বৈশাখে গরমের শুরুতে বিদ্যুতের ঘাটতিতে পড়েছে দেশ। ফলে লোডশেডিংয়ের মুখোমুখি হতে হচ্ছে দেশের মানুষকে। দেশের সর্বোচ্চ লোডশেডিং ২ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে ইতোমধ্যে। সামনে মে-জুন মাসে লোডশেডিংয়ের পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং পৌঁছায় ১ হাজার ৯৩২ মেগাওয়াটে। এদিন সন্ধ্যায় বিদ্যুতের চাহিদা ছিল প্রায় ১৫ হাজার ৩৩০ মেগাওয়াট। এর বিপরীতে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৩৫৮ মেগাওয়াট।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত রোববার থেকে মঙ্গলবার পযন্ত দেশে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা যথাক্রমে ৩৬.৩, ৩৬.৬ এবং ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড হয়। পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি (পিজিসিবি) ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্য অনুযায়ী, এ তিন দিন বিদ্যুতের লোডশেডিং ১ হাজার ৯০০ মেগাওয়াটের মতো ছিল।
এ তিনদিন বিদ্যুতের পরিমাণের ভিত্তিতে ঢাকা অঞ্চলে লোডশেডিং বেশি হলেও সময় বিবেচনায় সেটা ছিল অপেক্ষাকৃত কম । বিপরীতে বিদ্যুৎ না থাকার সময়ের ভিত্তিতে সবচেয়ে বেশি লোডশেডিং হয় বরিশাল অঞ্চলে, পরিমাণে দৈনিক ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা। এরপর বেশি সময় অন্ধকারে ছিল রাজশাহী, খুলনা, চট্টগ্রাম, ঢাকা বিভাগ, কুমিল্লা, ময়মনসিংহ, সিলেট এবং রংপুর। ঢাকা শহরে লোডশেডিং অপেক্ষাকৃত কম, দৈনিক ১ থেকে ২ ঘণ্টা। এমনকি অনেক এলাকায় লোডশেডিংয় প্রায় শূন্য।
জানা গেছে. গরম বাড়তে থাকায় আবাসিক খাতে ফ্যান, এসি ও কুলিং ডিভাইসের ব্যবহার বেড়েছে। বোরো আবাদের ভরা মৌসুম হওয়ায় সেচের চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। শিল্প খাতেও বৈদ্যুতিক জেনারেটরের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে। ফলে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়েছে। কিন্তু উৎপাদন সেই হারে বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লোডশেডিং বাড়ছে।
পিডিবির তথ্য বলছে, দেশে সাবস্টেশন পর্যায়ে দৈনিক বিদ্যুতের গড় চাহিদা প্রায় সাড়ে ১৫ থেকে ১৬ হাজার মেগাওয়াট। বিপরীতে উৎপাদন ১৩-১৪ হাজার মেগাওয়াট। ঘাটতির পরিমাণ প্রায় ১-২ হাজার মেগাওয়াট। পিক আওয়ারে ঘাটতি আরো বেশি হয়। গ্রাহক পর্যায়ে চাহিদা আরো বেশি। তাই বিদ্যুতের প্রকৃত চাহিদা ও লোডশেডিংয় সরকারি তথ্যের চেয়ে বেশি বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি। এ বিভাগে ঘাটতি বেশি থাকলেও ঢাকায় লোডশেডিং হয় গড়ে ২ ঘণ্টার মতো। কিন্তু অন্যান্য অঞ্চলগুলোতে চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম থাকলেও সরবরাহ কম। ফলে এসব এলাকার মানুষ দীর্ঘসময় বিদ্যুতের সুবিধা পাচ্ছে না। দিনে বরিশাল অঞ্চলে ১০-১২ ঘণ্টা, রাজশাহী অঞ্চলে ৮-১২ ঘণ্টা, খুলনা অঞ্চলে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা, চট্টগ্রামের গ্রামীণ এলাকায় এবং উপজেলা শহরগুলোতেও ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, ঢাকা বিভাগের গ্রামে ও উপজেলা পর্যায়ে ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা, কুমিল্লা অঞ্চলে ৬ থেকে ১০ ঘণ্টা, ময়মনসিংহে ৫-৮ ঘণ্টা, সিলেটে দিনে গড়ে ৪-৬ ঘণ্টা, রংপুরে ৩ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের কারণে নওগাঁ, নাটোর, কুমিল্লা, কুড়িগ্রাম, পিরোজপুরসহ বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষি সেচ, ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানা গেছে। ওদিকে গাজীপুর শিল্পাঞ্চলে প্রতিদিন ৬ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকায় শিল্প উৎপাদনে প্রভাব ফেলছে। গার্মেন্টস ও কারখানায় উৎপাদন কমে যাচ্ছে। তাঁত শিল্পে উৎপাদন অর্ধেকে নেমেছে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে