নানা অসুখ-বিসুখে আক্রান্ত সত্তরোর্ধ্ব শ্রবণ প্রতিবন্ধী বৃদ্ধ রমজান আলী। স্ত্রী আমেনা বেগমও নানা রোগে আক্রান্ত। ৩ ছেলে বিয়ে করে আলাদা সংসার পেতেছেন, আর ২ মেয়ে পরের ঘরে। কৃষক রমজান আলীর সংসার খরচ ও ওষুধের সামান্য টাকা আসে দুগ্ধবতী গাভীর দুধ বিক্রি থেকে। একমাত্র অবলম্বন সেই গাভীটিও চুরি হয়েছে গত রাতে। আয়ের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা রমজান আলী। শুধু রমজানেরই নয় ওই রাতে তার দুই ছেলে আজিজল ও আলামিনে মিলে ৫টি গরু চুরি হয়েছে।
আয়ের অবলম্বন হারিয়ে কৃষক রমজান পরিবারে আতঙ্ক ও হতাশা বিরাজ করছে। তিনি নাটোরের গুরুদাসপুর পৌর শহরের আনন্দ নগর মহল্লার হিন্দু প্রামানিকের ছেলে।
চুরির ঘটনা ঘটেছে সোমবার ২ টা ৩০ মিনিটের দিকে। ভুক্তভোগী পরিবার ও প্রতিবেশীরা জানান, রাতে গরুগুলো গোয়ালঘরে রেখে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে পড়েন। গভীর রাতে কৃষক আজিজলের দুইটি গাভী ও ২টি বাছুর, তার ছোটভাই আলামিনের কোরবানীর জন্য পালন করা একটি এবং তার পিতা রমজান আলীর ১টি দুগ্ধবতী গরু নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী আলামিন জানান, তিনি কৃষিকাজ করলেও গরু ব্যবসার সাথে জড়িত। ব্যবসায়িক কাজে রাতে বাসার বাইরে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। রাত তিনটার কিছু আগে বাড়ি থেকে মোবাইল ফোনে গরু চুরির ঘটনা তাকে জানানো হয়। ৬টি গরুর মুল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা।
প্রতিবেশী জয়নাল জানান,গরুগুলোর মালিকদের বাসা সরকারী টেকনিক্যাল স্কুল এ্যান্ড কলেজের পাশে। ওই প্রতিষ্ঠানের নৈশ্য প্রহরী রবিন গরুগুলো গাড়িতে উঠানোর শেষ মুহুর্তে জানতে পেরে মালিকদের বাসায় গিয়ে ঢেকে বিষয়টি অবগত করেন। এতক্ষনে চোরচক্র গরুগুলো গাড়িতে উঠিয়ে পালিয়ে যায়।
গরু চুরির ঘটনায় স্থানীয় কৃষক ও খামারীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গ্রামের অধিকাংশ পরিবার আসন্ন কোরবানী ঈদকে কেন্দ্র করে গরু মোটাতাজা করে সাবলম্বী হচ্ছেন। অনেকে ছোট-বড় খামারও গড়ে তুলেছেন। এমন ঘটনায় সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। তাদের ধারণা, একটি সংঘবদ্ধ চক্র মিনি ট্রাক বা ট্রলীর মাধ্যমে গরুগুলো উঠিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেছে।
গুরুদাসপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মঞ্জুরুল আলম বলেন, সকালে গরুচুরির ঘটনা জানতে পেরে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ করেনি। তবে আিভযোগ না পেলেও পুলিশ নিজ দায়িত্বে গরুগুলো উদ্ধারে আন্তরিকতার সাথে কাজ করছে।
বিডি২৪অনলাইন/সি/এমকে