অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রিফিল না করেই ভুয়া স্টিকার লাগিয়ে প্রতারণার অভিযোগে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন অফিসার কামরুজ্জামান সুমনকে কক্সবাজারের টেকনাফে তাৎক্ষণিক বদলি করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনা তদন্তে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি। তদন্তে নামার পরপরই অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
মোহনগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস স্টেশন সূত্র জানায়, মূল কর্মস্থল খালিয়াজুরী হলেও অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বিগত ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে মোহনগঞ্জ স্টেশনের দায়িত্বে ছিলেন কামরুজ্জামান সুমন। অভিযোগ অনুযায়ী, স্থানীয় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে ফায়ার এক্সটিংগুইশার সংগ্রহ করে ড্রাই কেমিক্যাল পাউডার না বদলে কেবল যন্ত্রগুলো পরিষ্কার করা হতো। এরপর ময়মনসিংহের ‘দ্য সেফ মার্ট’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের নকল স্টিকার লাগিয়ে রিফিল ও মেয়াদ বাড়িয়ে সিল দেওয়া হতো। যন্ত্রপ্রতি ১০০০ থেকে ১৫০০ টাকা নেওয়া হলেও দেওয়া হতো না কোনো বিক্রয় রশিদ। এমনকি কিছু যন্ত্রে রিফিলকারীর কোনো স্বাক্ষরও খুঁজে পাওয়া যায়নি ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, স্থানীয় একটি ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেস থেকে এই নকল স্টিকারগুলো ছাপানো হতো। এলাকা দুটিতে এই ধরনের প্রায় ৫০০এর অধিক ফায়ার এক্সটিংগুইশার রয়েছে বলে জানা গেছে।
নেত্রকোনা
ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেন জানান,বিভিন্ন গণমাধ্যমে
খবর প্রকাশের পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের
নির্দেশে তিনি সরজমিনে মোহনগঞ্জের বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন ও মালিকদের সঙ্গে
কথা বলেন। এতে প্রতারণার প্রাথমিক শতভাগ সত্যতা মেলে। বিষয়টি সদর দপ্তরকে জানানো হলে গত গত ৯
সেপ্টেম্বর বুধবার অভিযুক্ত কর্মকর্তা সুমনকে টেকনাফে বদলি করা হয়।
উপসহকারী পরিচালক আরও জানান, ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে অন্য জেলার কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে তিন সদস্যের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে