টানা কয়েকদিন ধরে সারা দেশেই লোডশেডিং চলছে। লোডশেডিং হচ্ছে গ্রামাঞ্চলে সবচেয়ে বেশি। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। লোডশেডিংয়ে অতিষ্ঠ হয়ে বিদ্যুৎ অফিসে হামলার ঘটনাও ঘটেছে ইতোমধ্যে।
গ্যাস ঘাটতি, পায়রা ও আদানির কেন্দ্রে উৎপাদন হ্রাস এবং ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র পর্যাপ্ত পরিমাণে চালানোর মতো আর্থিক সক্ষমতা না থাকায় বিদ্যুতের উৎপাদন ও সরবরাহে বড় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় বৃষ্টি হওয়ার কারণে বিদ্যুতের চাহিদা কিছুটা কম থাকলেও গরম বাড়লে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি আরো নাজুক হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
পাওয়ার গ্রিড কোম্পানির (পিজিসিবি) হিসাবে, বিদ্যুতের ঘাটতির কারণে মঙ্গলবার রাত ১টায় দেশে সর্বোচ্চ ৩ হাজার ৭৫৭ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়েছে। এ সময় চাহিদা ছিল ১৬ হাজার ২৬২ মেগাওয়াট। বিপরীতে সরবরাহ করা হয় ১২ হাজার ৫০৫ মেগাওয়াট।
ওদিকে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে, সোমবার ২৪ ঘণ্টায় বিদ্যুতের গড় চাহিদা ছিল ১৭ হাজার ৪০৩ মেগাওয়াট। কিন্তু চাহিদার চেয়ে কম উৎপাদন থাকায় লোডশেডিং হয় ২৭২২ মেগাওয়াট। সবচেয়ে বেশি পরিমাণে (৫৪৭ মেগাওয়াট) লোডশেড হয় ঢাকা অঞ্চলে। ঘণ্টার বিচারে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয়েছে সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা অঞ্চলে। এর আগের দিন লোডশেডিং ছিল ৩ হাজার ৬৭১ মেগাওয়াট। ৩ আগস্ট সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছিল ৩ হাজার ৫১২ মেগাওয়াট।
তথ্যমতে সপ্তাহ তিনেক আগেও পরিস্থিতি এতটা নাজুক ছিল না। ২১ জুলাই মহেশখালীর ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে হঠাৎ দুর্ঘটনায় সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল ৪৮৮ মেগাওয়াট। সেই হিসেবে সর্বশেষ সর্বোচ্চ লোডশেডিং সাত গুণেরও বেশি হয়েছে।
বর্তমান সংকটের পেছনে কারণ হিসেবে জ্বালানি এবং টাকা ও ডলারের ঘাটতি রয়েছে। উৎপাদনকেন্দ্র থাকলেও চালানোর মতো পর্যাপ্ত গ্যাস, কয়লা ও তেল নেই। ব্যয়বহুল তেলচালিত কেন্দ্র বেশি সময় চালালে পিডিবির লোকসান ও সরকারের ভর্তুকি আরো বাড়বে। তাছাড়া দীর্ঘদিনের বকেয়ার কারণে বেসরকারি কেন্দ্রগুলোর জ্বালানি কেনার সক্ষমতাও চাপে পড়েছে। এর মধ্যেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলেও বিপুল বকেয়া পরিশোধ করতে পারছে না পিডিবি।
বকেয়া না পাওয়ায় অনেক বেসরকারি কেন্দ্র নতুন করে জ্বালানি কিনতে বেগ পোহাতে হচ্ছে। সীমিত জ্বালানি মজুত নিয়ে কোনো কোনো কেন্দ্র রাত পর্যন্ত উৎপাদন চালিয়ে পরে কমিয়ে দিচ্ছে। তবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পর থেকে বকেয়ার পরিমাণ কমিয়ে আনার চেষ্টা করছে বিদ্যুৎ বিভাগ ও পিডিবি।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে