আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুরুতে দেশের ৮ বিভাগের ৯ উপজেলার ৯টি ব্লকে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
এ কার্ডের আওতায় ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমার সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া ও বাজার সংক্রান্ত তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই ও পোকামাকড় দমনে পরামর্শ পাবেন কৃষকরা।
বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক পর্যালোচনা সভা হয়। এ সভায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাসসকে নিশ্চিত করেছেন। এ কর্মসূচি তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে ৪ সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ কার্ডের সুবিধা জানিয়ে প্রেস সচিব জানান, এ কার্ড দেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও নিরাপত্তার প্রতীক হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়া হবে। এ সুবিধা শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মৎস্য চাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি ও দুগ্ধ খামারিরাও আসবেন এ কার্ডের আওতায়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। এ কর্মসূচির আওতায় গড়ে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা। এ ছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের।
প্রেসসচিব জানান, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রাক-পাইলট পর্যায়ে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের ৮ বিভাগের ৯ উপজেলার ৯টি ব্লকে এ কার্ড বিতরণ করা হবে। ৯টি উপজেলার মধ্যে রয়েছে— টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর ও কক্সবাজারের টেকনাফ। প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় শেষে আগামী ৪ বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে