দেশের সেবাখাতে উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে দুর্নীতি ও ঘুষ। দুই বছর আগের চেয়ে গত বছর জাতীয় পর্যায়ে প্রাক্কলিত ঘুষ বেড়েছে ১৬ শতাংশ। টাকার অঙ্কে এর পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। সেবার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি ও ঘুষের মুখোমুখি হয়েছেন পাসপোর্ট এবং বিআরটিএর সেবাগ্রহীতারা। দুর্নীতি এবং ঘুষের উচ্চ হার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিচারসংশ্লিষ্ট খাতে এখনও বহাল রয়েছে। ফলে সাধারণ মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে কৃষি, স্থানীয় সরকার, ভূমি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের মতো জনগুরুত্বপূর্ণ খাতেও দুর্নীতির প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)- এর সর্বশেষ জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে। বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) রাজধানী ঢাকার ধানমন্ডিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল প্রকাশ করেছে টিআইবি।
জরিপে দেখা গেছে, ২০২৩ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে জাতীয়ভাবে দুর্নীতির শিকার খানা ১৫ দশমিক ১ এবং ঘুষের শিকার খানা ২৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। প্রাক্কলিত মোট ঘুষের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১২ হাজার ৬৩৩ কোটি ২০ লাখ টাকা। টাকার এ পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় ১৫ দশমিক ৯ শতাংশ বেশি। টাকার এ অঙ্ক ২০২৪-২৫ অর্থবছরের সংশোধিত জাতীয় বাজেটের ১ দশমিক ৫৮ শতাংশের সমান। যদিও খানাপ্রতি গড় ঘুষের পরিমাণ ২০২৩ সালের তুলনায় ৯ দশমিক ৮ শতাংশ কমেছে। তবে বিচারসংশ্লিষ্ট সেবা, ব্যাংকিং এবং ভূমি খাতে গড় ঘুষের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি পাওয়া গেছে।
জরিপ অনুযায়ী, গ্রামাঞ্চলের ৬৬ শতাংশ খানা এবং শহরে ৫৮ দশমিক ৫ শতাংশ খা ঘুষের শিকার হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ঘুষের পরিমাণের বেলায় শহুরে সেবাগ্রহীতাদের বেশি অর্থ ব্যয় করতে হয়েছে। শহরে গড়ে ৫ হাজার ৭৫৭ টাকা এবং গ্রামে ৪ হাজার ৮৬৪ টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগ সহায়তা এবং শিক্ষা খাতে নারী সেবাগ্রহীতাদের উল্লেখযোগ্য হারে দুর্নীতির শিকার হওয়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
বিভিন্ন খাতে ডিজিটাল সেবা চালু হলেও সেটা দুর্নীতি কমাতে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারেনি বলে জরিপে ওঠে এসেছে। জরিপ অনুযায়ী, এখনও অনেক ক্ষেত্রে দালালনির্ভরতা ও ঘুষের ঝুঁকি বহাল রয়েছে। ডিজিটাল ও ম্যানুয়াল ব্যবস্থার সমন্বয়হীনতার কারণে অতিরিক্ত ভোগান্তিও পোহাতে হচ্ছে সেবাগ্রহীতাদের।
এ পরিস্থিতির জন্য বিচারহীনতা, জনসচেতনতার অভাব এবং দুর্নীতিগ্রস্তদের পুরস্কৃত করার সংস্কৃতিকে দায়ী করেছেন জরিপে অংশগ্রহণকারীরা। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় অর্ধেক খানা দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি সম্পর্কেই জানে না। এ ছাড়া অভিযোগ করলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাওয়া যায় না বলে জানিয়েছে টিআইবি।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে