সৎ মা ছেড়ে ভালোবাসার সংসারে, আঁখির স্বপ্ন এখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

সাজেদুর রহমান সাজ্জাদ, গুরুদাসপুর
০৩ নভেম্বর ২০২৬


আঁখির জন্মের দুই বছরের মাথায় তার মানসিক প্রতিবন্ধি মায়ের সঙ্গে ডিভোর্স হয় তার বাবার। এরপর বাবা বিয়ে করেন আবার। ফলে সৎ মায়ের সংসারে দাদির তত্ববধানে জীবন সংগ্রাম শুরু হয় তার। দাদির আগ্রহে ও সহযোগিতায় পড়ালেখা শুরু করে সে। তার মেধা ফুটে ওঠে এসএসসিতে,  বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এ পরীক্ষায় ১১৭৫ নম্বর নিয়ে কলেজে ভর্তি হয় সে।

কলেজ জীবনে তরুণী মনে উঁকি দেয় প্রেম। ভালোবেসে বিয়ে করে প্রেমিককে। এরপর সংসার জীবনেও শশুর-শাশুড়ি ও স্বামীর আগ্রহে পড়ালেখা চালিয়ে যেতে থাকে  আঁখি। গর্ভবতী অবস্থায় উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অংশ নেয় সে। এ পরীক্ষাতেও মেধার স্বাক্ষর রাখে সে।

চলতি বছরে উচ্চ মাধ্যমিকের ফলে গোল্ডেন জিপিএ- ৫  পেয়ে আঁখি হয়েছেন উপজেলা সেরা। আঁখি পাবনার চাটমোহর উপজেলার ছাইকোলা গ্রামের আকমল হোসেন ও মধু খাতুন দম্পতির সন্তান। সে ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজ থেকে এবছর উচ্চ মাধ্যমিক পরিক্ষায় অংশ নেয়। মানবিক বিভাগ থেকে  তার প্রাপ্ত নম্বর ১০৯১।

আঁখির এ সাফল্যে আনন্দিত তার পরিবার, শিক্ষক ও সহপাঠীরা। তবে শুধু ভালো ফলাফল অর্জনেই থেমে থাকতে চায় না সে। ভবিষ্যতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ালেখার স্বপ্ন তার। পড়ালেখা শেষে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে যোগদানের মাধ্যমে দেশ ও মানুষের সেবা করার স্বপ্ন দেখেন আঁখি। তবে তার প্রথম পছন্দ বিচার বিভাগ। এ স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া চেয়েছেন মেধাবী এই শিক্ষার্থী।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আঁখি বলেন, “আমার লেখাপড়ায় বড় অবদান দাদির। তার পাশাপাশি মা-বাবা,স্বামী,শশুর-শাশুড়ি ও শিক্ষকদের অবদান অপরিসীম। তারা সবসময় আমাকে উৎসাহ ও সহযোগিতা করেছেন। আমার আগামীর স্বপ্ন পূরণে সবার দোয়া চাই।”

আঁখির ভালো ফলাফলে শাশুড়ি রওশনারা খাতুন বলেন, “আমার বউমা অনেক পরিশ্রমি। সংসার সামলিয়ে সে প্রতিদিন নিয়মিত ৭ থেকে ৮ ঘন্টা লেখা পড়া করেছে। লেখাপড়া চালিয়ে যেতে পরিবার থেকে সবধরনের সহযোগীতা অব্যাহত থাকবে।

ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “ সদ্য প্রকাশিত ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও তার কলেজ উপজেলায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে। এ কলেজ থেকে আঁখি খাতুন, উম্মুল খাইর সাফিয়া, মোছা. তামিম সরকারসহ ৩ জন জিপিএ ৫ পেয়েছে। এ অর্জনে আমরা আনন্দিত ও গর্বিত।”

আঁখির এ সাফল্যে গর্বিত ছাইকোলা ডিগ্রি কলেজের গভর্নিংবডি,শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ এলাকাবাসী। তার এই অর্জন এলাকার অন্য শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রণিত করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে

 


মন্তব্য
জেলার খবর