চলতি জানুয়ারি মাসের প্রথম ১৪ দিনে দেশে প্রায় ১.৭ বিলিয়ন ডলারের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসী বাংলাদেশিরা। আগামীতেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। পবিত্র রমজান শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারি মাসে। রোযা ও ঈদ ঘিরে পরিবারের বাড়তি খরচ মেটানোয় দেশে অতিরিক্ত অর্থ পাঠানোর প্রবণতা বাড়ে প্রবাসীদের মধ্যে। ফলে সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স প্রবাহে চাঙাভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
প্রাপ্ত তথ্যমতে, সর্বশেষ ডিসেম্বর মাসে দেশে রেমিট্যান্স এসেছে ৩২২ কোটি ডলার।একক মাস হিসেবে এ আয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর আগে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রবাসী আয় ৩২৯ কোটি ডলার এসেছিল গত মার্চে। সে সময় ঈদুল ফিতরের সময় দেশে বেশি অর্থ পাঠিয়েছিলেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে, গত বছর দেশের মোট প্রবাসী আয় দাঁড়ায় ৩ হাজার ২৮২ কোটি ডলার। এ আয় প্রায় বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার মজুতের সমান। পরিসংখ্যান বলছে, চলতি অর্থবছরে জুলাইয়ে ২৪৭ কোটি ৭৮ লাখ ডলার, আগস্টে ২৪২ কোটি ১৯ লাখ ডলার, সেপ্টেম্বরে ২৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার, অক্টোবরে ২৫৬ কোটি ৩৫ লাখ ডলার, নভেম্বরে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার এবং ডিসেম্বরে ৩২২ কোটি ৬৬ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে দেশে। মূলত চব্বিশের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর প্রবাসী আয় বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
দেশ থেকে অর্থ পাচার কমে যাওয়ায় অবৈধ হুন্ডি ব্যবসাও কমে গেছে। সেই সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলে ডলারের বিনিময় হার কয়েক মাস ধরে স্থিতিশীল থাকায় বৈধ পথে দেশের অর্থনীতিতে প্রবাহিত হচ্ছে প্রবাসী আয়। সম্প্রতি আকু বিল পরিশোধের পর গত ৮ জানুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়ায় ৩২ দশমিক ৪৩ বিলিয়ন ডলার। চলতি মাসে ১৫৩ কোটি ডলার আকুর বিল বাবদ পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী দেশে রিজার্ভ এখন ২৭ দশমিক ৮৪ বিলিয়ন ডলার।
বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে