দেশে সড়ক ও সড়ক পরিবহন খাতে অব্যবস্থাপনা ও ট্রাফিক আইন বিষয়ে অসচেতনতার কারণে উদ্বেগজনক হারে পথে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে শিশুরা। গত বছরে সারা দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় মোট ১ হাজার ৮ জন শিশু নিহত হয়েছে। এদের মধ্যে বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী, চালক বা হেলপার হিসেবে ৫৩৭ শিশু নিহত হয়েছে। বাকি ৪৭১ শিশু পথচারী হিসেবে বিভিন্ন যানবাহনের চাপা বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে। নিহত শিশুদের বয়স ১ মাস থেকে ১৭ বছরের মধ্যে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। দৈনিক, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে এ পরিসংখ্যান পেয়েছে তারা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে এবং বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলাধুলার সময় দুর্ঘটনায় শিশু নিহতের ঘটনা বেশি ঘটছে। গ্রামীণ সড়কগুলো বসতবাড়ি ঘেঁষা হওয়ায় পথচারী হিসেবে শিশুরা সবচেয়ে বেশি হতাহত হচ্ছে গ্রামীণ সড়কে।
নিহত শিশুদের মধ্যে বেশি দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে আঞ্চলিক সড়কে। আঞ্চলিক সড়কে ৩৬৪ শিশু নিহত হয়েছে দুর্ঘটনায়। এছাড়া মহাসড়কে ২৮১, গ্রামীণ সড়কে ২৯১ এবং শহরের সড়কে ৭২ শিশু নিহত হয়েছে। ১ মাস থেকে ৫ বছর বয়সী নিহত শিশুর সংখ্যা ১৭৯ জন, ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ৩৮২ জন এবং ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৪৪৭ জন।
সড়ক ব্যবহারে শিশুদের সচেতনতার অভাব, পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সড়ক ব্যবহার বিষয়ে পর্যাপ্ত পরামর্শ ও প্রশিক্ষণ না থাকা, অদক্ষ ও অপ্রাপ্তবয়স্ক চালকদের দ্বারা যানবাহন চালানো, সড়ক ও সড়ক পরিবহন ব্যবস্থা শিশুদের জন্য নিরাপদ না হওয়া, দুর্ঘটনায় আহত শিশুদের উপযুক্ত চিকিৎসা ব্যবস্থার সংকট এবং চিকিৎসা ব্যয়ে পরিবারের আর্থিক অসচ্ছলতা- দুর্ঘটনায় এসব শিশু মৃত্যুর হার বৃদ্ধির কারণ বলে মনে করছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। এসব থেকে বের হয়ে আসতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, আহতদের চিকিৎসায় বিশেষ সরকারি তহবিল গঠন এবং সড়ক পরিবহন আইন কঠোরভাবে বাস্তবায়নের কথা বলছে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে আরও জানানো হয়, গ্রামীন সড়কে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবস্থাপনায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতি থাকে না। ফলে যানবাহন বেপরোয়াভাবে চলাচল করে। অন্যদিকে শিশুরাও সড়ক ব্যবহারের নিয়মকানুন সম্পর্কে তেমনটা জানে না। এ অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়েই শিশুরা নিহত ও পঙ্গু হচ্ছে, যা জাতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। কেননা প্রতিটি শিশুই সম্ভাবনাময় এবং দেশের ভবিষ্যৎ।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে