এপ্রিলে কৃষক কার্ড চালু করছে সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক
০৫ মার্চ ২০২৬


আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুরুতে দেশের বিভাগের উপজেলার ৯টি ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে। আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়ন করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এ কার্ডের আওতায় ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সরকারি ভর্তুকি প্রণোদনা, সাশ্রয়ী মূল্যে কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমার সুবিধা, ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ, কৃষি প্রশিক্ষণ, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আবহাওয়া বাজার সংক্রান্ত তথ্য এবং ফসলের রোগবালাই পোকামাকড় দমনে পরামর্শ পাবেন কৃষকরা।

বুধবার (৪ মার্চ) ঢাকায় সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে এক পর্যালোচনা সভা হয়। এ সভায় পহেলা বৈশাখ উপলক্ষ্যে পরীক্ষামূলকভাবে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হয়। সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ, কৃষি প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাসসকে নিশ্চিত করেছেন। এ কর্মসূচি তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে সদস্যের একটি সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এ কার্ডের সুবিধা জানিয়ে প্রেস সচিব জানান, এ কার্ড দেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা নিরাপত্তার প্রতীক হবে। কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের বিভিন্ন সরকারি সেবা দেওয়া হবে। সুবিধা শুধু শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; মৎস্য চাষী, প্রাণিসম্পদ খামারি দুগ্ধ খামারিরাও  আসবেন এ কার্ডের আওতায়।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে। কর্মসূচির আওতায় গড়ে হাজার ৫০০ টাকা করে ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন ভূমিহীন, প্রান্তিক ক্ষুদ্র কৃষকেরা। ছাড়া খরিফ- খরিফ- মৌসুমে সরকার নির্ধারিত হারে আর্থিক অনুদান দেওয়া হবে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের।

প্রেসসচিব জানান, আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে প্রাক-পাইলট পর্যায়ে সব শ্রেণির কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হবে। এরপর দেশের বিভাগের উপজেলার ৯টি ব্লকে কার্ড বিতরণ করা হবে। ৯টি উপজেলার মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর কক্সবাজারের টেকনাফ। প্রাক-পাইলট পাইলট পর্যায় শেষে আগামী বছরের মধ্যে দেশের সব উপজেলায় কৃষক কার্ড কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর