সংকটে-ভোগান্তিতে বেকায়দায় বন্যা দুর্গত মানুষ

নিজস্ব প্রতিবেদক
১১ জুলাই ২০২৬


এক সপ্তাহের টানা ভারী বর্ষণ   পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে বিশেষ করে জেলার দক্ষিণাঞ্চলে ভয়াবহ বন্যা দেখা দিয়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন, খাবার বিশুদ্ধ পানির সংকট এবং ভেঙে পড়া যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে সেখানকার লাখো মানুষ মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন। বানের পানিতে তিনদিন আটকে  থাকা অনেক পানিবন্দি মানুষ এখনো সরকারি কিংবা বিত্তবানদের কাছ থেকে ত্রাণসামগ্রী পাননি। এদিকে গণমাধ্যম সামাজিক মাধ্যমে ত্রাণ সংকটের বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসলে সরকার, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সামাজিক সংগঠন ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করেছে। তবে সরকারি ত্রাণ সহায়তা প্রয়োজনের তুলনায় কম হওয়ায় পানিবন্দি মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

জানা গেছে, জেলার দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া বাঁশখালী উপজেলায় বন্যার তীব্রতা সবচেয়ে বেশি। পাশাপাশি চন্দনাইশ, লোহাগাড়া, বোয়ালখালী, পটিয়া আনোয়ারা উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে তলিয়ে গেছে।  সেখানে কেউ উঁচু ভবনে, কেউ আশ্রয়কেন্দ্রে দিন-রাত পার করছেন। শুক্রবার রাতের বৃষ্টির পর সাতকানিয়ার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

ওদিকে বাঁশখালীর বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি পানিবন্দি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের খোঁজখবর নেন এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন, ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে শুকনো খাবার আর্থিক সহায়তা বিতরণ করেন।

অন্যদিকে, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সাতকানিয়া উপজেলার বন্যাকবলিত ঢেমশা ইউনিয়ন পৌরসভা এলাকা পরিদর্শন করে ৮০০ পরিবারের মধ্যে জরুরি ত্রাণ বিতরণ করেন।

উদ্ভুত পরিস্থিতি সামলাতে বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা দিতেইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। সেনা সদস্যরা জেলার বিভিন্ন বন্যাকবলিত এলাকায় অনুসন্ধান, উদ্ধার ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। সেনাবাহিনী মোতায়েনের পর থেকে দুর্গত মানুষের দোরগোড়ায় ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া শুরু হয়েছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে  বাজারে যাওয়া বা বাইরে থেকে খাদ্য সংগ্রহের সুযোগ না থাকায় অনেকেই খাদ্যসংকটে পড়েছেন। সেনাবাহিনীর ত্রাণ পৌঁছানোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।  এদিকে, পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত বন্যার্ত মানুষের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। প্রয়োজন হলে আরও ত্রাণ উদ্ধার সরঞ্জাম নিয়ে কার্যক্রম বিস্তৃত করা হবে বলেও জানানো হয়েছে।

ওদিকে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার তিন পার্বত্য জেলার বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত জ্বালানি খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণ পৌঁছে দিতে প্রশাসনের পাশাপাশি কোস্ট গার্ড, বিজিবি, আনসার এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা সমন্বিতভাবে কাজ করছেন। জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকার জেলা প্রশাসন বন্যার্ত মানুষের পাশে রয়েছে। পর্যাপ্ত ত্রাণ মজুত আছে। উদ্ধার, ত্রাণ চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিতভাবে কাজ করছে সরকারের সব বিভাগ

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 


মন্তব্য
জেলার খবর