পাবনার চাটমোহরে আপন চাচা, চাচী ও চাচাতো বোনকে মারপিট করা হয়েছে। সম্পত্তির বিষয়ে দুই ভাতিজার অযৌক্তিক, অন্যায্য এবং অন্যায় দাবি মেনে না নেওয়ায় তাদের মারপিট করা হয়। ভুক্তভোগীদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বুধবার রাতে উপজেলার সজনাই গ্রামে।
আহতরা হলেন- সজনাই গ্রামের বাসিন্দা আ. আজিজ সরদার, তার স্ত্রী রওশন আরা খাতুন ও একমাত্র মেয়ে আশা খাতুন। অভিযুক্তরা হলেন- আ, আজিজের সহদোর ভাই হানেফ সরদার, তার ছেলে রাসেল ও রেজাউল।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাতে পার্শ্বডাঙ্গা বাজারে হানেফ সরদার ও তার দুই ছেলে মিলে আ. আজিজকে মারধর করে। সেখানে থেকে তাকে বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। এরপর বাড়িতেও দ্বিতীয় দফায় আ. আজিজ ও তার পরিবারের উপর হামলা করা হয়। এ সময় আ. আজিজের মেয়ে ও তার স্ত্রী প্রাণ ভয়ে দৌড়ে প্রতিবেশি আমজাদ হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নেয়। অভিযুক্তরা সেখানে গিয়েও তাদের মারধর করে। মারধরে বাধা দিতে এলে আমজাদ হোসেনের স্ত্রীকেও মারধর করা হয়। পরে এলাকাবাসী তাদের উদ্ধার করেন।
সূত্রে জানা গেছে, আব্দুল আজিজের বসতভিটার একটা অংশ অযৌক্তিক, অন্যায্য এবং অন্যায়ভাবে নিজেদের ছেড়ে দেওয়ার জন্য দাবি করে আসছে হানেফ সরদার ও তার ছেলেরা। এমন পরিস্থিতিতে বছরখানেক আগে বাড়িতে পাকা স্থাপনা নির্মাণ শুরু করেন আব্দুল আজিজ। এদিকে বসতভিটার অংশ ছেড়ে না দেওয়ায় একাধিকবার পাকা স্থাপনার নির্মাণ কাজে বাধা দেন অভিযুক্তরা। এনিয়ে স্বজনদের নিয়ে ও সামাজিক বৈঠক হয়। কিন্তু বৈঠকের সমাধান মেনে নেয়নি অভিযুক্তরা। বুধবার বসতভিটার অংশ ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানিয়ে পূনরায় পাকা স্থাপনার নির্মাণ কাজে বাধা দেন অভিযুক্তরা। এতে নির্মাণ কাজ বন্ধ রাখেন ভুক্তভোগীরা। পরে পার্শ্বডাঙ্গা বাজারে গেলে আ. আজিজের উপর হামলা করা হয়।
বক্তব্যের জন্য অভিযুক্তদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। পুলিশের দায়িত্বশীল একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।
এদিকে ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় আইনের শরণাপন্ন না হওয়ার জন্য ভুক্তভোগীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। আইনের শরণাপন্ন হলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছেন।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে