পাবনার চাটমোহরে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি ও স্কুলশিক্ষক মাওলানা. মো. হাবিবুর রহমানকে মারধর করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভবনে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় কয়েকটি হাটের ইজারা দরপত্র দাখিলকারী সংশ্লিষ্টদের পক্ষের লোকজন এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে। যদিও হাবিবুর রহমান সম্পূর্ণ অন্য একটি কাজে একজনকে সহযোগিতা করতে নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে গিয়েছিলেন।
জানা গেছে, স্থানীয় বিভিন্ন হাটের ইজারার দরপত্র দাখিলের শেষ দিন ছিলো বৃহস্পতিবার। এ নিয়ে সকাল থেকেই উপজেলা চত্বরে অনেক লোকের সমাগম ঘটে। অসমর্থিত সূত্রের ভাষ্যমতে, কয়েকটি হাটের ইজারার দরপত্র সমঝোতার মাধ্যমে ঠিক করা হয়। এসব হাটের ক্ষেত্রে অন্য কেউ যেন নতুন করে দরপত্র দাখিল করতে না পারে, সে জন্য ওইসব লোক জড়ো হয়।
এদিকে চরপাড়া এলাকার একজনকে সহযোগিতা করতে তার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান জামায়াতের সেক্রেটারি হাবিবুর রহমান। সেখানে কাজ সেরে তিনি নির্বাহী কর্মকর্তার কক্ষের পাশের কক্ষে পরিচিত দুজনের সঙ্গে কথা বলেন।
ওদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে ইজারার দরপত্র দাখিল করতে আসেন ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি, সেক্রেটারিসহ আরও কয়েকজন। তিনি দরপত্র দাখিল করার পরই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় প্রথমে ছাইকোলা ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতিসহ তার সঙ্গীদের ওপর হামলা করা হয়। পড়ে হাবিবুর রহমানকে ধরে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের ভবনের সিঁড়িতে মারধর করা হয়।
উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি মাও. হাবিবুর রহমান জানান, টেন্ডারের সঙ্গে আমার কোনো ধরণের সম্পৃক্ততা নেই। এটা নিয়ে আমি ইউএনও’র কাছে যাইওনি। আমি গিয়েছিলাম আমার এলাকার একজনকে সহযোগিতা করতে।
এ বিষয়ে চাটমোহর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) গোলাম সরোয়ার হোসেন জানান, এ ঘটনায় এখনো কেউ অভিযোগ করেনি।
পাবনা-৩ আসনের নবনির্বাচিত সদস্য সদস্য মাও. আলী আছগার বলেন, হাবিবুর রহমান প্রথমত একজন মানুষ গড়ার কারিগর। তার ওপর যারা হামলা করেছেন, তারা তার ছাত্রেরও ছাত্র বয়সী। তাদের ন্যাক্কারজনক এ আচরণ জাতি আশা করে না। তিনি বলেন, তারা সরকারি দলের। সরকারি দল করে তারা। আইন শৃঙ্খলা যাতে ঠিক থাকে, এটা মূলত তাদেরই দায়িত্ব-কর্তব্যের মধ্যে পড়ে।
এমপি আরও বলেন, আমি মনে করি সরকারি দলের কিছু ভাইদের পক্ষ থেকে এ ধরণের একটি উচ্ছৃঙ্খল আচরণ, এটা অন্ত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। আমি এটার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
তিনি বলেন, যেহেতু ইউএনও মহোদয়ের অফিসের সামনে এটা ঘটেছে; সেখানে সিসি ক্যামেরা আছে। ক্যামেরার ফুটেজগুলো দেখে এটার একটা ব্যবস্থা হওয়ার দরকার। আমি এ ব্যাপারে প্রশাসনকে বলবো... ।
ওদিকে হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার প্রতিবাদে উপজেলা চত্বরে বিক্ষোভ মিছিলে করেছে উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা। বিক্ষোভ মিছিলে টেন্ডারবাজ ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে স্লোগান দেন তারা। সেই সঙ্গে এ হামলার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে