নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও পরিকল্পিত

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৩ জানুয়ারী ২০২৬

২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং বাকি ১৪৭টিতেপ্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো পরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। এ নির্বাচন সারা বিশ্বে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন হিসেবে সমালোচিত হয়। তাই ২০১৮ সালের নির্বাচনকেপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক করার মিশন গ্রহণ করে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ। সে সময় তাদের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা বুঝতে না পেরে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করে বিএনপিসহ অন্যান্য বিরোধী দল।  এ নির্বাচনে ৮০ শতাংশ কেন্দ্রে রাতের বেলায় ব্যালট পেপারে সিল মেরে আওয়ামী লীগের বিজয় নিশ্চিত করে রাখা হয়। অন্যদিকে, ২০২৪ সালে বিএনপিসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায়ডামি প্রার্থী দাঁড় করিয়ে নির্বাচনকেপ্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক দেখানোর অপকৌশল গ্রহণ করা হয়।

এসব তথ্য উঠে এসেছে জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে।  সোমবার (১২ জানুয়ারি) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে এ প্রতিবেদন জমা দিয়েছে কমিশন।

এদিকে প্রতিবেদন গ্রহণকালে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশের টাকা খরচ করে এবং মানুষের টাকায় নির্বাচন আয়োজন করে পুরো জাতিকেই শাস্তি দেওয়া হয়েছে। সে সময় এ দেশের মানুষ  অসহায়ের মতো তাকিয়ে ছিল, কিছুই করতে পারেনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, এত নির্লজ্জভাবে পুরো প্রক্রিয়াকে বিকৃত করে, সিস্টেমকে দুমড়ে-মুচড়ে ফেলে নিজেদের মনের মতো একটা কাগজে রায় লিখে দেওয়ার বিষয়গুলো জাতির সামনে তুলে ধরা দরকার। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িতদের চেহারা জাতির সামনে নিয়ে আসতে হবে। কারা, কীভাবে করল সেটা জনসমক্ষে আসা জরুরি। এসবের পুরো রেকর্ড থাকা প্রয়োজন। আগামীতে নির্বাচন ডাকাতি যেন আর কখনো না ঘটতে পারে, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর তদন্তের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করেন কমিশনের সদস্যরা। সময় কমিশন প্রধান সাবেক বিচারপতি শামীম হাসনাইন, সদস্য শামীম আল মামুন, কাজী মাহফুজুল হক সুপণ, ব্যারিস্টার তাজরিয়ান আকরাম হোসেন, . মো. আব্দুল আলীম। উপদেষ্টাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, শিল্প উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী  উপস্থিত ছিলেন।

 

তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮ সালের নির্বাচনে  আওয়ামী লীগকে জেতাতে প্রশাসনের কর্মকর্তাদের মধ্যে এক ধরনেরঅসৎ প্রতিদ্বন্দ্বিতা কাজ করে। ফলে কোনো কোনো কেন্দ্রে ভোট প্রদানের হার ১০০ শতাংশও ছাড়িয়ে যায়।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়,  বিগত ৩ টি নির্বাচনে অভিনব জালিয়াতির পরিকল্পনা রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্তে হয়। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে প্রশাসন, পুলিশ, নির্বাচন কমিশন গোয়েন্দা সংস্থার একটি অংশকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ব্যবহার করা হয়।নির্বাচন সেল নামে কিছু কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছিল। এ সময়ে নির্বাচন ব্যবস্থাকে নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকে  প্রশাসনের হাতে নিয়ে যাওয়া হয়। কমিশনের পরিবর্তে প্রশাসনই হয়ে ওঠে নির্বাচন পরিচালনার মূল শক্তি।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর