দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্বল ও বিভাজিত জনপ্রশাসন এবং অবনতিশীল আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব গ্রহণ করেছে বর্তমান সরকার। ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে দুর্নীতি, লুটপাট, রাষ্ট্র এবং জনগণকে ঋণগ্রস্ত করে ফেলেছিল। সেই শাসন আমল ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা এখন বর্তমান সরকারের কাঁধে।
রোববার (৩ মে) জেলা প্রশাসক সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থার এ চিত্র তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ঢাকায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ সম্মেলন হচ্ছে। ৬ মে পর্যন্ত চলবে এ সম্মেলন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদি সরকারের সময় দেশের বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশন, দুদকসহ প্রতিটি সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানকে অকার্যকর করে দেওয়া হয়েছিল। শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে ছিল ভঙ্গুর অবস্থা। দেশকে আমদানিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। সে সময় বেড়েছিল দারিদ্র্য ও বেকারত্ব, তৈরি হয়নি নতুন কর্মসংস্থান।
প্রশাসনের সহযোগিতায় আড়াই মাসে সেই পরিস্থিতি অনেকখানি পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়েছে তার সরকার উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, তবে সম্পূর্ণভাবে সেটি এখনো পরিবর্তিত হয়নি।
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি নতুন সরকারের সামনে চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি থেকে কোনো দেশই রেহাই পায়নি। তবে দেশে জনগণের ভোগান্তি না বাড়িয়ে কীভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা যায়, সেই প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের আবহমান ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধের আলোকে একটি ন্যায়ভিত্তিক কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে বর্তমান সরকার কাজ করছে। এ লক্ষ্যে কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও স্পোর্টস কার্ড বিতরণ শুরু হয়েছে। ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মের ধর্মীয় গুরুদের মাসিক সম্মানী ভাতা প্রদানের কার্যক্রমও চালু হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে সমাজের প্রতিটি মানুষকে রাষ্ট্রীয় সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে