অবৈধ পথে আসছে স্বর্ণ

Super Admin
১৫ জানুয়ারী ২০২৬

দেশের স্বর্ণ ব্যবসা খাত দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালান, দুর্বল কমপ্লায়েন্স নীতিগত ঘাটতিতে জর্জরিত। দেশে যেসব স্বর্ণ আছে এবং প্রতিনিয়ত যেসব চালান ঢুকছে তার বেশিরভাগই অবৈধ পথে আসছে। এ অবৈধ আমদানি প্রক্রিয়ার সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কিছু কর্মকর্তা জড়িত থাকার অভিযোগও রয়েছে। স্বর্ণ চোরাচালানকে ঘিরে অনেকের জীবনহানি ঘটে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকার আগারগাঁওয়ে এনবিআরের  মিট দ্য বিজনেসঅনুষ্ঠানে এ তথ্য জানান খোদ এনবিআরের চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান। তিনি বলেন, দেশে স্বর্ণ খাতে পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর প্রক্রিয়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে একটি সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি। এতে ব্যবসায়ীদের জীবনের ঝুঁকি কমমে এবং খাতের উন্নয়ন করবে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে নিজেদের বিভিন্ন সমস্যার কথা তুলে ধরেন স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা। এরপর এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, স্বর্ণ গহনা খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে রাজস্ব বোর্ড কাজ করছে।  সত্যিকার অর্থে যারা স্বর্ণ আমদানি করতে চান, তাদের  সুযোগ দেওয়া উচিত। বৈধপথে স্বর্ণ আমদানির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংক বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে দাবি উত্থাপন করলে সে ক্ষেত্রে এনবিআর সহায়তা করবে বলেও জানান আবদুর রহমান খান।

ব্যবসার প্রকৃত লেনদেন সঠিকভাবে নথিভুক্ত করলে ভবিষ্যতে টার্নওভার ট্যাক্সের প্রয়োজন হবে না বলেও জানান এনবিআর চেয়ারম্যান। বলেন, প্রকৃত মুনাফার ভিত্তিতে কর আদায়ের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।

এদিকে  অবৈধ পথে স্বর্ণ আসার বিষয়টি স্বর্ণ ব্যবসায়ীরাও স্বীকার করেছেন। এ অপবাদ জটিলতা থেকে মুক্তি চান তারা। স্বর্ণ ব্যবসায়ীরা বলেন- বিগত সময়ে স্বর্ণ আমদানির জন্য সরকার ১৮টি লাইসেন্স দেয়। এর মধ্যে অন্তত ১০ জন প্রকৃতপক্ষে ব্যবসায়ী না। এমনকি ক্রিকেটারকেও লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। অথচ প্রকৃত ব্যবসায়ীরা লাইন্সেন্স থেকে বাদ পড়েছেন। মূলত ব্যবসা করতে না, বরং আইনি ঝামেলা এড়াতে লাইসেন্স সংগ্রহ করে চোরাকারবারিরা। তাই বৈধপথে আমদানির জন্য প্রকৃত ব্যবসায়ীদের লাইসেন্স দিতে হবে। আমদানির পথ সহজ করলে কমে যাবে অবৈধ বাণিজ্য, আসবে   স্বচ্ছতা ভ্যাট-ট্যাক্সের আওতায় এসে বৈধভাবে ব্যবসা করতে চান তারা। এ জন্য আমদানি সহজ করাসহ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সোনা ব্যবসায়ীদের সংগঠন বাজুস।

 

বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে



মন্তব্য
জেলার খবর