বড় অংকের অর্থ লোপাট

সম্রাট হোসাইন, পঞ্চগড়
২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬


পঞ্চগড়ের বোদা, দেবীগঞ্জ আটোয়ারী উপজেলায় ভোটকেন্দ্রে নিম্নমানের সিসি ক্যামেরা, মনিটরসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়ে বড় অংকের অর্থ লোপাট করা হয়েছে। এ নিয়ে যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভোটকেন্দ্র ছিল, সেসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের মতে, ভোটকেন্দ্রে কোনো ঝামেলা হলে এ সিসি ক্যামেরা দিয়ে অভিযুক্তদের সনাক্ত করতে পারতেন না সংশ্লিষ্টরা। তবে সংশ্লিষ্ট সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা বলেছেন, নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা হয়েছে। অনিয়মের কোন সুযোগ নেই।

নির্বাচন কমিশনের তথ্যানুযায়ী, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বোদায় ৬১টি, দেবীগঞ্জে ৬৭ এবং আটোয়ারী উপজেলার ৩৯ টি ঝুঁকিপূর্ণ ভোটকেন্দ্র ছিল। এসব কেন্দ্রের প্রতিটিতে টি করে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩২ হাজার ৮০০ টাকা।

সরজমিনে বোদা উপজেলার নতুন বন্দর বেংহারি উচ্চ বিদ্যালয়, বেংহারি মৌলভী পাড়া দারুচ্ছালাম কওমি মাদ্রাসা, দেবিগঞ্জ উপজেলার শালডাঙ্গা দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, মারেয়া সিংরোড দাখিল মাদ্রাসা, খেলারাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর উচ্চ বিদ্যালয়, চুচুলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চুচুলি বটতলী হাট উচ্চ বিদ্যালয়, দুহসুহ দাখিল মাদ্রাসা ঘুরে দেখা যায়, ইউএনভি নামের মেগা পিক্সেল ক্যামেরা ইসোনিক নামের ১৭ ইঞ্চি মনিটর স্থাপন করা হয়েছে এসব ভোটকেন্দ্রে। ক্যামেরার অনলাইন বাজার মূল্য ৭৫০ টাকা। অথচ দেখানো হয়েছে হাজার ২০০ থেকে হাজার ৩০০ টাকা। মনিটরের দাম হাজার ৩৭০ টাকা। মনিটরের কনট্রাস্ট রেসিও ছিল ৪০০: এবং রেজুলেশন ১২৮০*১০২৪পিক্সেল। স্থাপন করার নির্দেশনা রয়েছে ১৮ দশমিক ইঞ্চি মনিটর। যার রেজুলেশন ১৩৬৬ * ৭৬৮, কনট্রাস্ট রেসিও ১০০০:১।

শিক্ষক কর্মচারীদের ভাষ্য, কোনমতে সিসি ক্যামেরা মনিটর স্থাপন করে ভোট শেষ করেছে কর্তৃপক্ষ। ভোটকেন্দ্রে কোন ঝামেলা হলে মানুষ সনাক্ত করতে পারতেন না তারা। এ ক্যামের দিয়ে ক্লাসরুমে থাকা শিক্ষার্থীদের চেনা যাচ্ছে না মনিটরে। বিজয়কুমার রায়,হিমেল সিরাজুল ইসলাম বলেন, মনিটরে পরিস্কার দেখা যায় না। একটু সাইডে গেলে ছবি নেগেটিভ দেখা যায়।

সিসি ক্যামেরা দামের বিষয়ে স্থাপনকারী বোদা এবেল ফ্যাসিলিটিস ম্যানেজমেন্টের বাপ্পির সাথে সাক্ষাৎ মুঠোফোনে বার বার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

বোদা উপজেলার নির্বাহী অফিসার রবিউল ইসলাম দেবীগঞ্জ উপজেলার নির্বাহী অফিসার মাহমুদুল হাসান বলেন, যখন নির্বাচন কমিশন ক্যামেরা স্থাপনের কথা বলেছে, তখন প্রাক্কলনে যেটা ধরা ছিল। সারাদেশে ক্যামেরা মনিটরের দাম বেড়ে গেছে। তারপরও আমরা ভালো মানের ক্যামেরা স্থাপন করেছি। মনিটরের কথা মন্তব্য কলামে বলা ছিল, টাকায় না হলে মনিটরের পিক্সেল ঠিক রেখে নিতে।

আটোয়ারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিপামনি দেবি বলেন, কমিশনের চাহিদা অনুযায়ী সবকিছুই হয়েছে। তবে মনিটরের পিক্সেল ঠিক রেখে ১৭" নিয়েছি। না হলে অতিরিক্ত বরাদ্দ লাগবে। যে অর্থ পাওয়া গেছে উপজেলার হিসাব নম্বরে না নিয়ে সরাসরি ক্যামেরা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠানকে পরিশোধ করা হয়েছে। তারপরও যদি ক্যামেরা স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান কোন অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে জেলার পঞ্চগড় সদর তেঁতুলিয়া উপজেলায় একই বরাদ্দে ডাহুয়া নামের / মেগা পিক্সেল ক্যামেরা ১৯ ইঞ্চি মনিটর নির্বাচনী কেন্দ্রে স্থাপন করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র জানিয়েছেন।

 

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর