সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে সামষ্টিক অর্থনীতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ মে ২০২৬


বড় ধরনের সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। টানা বছর ধরে মন্থর প্রবৃদ্ধি, মূল্যস্ফীতির অব্যাহত ঊর্ধ্বগতি, ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতা বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে নিম্নমুখিতার কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি  হয়েছে। সংকট কাটিয়ে অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে হলে কঠোর সংস্কারের বিকল্প নেই, পাশাপাশি কঠিন অজনপ্রিয় সিদ্ধান্ত নিতে হবে সরকারকে। এর বাইরে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো কোনো অবস্থা নেই।

সোমবার বিশ্বব্যাংক পলিসি রিসার্স ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) যৌথ উদ্যোগে  এক সেমিনারে বাংলাদেশের ওপর তৈরি বিশ্বব্যাংকের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। সেই প্রতিবেদনে এ চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের চড়া মূল্যস্ফীতি, ব্যাংকিং খাতে সংকট বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে নিম্নমুখিতা মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে চলতি অর্থবছর দশমিক শতাংশে নেমে আসতে পারে প্রবৃদ্ধি। বাংলাদেশের অর্থনীতি গত কয়েক দশকের মধ্যে একটি নাজুক সময়ের মধ্যে প্রবেশ করেছে।

প্রতিবেদনে জানানো হয়, বৈদেশিক খাতে অব্যাহত চাপের মুখে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সুরক্ষা দেওয়ার নীতিগত ব্যবস্থা খুবই সীমিত। মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের পাশাপাশি বাড়ছে দরিদ্রতাও। অব্যাহত অর্থনৈতিক মন্দা নিম্নমুখী করেছে মানুষের জীবনযাত্রার মানকে। অবস্থায় আরও ১৪ লাখ মানুষ দারিদ্র্যের সীমার নিচে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।  উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মজুরি বৃদ্ধির হার নিম্ন পর্যায়ে থাকায় মানুষের প্রকৃত আয় নেতিবাচক পর্যায়ে চলে গেছে। ফলে ২০১৮ সালে দারিদ্র্যের হার যেখানে ১৮ দশমিক ছিল, সেখান থেকে ৭ বছরে বেড়ে ২১ দশমিক শতাংশে দাঁড়িয়েছে ২০২৫ সালে।

বিশ্বব্যাংক জানিয়েছে, মধ্যপাচ্যে যুদ্ধের কারণে কমে যেতে পারে রেমিট্যান্স প্রবাহ,  বেড়ে যাবে আমদানি ব্যয়।  আর চড়া মূল্যস্ফীতির কারণে পরিবারের আয় কমে যাবে। এতে দরিদ্রতা হ্রাসের প্রক্রিয়াকে আরও স্থবির করে দিতে পারে। কঠোর মুদ্রানীতি অনুসরণ করার পরও মূল্যস্ফীতির হার কমছে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ফলে ঋণ শ্রেণিবিন্যাসের মান কঠোর করায় এবং কয়েকটি ব্যাংক পুনর্গঠন করার উদ্যোগের ফলে ব্যাপকভাবে বেড়েছে খেলাপি ঋণ। সেই সেঙ্গ কমেছে সম্পদের গুণগত মান। ব্যাংকগুলোর আর্থিক দুরবস্থা বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহকে সংকুচিত করেছে। ব্যাংক খাতের অব্যাহত দুর্বলতা রোধে জরুরি ভিত্তিতে মূলধনের জোগান বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। জানানো হয়েছে,  দ্রুত কমাতে হবে খেলাপি ঋণ আর   বাড়াতে হবে তদারকি। পাশাপাশি সুশাসন ব্যবস্থার উন্নতি করতে হবে।

সেমিনারে জানানো হয়, মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে চারটি বিষয়ই এখন প্রকট আকার ধারণ করেছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হচ্ছে ৩৫ বছরের মধ্যে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ সর্বনিম্নে চলে গেছে।  শিল্প খাতের পাশাপাশি কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পাচ্ছে। যা অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে দুর্বল করে দিচ্ছে।

সেমিনারে বলা হয়- মূল্যস্ফীতি না কমার কারণে পণ্যের সরবরাহ বাধাগ্রস্ত, দাম বৃদ্ধি দুর্নীতিকে দায়ী মূল্যস্ফীতির কারণে কৃষি, শিল্প সেবা খাতে নিম্ন আয়ের অদক্ষ শ্রমিকদের মজুরি নেতিবাচক হয়ে পড়েছে।

সেমিনারে আলোচকরা মুদ্রানীতি শিথিল করার বিষয়ে সতর্কতা উচ্চারণ করে দুর্নীতি রোধ, কাঠামোগত সংস্কার চলমান রাখা সরবরাহ ব্যবস্থায় বাধা দূর করার ওপর জোর দিয়েছেন।

 

 

বিডি২৪অনলাইন/ইএম/এমকে


মন্তব্য
জেলার খবর