মাঠে তৎপর সম্ভাব্য প্রার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৭ অক্টোবর ২০২৬


দেশে রাজনৈতিক মাঠে তৎপরতা বাড়িয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীরা। স্থানীয় সরকারের এ নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থীতা হিসেবে জনসংযোগও করছে কেউ কেউ। ছুটছেন হাটে-বাজারে ও মসজিদে,  এমনকি পাড়া-মহল্লা ও বাড়ি বাড়ি গিয়েও প্রার্থী হওয়ার বার্তা দিচ্ছেন। সেই সঙ্গে ভোটারদের কাছে কামনা করা হচ্ছে সমর্থন । পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমেও তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে।

 

দেশে মোট ৫ ধাপে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনের গ্রহণের কথা জানানো হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে।  আগামী ২১ জানুয়ারি এ নির্বাচনের প্রথম ধাপের ভোট গ্রহণ শুরু হবে। নির্বাচনের রোড ম্যাপ ঘোষণার পর মাঠে তৎপরতা বাড়িয়ে দিয়েছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা।

 

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এখন অবধি এ নির্বাচন নির্দলীয় হওয়া কথা রয়েছে। তারপরও  নির্বাচনের জন্য বেশির ভাগ ইউনিয়নে দল সমর্থিত একক চেয়ারম্যান প্রার্থী মোটামুটি ঠিক করে ফেলেছে বিরোধী দল জামায়াত। অন্যদিকে প্রায় প্রতিটি ইউনিয়নেই চেয়ারম্যান পদে সমর্থন পেতে ক্ষমতাসীন দল বিএনপির  চার থেকে আট জন তৃণমূল নেতাকর্মী সক্রিয় রয়েছে বলে জানা গেছে।  দলের সমর্থন পেতে  এদের মধ্যে কেউ কেউ রাজধানীতে এসে  কেন্দ্রীয় নেতাদের কাছে ধর্না দিচ্ছেন। কেউ ছুটছেন এলাকার দলীয় সংসদ সদস্য-মন্ত্রীর কাছে। তবে বিএনপির ক্ষেত্রে কেন্দ্র থেকে এখন পর্যন্ত প্রার্থী বাছাই বা নির্বাচনি কৌশল নিয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক দিকনির্দেশনা  পাওয়ার কথা জানা যায়নি।

 

ওদিকে প্রায় প্রত্যেক ইউনিয়নেই বহু সম্ভাব্য প্রার্থী দলের সমর্থনপ্রত্যাশী হওয়ায় তৃণমূলে বিএনপির অভ্যন্তরীণ কলহ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও সরকারের উচ্চ পর্যায়ে এ বিষয়ে বার্তা দেওয়া হয়েছে। এছাড়া দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের তৃণমূল কর্মী-সমর্থকদেরও কেউ কেউ নির্দলীয় এই  নির্বাচনে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে নানাভাবে সক্রিয় রয়েছেবলে জানা গেছে।

কয়েক জন সংসদ সদস্য জানান, দলের সমর্থন পাওয়ার কৌশল হিসেবে সম্ভাব্য প্রার্থীদের প্রায় প্রত্যেকেই বিগত আওয়ামী লীগ আমলে কার বিরুদ্ধে কতটি মামলা, কে কতবার জেল খেটেছেন, কে কতবার হামলার শিকার হয়েছেন, কে কোন মিছিল-সমাবেশে অংশ নিয়েছেন- এসবের কাগজপত্র নিয়ে হাজির হয়েছেন। এদিকে প্রত্যেক ইউনিয়েনে দলসমর্থিত একক প্রার্থী ঠিক করতে এবং অন্য নেতাকর্মীরা  তার পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে যেন কাজ করেন, সে বিষয়ে দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। গত ১১ অক্টোবর সংসদ ভবনে বিএনপির সংসদীয় দলের সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে বিএনপিপ্রধান বলেছেন, নির্বাচন ঘিরে দলীয় শৃঙ্খলা যেন ভঙ্গ না হয়, সেব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। প্রতিটি স্থানে দলের ঐক্য অক্ষুণ্ন রাখার পাশাপাশি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী পক্ষ পরিবেশ নষ্ট কিংবা ঘোলা পানিতে মাছ শিকার যেন করতে না পারে, সে বিষয়েও সতর্ক থাকতে দলের এমপিদের পরামর্শ দেওয়া হয়।  দলের এমপিসহ কেউ দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও কড়া বার্তা দেন তারেক রহমান।

 

বিএনপি নেতারা বলছেন, এ নির্বাচনে একাধিক সম্ভাব্য প্রার্থীর মধ্য থেকে একজনকে সমর্থন দেওয়ার সাংগঠনিক প্রক্রিয়াও এখনো শুরু হয়নি।  কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে বহিষ্কারসহ সাংগঠনিক ব্যবস্থা  নেওয়া হবে। আনুষ্ঠানিক নির্দেশনা আসার আগেই একাধিক নেতা মাঠে নেমে পড়ায় শেষ পর্যন্ত সবাইকে একক প্রার্থীর পক্ষে আনা কঠিন হতে পারে বলেও মনে করছেন তারা।

 

ওদিকে ইসির পক্ষ থেকে রোড ম্যাপ ঘোষণা করা হলেও তপশিল ঘোষণা হবে স্থানীয়ভাবে। নির্বাচনের কমপক্ষে ছয় সপ্তাহ আগে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তারা তপশিল ঘোষণা করবেন।  স্থানীয়ভাবে তপশিল ঘোষণার পর দলসমর্থিত একক প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করা হবে । তবে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু না হলেও পরিচ্ছন্ন ইমেজের একক প্রার্থী ঠিক করতে বিএনপি ইতিমধ্যেই গোপনীয়ভাবে কাজ শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

ওদিকে এ নির্বাচনে দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থকদের সম্ভাব্য অংশগ্রহণ নিয়েও আলোচনা রয়েছে রাজনৈতিক অঙ্গনে। অনেকের ধারণা, আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা নির্বাচনে থাকার চেষ্টা করতে পারেন। তাদের অনেকে এখন পলাতক কিংবা আত্মগোপনে থাকলেও তপশিল ঘোষণার পর  গোপনে একজন করে প্রার্থী ঠিক করে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠতে পারেন। এরকম হলে তাদের কীভাবে মোকাবিলা করা হবে, সে বিষয়েও বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায় থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দিকনির্দেশনা  দেওয়া হয়নি।

 

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর