৯৭৩ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে জালিয়াতির ঘটনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
০২ মার্চ ২০২৬


দেশের ৯৭৩টি স্কুল, কলেজ মাদ্রাসায়  জনবল নিয়োগের ক্ষেত্রে  জাল সনদ ব্যবহারসহ জালিয়াতির আশ্রয় গ্রহণ করা হয়েছে। ভুয়া সনদে শিক্ষকতা এবং নিয়মবহির্ভূত নিয়োগের মাধ্যমে প্রায় ৯০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।  সেই সঙ্গে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের হাতছাড়া হয়ে গেছে প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমি। শিক্ষা খাতে অনিয়ম, জালিয়াতি দখলদারিত্বের নজিরবিহীন এ চিত্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিদর্শন নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) সর্বশেষ তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। এদিকে ভয়ংকর দুর্নীতি ধরা পড়ায় এখন সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান অভিযুক্তদের বিপুল অংকের আর্থিক দণ্ড জরিমানার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। প্রতিবেদনে জালিয়াতির মাধ্যমে আত্মসাৎ করা অর্থ এবং বকেয়া ভ্যাট-ট্যাক্সসহ মোট ৮৯ কোটি ৮২ লাখ ২৫ হাজার ৬০৭ টাকা সরকারি কোষাগারে দ্রুত  ফেরত দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাতছাড়া হয়ে যাওয়া প্রায় ১৭৬ একরের বেশি জমিও পুনরুদ্ধারের তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, এসব প্রতিষ্ঠান মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা এবং কারিগরি মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে। গত বছরের জুলাই থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে বিশেষ পরিদর্শন নিরীক্ষা চালানো হয়।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে জাল ভুয়া সনদ ব্যবহার করে শিক্ষকতা করা, অগ্রহণযোগ্য সনদে এবং সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। পরস্পরের যোগসাজশে   অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান পরিচালনা পর্ষদ সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন। এছাড়া ভ্যাট আয়কর ফাঁকি দেওয়ার মতো গুরুতর আর্থিক অনিয়মও করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি ইতোমধ্যে ডি-নথি -মেইলের মাধ্যমে মাধ্যমিক উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর, সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বোর্ড এবং জাতীয় ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান এবং পরিচালনা পর্ষদ সভাপতির ব্যানবেইস পোর্টালে দেওয়া -মেইলেও প্রতিবেদনটি পাঠানো হয়েছে।

পরিদর্শন নিরীক্ষা অধিদপ্তরের (ডিআইএ) পরিচালক অধ্যাপক এম এম সহিদুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন  ৯৭৩টি প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ জালিয়াতি জাল সনদের মতো গুরুতর অনিয়ম পেয়েছি, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জালিয়াতির মাধ্যমে শিক্ষকতা বা অর্থ আত্মসাতের দিন শেষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শৃঙ্খলা ফেরাতেজিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। প্রায় ৯০ কোটি টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত এবং ১৭৬ একর জমি উদ্ধারের সুপারিশ করা হয়েছে।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর