দেশে সরকারি চাকরিতে ৫ লাখের বেশি পদ শূন্য রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন ও জনসেবামূলক কাজে রীতিমতো এ পদ শূন্যতার প্রভাব পড়ছে। সেখানে স্বাভাবিক কাজে স্থবিরতার পাশাপাশি নাগরিক সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সাধারণ মানুষ। এদিকে এতো বেশি সংখ্যক পদ শূণ্য থাকার পরে কর্মক্ষম তরুণেরা ধুঁকছেন বেকারত্বে। দ্রুত শূন্য পদ পূরণে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা থাকলেও বাস্তবায়নে এখনো কোনো অগ্রগতি দৃশ্যমান নয়।
জানা গেছে, সরকারি চাকরিতে পদ শূন্য হওয়া ও পদ পূরণ চলমান প্রক্রিয়া। এর অন্যতম কারণ প্রতিনিয়ত কর্মকর্তা-কর্মচারী অবসরে যায়। সেই সঙ্গে আবার নিয়োগও চলছে। এর বাইরে প্রয়োজনে নতুন পদ সৃষ্টি হচ্ছে। তাই নিয়োগ কার্যক্রম জোরদার করা হলেও অনুমোদিত পদের একটি অংশ খালি থাকে সব সময়।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, দেশের বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে অনুমোদিত পদ হলো ১৯ লাখ ৮৬ হাজার। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১৪ লাখ ৬৪ হাজার জন। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের অধীনে মোট ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি সরকারি পদ শূন্য রয়েছে বলে সম্প্রতি সম্প্রতি জাতীয় সংসদকে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী । তার দেওয়া পরিসংখ্যানটি ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে করা। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গ্রেডভিত্তিক ১-৯ গ্রেড পর্যায়ে শূন্য রয়েছে ৬৮ হাজার ৮৮৪টি পদ, ১০-১২ গ্রেড পর্যায়ে ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ১৩-১৬ গ্রেড পর্যায়ে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং ১৭-২০ গ্রেড পর্যায়ে ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি পদ। এ বাইরে শ্রেণিতে আরও ৮ হাজার ১৩৬টি পদ খালি রয়েছে। গ্রেড ১৩-২০ পর্যায়ে সবচেয়ে বড় ঘাটতি রয়েছে। এসব গ্রেড মাঠপর্যায়ের সেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।
প্রতিমন্ত্রী
জানিয়েছেন, সরকার শূন্য পদ পূরণ ও
কর্মসংস্থান সৃষ্টি বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে বর্তমান সরকার। সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যমান শূন্য পদে নিয়োগের দীর্ঘসূত্রতা কমাতে কার্যকর উপায়ও খুঁজে দেখা হচ্ছে। স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে
৫ লাখ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
ওদিকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০১০ থেকে ২০১৭ সাল পর্যন্ত প্রতি বছরই শূন্যপদের সংখ্যা বেড়েছে। ২০১০ সালে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৬৬৭টি, ২০১১ সালে ২ লাখ ৫৪ হাজার ২০৫টি, ২০১২ সালে ২ লাখ ৭৫ হাজার ৯৬৪টি, ২০১৩ সালে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৫৮৭টি, ২০১৪ সালে ৩ লাখ ২ হাজার ৯০৪টি, ২০১৫ সালে ৩ লাখ ২৮ হাজার ৩১১টি, ২০১৬ সালে ৩ লাখ ৫৯ হাজার ২৬১ এবং ২০১৭ সালে ৩ লাখ ৯৯ হাজার ৮৯৭টি, ২০১৮ সালে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৪৭টি, ২০১৯ সালে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ৩৩৮টি, ২০২০ সালে ৩ লাখ ৮০ হাজার ৯৫৫ এবং ২০২১ সালে ৩ লাখ ৫৮ হাজার ১২৫টি, ২০২২ সালে ৪ লাখ ৮৯ হাজার ৯৭৬টি এবং ২০২৩ সালে ৪ লাখ ৭৩ হাজার একটি পদ ফাঁকা ছিল।
পরিসংখ্যান
ব্যুরোর (বিবিএস) ত্রৈমাসিক শ্রমশক্তি জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার
কারণে বেকারত্বের হার সর্বোচ্চ
পর্যায়ে ঠেকেছে। গত অর্থবছরের অক্টোবর-ডিসেম্বর প্রান্তিকে বেকারত্বের হার বেড়ে ৪ দশমিক ৬৩
শতাংশে পৌঁছেছে। এর আগের বছর
একই সময়ে ছিল ৩ দশমিক ৯৫
শতাংশ।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে