আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা গ্যাস সংকট

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৫ অগাস্ট ২০২৬


গত সপ্তাহ  ধরে স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৬০ শতাংশ গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছিল মহেশখালীর দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল থেকে। পেট্রোবাংলার টার্মিনালটি পুরোপুরি চালু হওয়ার আগেই সামিটের টার্মিনালটি থেকে দিন ধরে  কমিয়ে দিতে হচ্ছিল সরবরাহ। এর মধ্যেই বৈরী আবহাওয়ার কারণে সামিটের টার্মিনালটি থেকেও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করা হয়েছে। ফলে  আরো কমতে যাচ্ছে শিল্পে বিদ্যুতে গ্যাস সরবরাহ। এতে লোডশেডিং বৃদ্ধি এবং  সব শ্রেণির গ্যাসের গ্রাহকদের ভোগান্তি আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।  এমন পরিস্থিতিতে দেশ জুড়ে চলমান গ্যাস বিদ্যুতের তীব্র সংকট কাটতে  অন্তত এক সপ্তাহ লাগতে পারে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।

 

জানা গেছে, এলএনজি টার্মিনালের সমস্যা দূর, কয়লা তেল আমদানি বৃদ্ধি করে উৎপাদন বাড়ানোর জন্য পদক্ষেপগুলো পরিণতির দিকে নেওয়া হচ্ছে। পেট্রোবাংলা সামিটের টার্মিনাল থেকে পুরোপুরি গ্যাস পেতে এক সপ্তাহ লাগবে। এরপর  সংকট অনেকটা কেটে যাবে।

এদিকে জাতীয় গ্রিডের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার বিকাল ৩টায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ২৩৭ মেগাওয়াট। উত্পাদন সরবরাহ হয় ১৩ হাজার ৮৫৫ মেগাওয়াট। তার আগে মঙ্গলবার রাত ১২টায় লোডশেডিং ছিল হাজার ৫৯২ মেগাওয়াট। সোমবার ঘাটতি ছিল সর্বোচ্চ হাজার ৫৩৭ মেগাওয়াট। রোববার লোডশেডিং এর থেকেও বেড়ে রাত ১টায়   হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াটে উঠেছিল। গত বছর সময়ে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। এবার সেটা বেড়ে ১৮ থেকে ১৯ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উঠছে। এমনি পরিস্থিতিতে গ্যাসের অভাবে গ্রিডের বিদ্যুৎ ব্যবহার করছে  শিল্পকারখানা। আবার বাসাবাড়িতেও  ব্যবহার বেড়েছে বৈদ্যুতিক চুলার।

 

সংকটের বড় কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ার কথা বলেছেন। জানিয়েছেন, সামিটের টার্মিনালে বৈরী আবহাওয়ার কারণে নতুন কার্গো খালাস করা যাচ্ছে না। সেখান থেকে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ নেমে গেছে প্রায় ২০ কোটি ঘনফুটে  আবর পেট্রোবাংলার টার্মিনালও বয়লার সমস্যায় মিলছে ২০ থেকে ২২ কোটি ঘনফুট। স্বাভাবিক সময়ে টার্মিনালটি ৫০-৫৫ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করতে পারে।  এখন দুই টার্মিনাল মিলিয়ে দৈনিক সরবরাহ করছে প্রায় ৪১ কোটি ঘনফুট। এলএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আগামী সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এদিকে গ্যাসের সবচেয়ে বড় ধাক্কা লেগেছে  বিদ্যুৎ খাতে। গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকন্দ্রের সক্ষমতা ১২ হাজার ৪৭২ মেগাওয়াট হলেও গ্যাসের অভাবে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র থেকে হাজার মেগাওয়াট। বিদ্যুৎকন্দ্রে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ২২০ কোটি ঘনফুট থাকলেও স্বাভাবিক সময়ে পাওয়া যায় ১০০ থেকে ১১০ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে চলমান সংকটে সেখান থেকে একপর্যায়ে ৭০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমেছিল। ওদিকে কয়লাভিত্তিক কেন্দ্রেও উত্পাদন কমেছে।  আবর ভারতের আদানি পাওয়ার থেকেও ৪০০ থেকে ৫০০ মেগাওয়াট কমে ৮০০ থেকে ৯০০ মেগাওয়াটে নেমেছে বিদ্যুৎ আমদানি। ১৫ আগস্টের পর সামিটের এলএনজি সরবরাহ বাড়লে পরিস্থিতির প্রথম উন্নতি দেখা যেতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।

এরপর পেট্রোবাংলার টার্মিনাল পূর্ণ সক্ষমতায় ফিরলে গ্যাসভিত্তিক উত্পাদন বাড়বে। তবে আবহাওয়া, এলএনজি খালাস মেরামত পরিকল্পনা অনুযায়ী না হলে সংকট আরো দীর্ঘ হতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 


মন্তব্য
জেলার খবর