চেষ্টা চলছে অস্থিরতা সৃষ্টির

নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ অক্টোবর ২০২৬


রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কোথাও সন্ত্রাসী কার্যকলাপ, কোথাও হুমকি-ধমকি, আবার কোথাও হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটছে। চেষ্টা করা হচ্ছে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল বা অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন গুজব, উসকানিমূলক প্রচারণা এবং জনমতে ভীতির পরিবেশ সৃষ্টিরও। সুযোগ বুঝে দু-একটি জায়গায় অপরাধী ও চাঁদাবাজচক্র, কিশোর গ্যাং বা সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা ও লুটপাট চালানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিশিষ্ট নাগরিক, প্রশাসনের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা এবং পুলিশ সদস্যদের টার্গেট করে ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার প্রবণতাও উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে।  সুনির্দিষ্ট কিছু চক্র পরিকল্পিতভাবে সমাজে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, ডিসেম্বরকে ঘিরে নানা অপতৎপরতা শুরু হয়েছে, জনমনে  আতঙ্কের পরিবেশ সৃস্টির চেষ্টা চলছে। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। এটা নিয়ে মাঝেমধ্যে ঝটিকা মিছিল করে পরিস্থিতি উত্তপ্তের চেষ্টা করছে দেশে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ। দু-একটি স্থানে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনাও ঘটেছে। তবে কারা এমন আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, এর সঙ্গে জড়িতই বা কারা- সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সব ধরনের চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও উসকানিদাতাকে আইনের আওতায় আনছে পুলিশ। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সামনের দিনগুলোয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযান আরও জোরালো হবে বলে আভাস পাওয়া গেছে।

সব শেষ গোপালগঞ্জে পুলিশের গাড়ি ভাংচুর করা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা করা হয়েছে। তার আগে রাজধানী ঢাকায় সংগীতশিল্পী আসিফ আকবরের গাড়ি লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটছে।  এর আগে ২২ অক্টোবর নওগাঁয় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় মাইকে প্রকাশ্যে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়ে প্রচার চালানোর একটি ঘটনা সামাজিকমাধ্যমে ভাইরাল হয়। তার আগে ২০ অক্টোবর পুরান ঢাকার হাজারীবাগে  একটি কুরিয়ার সার্ভিসের ওয়্যারহাউজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে মুখে মাস্ক ও মাথায় হেলমেট পরিহিত ৭০ থেকে ৮০ জনের একটি দল।

এদিকে সর্বশেষ বৃহস্পতিবার দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি দৈনিকের সম্পাদককে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে। একই দিনে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে স্থানীয় এক সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। সূত্র মতে, সম্প্রতি মোবাইল ফোনে হুমকির ঘটনা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এ ক্ষেত্রে  পরিচয় গোপন রাখতে ডার্ক ওয়েবসাইট থেকে ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে বিভিন্ন দেশের অবৈধ ভার্চুয়াল ফোন নম্বর কিনছে অপরাধীরা। এরপর অবস্থান আড়াল করতে ভিপিএন ব্যবহার করে হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের মতো অ্যানক্রিপ্টেড অ্যাপের মাধ্যমে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হুমকি দেওয়ার পরপরই নম্বরটি বন্ধ করে দেওয়ায় তাদের পরিচয় ও অবস্থান শনাক্ত করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ছে বলে জানা গেছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনের মামলা এবং দুর্নীতি মামলার তদন্ত ও তদারকি কর্মকর্তাদের নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শনের চেষ্টা করা হচ্ছে। সম্প্রতি  চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলমকে দেওয়া এ ধরনের একটি হুমকির অডিও ভাইরাল হয়েছে। তাছাড়া মাঠ প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তাদেরও হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাদের অনেকে মনে করছেন, বিজয়ের মাস ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে নিজেদের  পুরোনো বন্ধুর সঙ্গে বসে ষড়যন্ত্র করছে আওয়ামী লীগ। তবে ষড়যন্ত্র করলেও তারা সফল হবে না। আওয়ামী লীগের অপকর্মের বিচার হবে আইন অনুযায়ী। এ ব্যাপারে সাধারণ মানুষ সতর্ক আছে।

জামায়াতের নেতাদের অনেকে বলছেন, এখন যেসব ঘটনা ঘটছে, সেটা তদন্তের বিষয়।  ডিসেম্বরকে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ ঘটাচ্ছে; নাকি সরকারের ভেতর থেকে ঘটানো হচ্ছে- সেটা খতিয়ে দেখা উচিত। আওয়ামী সন্ত্রাসী বা অন্য কেউ এসব ঘটনা ঘটালে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া  দরকার বলেও মনে করেন তারা।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, একটি চক্র সুপরিকল্পিতভাবে অস্থিতিশীল পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে দেশকে অকার্যকর করার চেষ্টা চালাচ্ছে। এরই অংশ হিসাবে খুলনা শহরকে হঠাৎ এক ভীতিকর জনপদে পরিণত করে আলোচনায় আনা হয়েছে। সাম্প্রতিক বিভাগীয় এই শহর ও এর আশপাশের জেলাগুলোয় একের পর এক খুন, গুলিবর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবশেষ তেরখাদা উপজেলায় প্রকাশ্যে এক স্থানীয় যুবদল নেতাকে লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে। এর আগে মাত্র ১৪ ঘণ্টার ব্যবধানে খুলনায় পৃথক দুটি স্থানে গুলিতে দুজন নিহত হন।

পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির অবশ্য প্রকাশ্যে বলেছেন, অপরাধীদের বিরুদ্ধে দেশব্যাপী যৌথ অভিযান চলছে। কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।  এ বিষয়ে একটি আইনি কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে কমিউনিটি পুলিশিংকে পুলিশের একটি স্বতন্ত্র শাখায় পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুলিশ আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বলপ্রয়োগ করলে ফ্যাসিবাদী আখ্যা দেওয়া হয়। বলপ্রয়োগ না করলে পুলিশকে দুর্বল মনে করা হয়। কিশোর গ্যাং, চাঁদাবাজি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে সারা দেশে যৌথ অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অপরাধ দমনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাজ করছে পুলিশ ।

 

বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে

 

 


মন্তব্য
জেলার খবর