শিক্ষক আন্দোলনে বার্ষিক পরীক্ষা নিয়ে শঙ্কা

নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ নভেম্বর ২০২৫

তিন দফা দাবি আদায় করতে  কর্মবিরতি চালিয়ে যাচ্ছেন দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা। রোববারের (৩০ নভেম্বর) মধ্যে দাবি পূরণে কার্যকর সিদ্ধান্ত না হলে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জনের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন তারা। কর্মবিরতির কারণে পাঠদান কার্যত বন্ধ থাকায় ও শিক্ষকরা বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন করলে বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা।

শিক্ষকরা আন্দোলন করছেন প্রাথমিক শিক্ষক পরিষদের প্লাটফর্মে। সম্প্রতি এ প্লাটফর্মের অন্যতম আহ্বায়ক মাহবুবর রহমান জানান, লাগাতার কর্মবিরতি পালন করায়  সারাদেশে সাড়ে ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখন পাঠদান বন্ধ। রোববারের মধ্যে দাবি পূরণ করা না হলে সোমবার থেকে বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন ছাড়া সামনে কোনো পথ থাকবে না শিক্ষকদের।

জানা গেছে, দেশে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে মোট ৬৫ হাজার ৫৬৯টি। এসব বিদ্যালয়ে সব মিলিয়ে তিন লাখ ৮৪ হাজারের বেশি শিক্ষক কর্মরত রয়েছে। প্রধান শিক্ষকরা দশম গ্রেডে বেতনভুক্ত হলেও ১৩তম গ্রেডে আছেন সহকারী শিক্ষকরা।  এ অবস্থায় নিজেদের বেতন স্কেল দশম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড সমস্যার সমাধান এবং শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি প্রদানের দাবিতে আন্দোলন শুরু করেন সহকারী শিক্ষকরা।

গত ১২ নভেম্বর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলন শুরু করেন শিক্ষকরা। ওই সময় পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষে দেড় শতাধিক শিক্ষক আহত হন। পরে প্রাথমিক গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের আশ্বাসে  কর্মস্থলে ফিরে যান শিক্ষকরা। কিন্তু দাবি পুরণের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে অগ্রগতি না হওয়ায়  কর্মবিরতি দিয়ে আন্দোলনে ফেরেন তারা।

এদিকে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের জন্য গত ২৭ নভেম্বর আন্দোলনরত শিক্ষকদের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান। তিনি বার্ষিক পরীক্ষা বর্জন না করতে শিক্ষকদের প্রতি আহ্বান জানান।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 



মন্তব্য
জেলার খবর