীলতা ফেরাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কাজ করতে হবে। অনির্দিষ্টকাল চলতে থাকা জরুরি সহায়তার মডেল থেকে বেরিয়ে প্রত্যাবাসন ও প্রত্যাবর্তনের সঙ্গে
যুক্ত একটি রূপান্তর কৌশলের দিকে যেতে হবে। বর্তমান সরকার রোহিঙ্গা ইস্যুকে জাতীয় নিরাপত্তার দিক থেকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে বলেও জানান তিনি।
বর্তমান সরকার প্রকৃত প্রত্যাবাসনের দিকে এগোতে যাচাইপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করাকে অগ্রাধিকার দিয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার ভিত্তিতে যাচাইপ্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে শিবিরে জন্ম নেওয়া এবং ২০১৭ সালের পর রাখাইন থেকে আসা ব্যক্তিদের বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহ জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে অগ্রগতি না হওয়া বিগত সরকারের কূটনৈতিক ব্যর্থতা। শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের দপ্তরের এখনো স্পষ্ট নীতিনির্দেশনা ছাড়া কাজ করার বিষয়টি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার বলেন, সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে রোহিঙ্গা শিবিরের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে কার্যকরভাবে সাড়া দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের । রোহিঙ্গা শিবির পরিচালনায় কর্তৃপক্ষকে নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ ও ঝুঁকি মোকাবিলা করতে হচ্ছে।
এএফডির সাবেক প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. মাহফুজুর রহমান বলেন, রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় তিনটি বিষয়নিয়ে এগোতে হবে। এগুলো হলো —প্রণোদনা, পরিণতি ও প্রেরণা। মিয়ানমারকে স্পষ্ট বার্তা দিতে হবে-বাংলাদেশের কৌশলগত ধৈর্যেরও সীমা রয়েছে, যা ফুরিয়ে আসছে। রোহিঙ্গাদের অল্প অল্প করে বাংলাদেশে পাঠানো অব্যাহত রাখলে এর পরিণতি মিয়ানমারের জন্য আরও গুরুতর হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে