ধর্ষণ ও শিশু সহিংসতার ঘটনা উদ্বেগের

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬


জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত চলতি বছরের মাসে দেশে নারী ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪০০টি। একই সময়ে শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে ৬০৬টি । জেন্ডারভিত্তিক সহিংসতার শিকার নারীদের জন্য দেশে ৯৫টি ওসিসি (ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার) এবং সেল থাকলেও সব কেন্দ্রে চিকিৎসা, ফরেনসিক, আইনগত মনোসামাজিক সহায়তা এবং পুনর্বাসনের সমন্বিত সেবা নিশ্চিত করা যায়নি। তাছাড়া নারী শিশু সুরক্ষায় সরকারি-বেসরকারি নানা ধরনের সেবা সহায়তা চালু থাকলেও এসব সেবার মধ্যে সমন্বয় থেকে শুরু করে সহজে প্রবেশাধিকার এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনে ঘাটতি রয়েছে। বিশেষ করে আইনগত সহায়তা সুরক্ষা সেবা সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য না জানায় গ্রাম প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক মানুষ  প্রয়োজনের সময় এসব সেবা নিতে পারছেন না।

বুধবার ( ১৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানী ঢাকার সিরডাপ মিলনায়তনে এক সংলাপে এসব বিষয় উঠে আসে। এ সংলাপের আয়োজন করে  আইন সালিশ কেন্দ্র (আসক)

আসকের নির্বাহী পরিচালক তাহমিনা রহমান জানান, এ ৭ মাসে নারী ধর্ষণের  ৪০০টি ঘটনার পাশাপাশি ধর্ষণের পর হত্যা ৩৭টি এবং ধর্ষণচেষ্টার ১৫২টি ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।  শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতার নথিভুক্ত  ৬০৬টি ঘটনার মধ্যে ২৪১টি ধর্ষণ ২১৩টি শিশু হত্যার ঘটনা রয়েছে। নারী কিশোরীদের যৌন হয়রানি উত্ত্যক্তের ঘটনাও ঘটেছে ১৯১টি।

আসকের নির্বাহী পরিচালক আরও জানান, মানব পাচারের পরিস্থিতিও উদ্বেগজনক। গতবছরে -সংক্রান্ত মামলা হয়েছে হাজার ১২৬টি। চলতি বছরে মে পর্যন্ত বিচারাধীন বা তদন্তাধীন মামলা ছিল হাজার ২৮৪টি।

সংলাপে বলা হয়২০০৯ সাল থেকে আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত সময়ে সব মিলে ১৮ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯ জন আইনগত সহায়তা সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট আইনগত সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে ৩১ হাজার ২২২ জন এবং দেশের ৬৪টি জেলা আইনগত সহায়তা কার্যালয়ের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৩৩ হাজার ৭৭৭ জন সেবা পেয়েছেন।

আইনগত সহায়তার আবেদন প্রক্রিয়া অনেক ক্ষেত্রে জটিল সময়সাপেক্ষ বলেও জানানো হয়। এ প্রসঙ্গে বলা হয়, একাধিক অনুমোদনের ধাপ, নিয়মিত সভা না হওয়া এবং আবেদন প্রত্যাখ্যাত হলে আপিলের জটিলতার কারণে সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়। অস্বচ্ছল বিচারপ্রার্থীদের জন্য এই ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ৯৫টি ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) সেল প্রসঙ্গে বলা হয়,  অনেক কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা সেবা, নির্দিষ্ট ডায়াগনস্টিক ল্যাব পৃথক কাউন্সেলিংয়ের স্থানও পর্যাপ্ত নয়।

বাংলাদেশ আইনগত সহায়তা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত জেলা দায়রা জজ রেজমিন সুলতানা বলেন, নারী, শিশু প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার লঙ্ঘিত না হওয়াই প্রকৃত সুরক্ষা। অধিকার লঙ্ঘিত হলে দ্রুত প্রতিকার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

সংলাপে জিএফএ কনসাল্টিং গ্রুপের নাগরিকতা, সিভিক এনগেজমেন্ট ফান্ড প্রকল্পের ডেপুটি টিম লিডার ক্যাটরিনা কইনিগ, উইমেন সাপোর্ট অ্যান্ড ইনভেস্টিগেশন বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার লিজা বেগম, মহিলা শিশু বিষয়ক অধিদপ্তরের আইন কর্মকর্তা আইভি আক্তার, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ওসিসির কোঅর্ডিনেটর ডা. তাইয়েবা সুলতানা এবং নারীপক্ষের প্রোগ্রাম ম্যানেজার কামরুন্নাহারসহ অনেকে বক্তব্য দেন। সংলাপে নারী, শিশু, যুব প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য সেবা আরো সহজলভ্য সমন্বিত করার বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর