রেলওয়ের লোকসান ১৮৮৯ কোটি টাকা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ জুলাই ২০২৬


দেশে রাষ্ট্রীয় গণপরিবহন ব্যবস্থার অন্যতম খাত রেলওয়ের মোট লোকসানের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে হাজার ৮৮৯ কোটি ৬২ লাখ টাকা। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে  মোট হাজার ৬৬ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আয় করলেও এর বিপরীতে পরিচালন ব্যয় হয়েছে হাজার ৯৫৫ কোটি টাকা। যদিও গেলো অর্থবছরে রেলওয়ের আয় তার আগের অর্থবছরের তুলনায় ২২১ কোটি টাকা বেড়েছে। বাংলাদেশ রেলওয়ের  পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে তথ্য জানানো হয়েছে।

 

বিজ্ঞপ্তির তথ্যানুযায়ী,  নানা প্রতিকূলতা মধ্যেও বিভিন্ন উদ্যোগ প্রচেষ্টার ফলে গেলো গত অর্থবছরে রেলওয়ের আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি আয় বেড়েছে যাত্রীসেবা খাতে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের তুলনায় গত অর্থবছরে যাত্রী খাতে আয় বেড়েছে ২৫৬ কোটি টাকা। তবে  মালামাল পরিবহন খাতে আয় কমেছে কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর অন্যতম কারণ ইঞ্জিনের অভাব। ছাড়া ভূ-সম্পত্তি খাতে কোটি টাকা এবং রেলওয়ের অপটিক্যাল ফাইবার লিজ থেকে ১১ কোটি ৫২ লাখ টাকা বেশি আয় হয়েছে। তবে পরিবহন বাণিজ্যিক খাতে ভেন্ডিং লাইসেন্স এবং বিবিধ উৎস থেকে প্রায় ২৪ কোটি ৩৪ লাখ টাকা আয় কমেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আয় ব্যয়ের অনুপাত দাঁড়িয়েছে দশমিক ৯১। এ অনুপাত আগের অর্থবছরে ছিল দশমিক ০৯। রেলওয়ের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে বেতন-ভাতা, পেনশন, রেলপথ রোলিং স্টকের রক্ষণাবেক্ষণসহ বিভিন্ন খাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

রেলের হিসাবে, প্রতিবছর পেনশন খাতে ব্যয় হয়  প্রায় হাজার কোটি টাকা।  এটা পরিচালন ব্যয়ের সঙ্গে যুক্ত করাকে সমীচীন মনে করে না তারা। ব্যয় বাদ দিলে অপারেটিং অনুপাত দাঁড়ায় দশমিক ৪৩। পেনশন ব্যতীতও রেলের আয়-ব্যয়ের ঘাটতি থাকে ৮৮৮ কোটি ৬২ লাখ টাকা।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো, রেলওয়ের ভাড়া রেয়াতি হারে নির্ধারিত। ২০১৬ সালের পর থেকে পর্যন্ত ভাড়া বৃদ্ধি করা হয়নি। কিন্তু সময়ে রেলওয়ের রক্ষণাবেক্ষণ কাজে ব্যবহৃত মালামাল, বিদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্য, ডলার রেটের কারণে ব্যয়, কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন এবং জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে অন্যান্য পরিবহন মাধ্যম বাজারমূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রেলভাড়া যৌক্তিক হারে নির্ধারণ করা হলে আয় ব্যয়ের পার্থক্য অনেক কমে আসবে।  সব বিবেচনায় রেলওয়েকে লোকসানি প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করা সমীচীন নয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর