সাম্প্রতিক দেশে হাম ও হাম উপসর্গের প্রকোপ বাড়ছে। হাম বা হাম উপসর্গে আক্রান্ত ১২ দিন বয়সি নবজাতক থেকে শুরু করে ১২ বছরের কিশোরীও কাতরাচ্ছে হাসপাতালে । হাসপাতালগুলো থেকেও অনেক শিশু সংক্রমিত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। আক্রান্তদের শরীরে উচ্চ তাপমাত্রা আর ব্যথায় হাত বুলিয়ে দেওয়ারও সুযোগ পাচ্ছেন না অভিভাবকেরা। এমন পরিস্থিতে চরম হতাশা বিরাজ করছে ভুক্তভোগীদের পরিবারে। শিশুদের অভিভাবকদের মধ্যে দুশ্চিন্তা দেখা দিয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে হাম ও হাম উপসর্গে আক্রান্তদের মধ্যে এ পর্যন্ত ৫১২ শিশু মারা গেছে। সবশেষে গত ২৪ ঘণ্টাতেও হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে ১৩ শিশু প্রাণ হারিয়েছে।
জানা
গেছে, সাধারণত ৯
মাস বয়সে হাম টিকা দেওয়া হয়। তবে টিকাদানের নির্ধারিত বয়সের আগেই শিশুদের মধ্যে হাম ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা নতুন নয়। হাম শিশু থেকে বৃদ্ধ সবারই হতে পারে এ রোগ। তবে বড়দের ক্ষেত্রে হাম শিশুদের মতো মারাত্মক হয় না।
জনস্বাস্থ্য
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম ভাইরাসজনিত অতি সংক্রামক একটি রোগ। যেসব শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম, তারাই বেশি ঝুঁকিতে থাকে। কেবলমাত্র টিকাদানের মাধ্যমে এ রোগ প্রতিরোধ
করা যায়।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বিগত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় টিকাদান কর্মসূচি কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। এ সরকারের ১৮ মাসের সময়কালে প্রায় ৪৫-৫০ লাখ শিশু টিকাদানের বাইরে ছিল। এ শিশুরা প্রথমে আক্রান্ত হয়। হাম অতি সংক্রামক হওয়ায় ধীরে ধীরে সেটা একজন থেকে অন্যজনে ছড়িয়ে পড়ে। পরিণতিতে দেখা দেয় ভয়াবহ গণ-সংক্রমণ।
এদিকে হাম উদ্ভূত পরিস্থিতিতে হামের রোগীদের চিকিত্সাসেবায় দায়িত্বরত ডাক্তার, নার্স ও জরুরি স্বাস্থ্যসেবা সংশ্লিষ্টদের ঈদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। তাদের নিজ নিজ কর্মস্থলে থাকতে হবে। বিষয়টি জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
মন্ত্রী
জানান, সরকারের লক্ষ্যমাত্রার
চেয়ে অতিরিক্ত ৪ লাখ শিশুকে
হাম-রুবেলার টিকা দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিক লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ কোটি ৮০
লাখ ১৫ হাজার ৬৪
শিশুকে টিকার আওতায় আনা। বিশেষ ক্যাম্পেইনের মেয়াদ ২০ মে শেষ
হলেও কোনোভাবেই টিকাদান কার্যক্রম বন্ধ হবে না বলে ঘোষণা
দিয়েছের মন্ত্রী।
২১ মে থেকে নতুন
পর্যায়ের টিকাদান কার্যক্রম শুরু হয়েছে। যতদিন সবার টিকাদান শেষ না হবে, ততদিন
খুঁজে খুঁজে টিকাদান এবং মাইকিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে