বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেলেও দেশে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। আগামী মে মাসের জ্বালানির দাম নিয়ে কাজ করা হচ্ছে। মন্ত্রীপরিষদে আলোচনা করে, প্রয়োজন করলেই কেবল দাম বৃদ্ধি পাবে।
এদিকে বৈশ্বিক উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উদ্বুদ্ধ পরিস্থিতি মোকাবিলায় দক্ষিণ এশিয়ার প্রায় সব দেশই হিমশিম খাচ্ছে। পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ, নেপাল ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করলেও একমাত্র বাংলাদেশ-ই জ্বালানি তেলের মূল্য স্বাভাবিক রেখেছে। দেশের শিল্প জাত উৎপাদন কৃষি কার্যক্রম ও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার কথা বিবেচনা করে এপ্রিল মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য অপরিবর্তিত রেখেছে সরকার। ওদিকে কৃষকদের ডিজেল প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে সেচ কার্ডের নেয়, কৃষি কার্ড প্রদানে ইতোমধ্যে নির্দেশ করা হয়েছে জেলা প্রশাসকদের ।
চলমান জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) প্রশ্নোত্তরে দেশের জ্বালানি তেলের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন সরকারের বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সংসদে দেওয়া তার বক্তব্য থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
জ্বালানি মন্ত্রী আরও বলেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইরান কর্তৃক স্টেটে অব হরমুজ জাহাজ চলাচলের বিধি-নিষেধ আরোপ করা হয়েছে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটেছে। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যে অস্বাভাবিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।
এমন পরিস্থিতিতে সরকার সম্ভাব্য সব উৎস খুঁজে দেশে সব ধরনের তেলের স্বাভাবিকতা অব্যাহত রেখেছে বলে সংসদকে জানান মন্ত্রী। বলেন, বর্তমানে দেশে জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। মজুত তেলের মধ্যে ডিজেল ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬৪৪ টন, অকটেন ১০ হাজার ৫০০ টন এবং পেট্রোল ১৬ হাজার টন। চলতি এপ্রিল মাসের মধ্যে ১ লাখ ৩৮ হাজার টন ডিজেল, ৭১ হাজার ৪৩৩ টন অকটেন ও ৩৬ হাজার টন পেট্রোল আসবে দেশে।
মন্ত্রী সংসদকে জানান, জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত ও অতিরিক্ত বিক্রি রোধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার জন্য সব জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জানিয়ে জ্বালানি মন্ত্রী বলেন, জ্বালানি তেল সরবরাহ ও মনিটরিং করতে জেলা বিপিসি মন্ত্রণালয় বিজনেস টিম ও মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। প্রতিদিন জেলা প্রশাসকদের সমন্বয়ে জ্বালানি তেলের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে জুম অ্যাপসের মাধ্যমে সভা করা হচ্ছে। জ্বালানি তেলের পাচার ও অবৈধ মজুত বন্ধ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। জ্বালানি তেলের সুষ্ঠু সরবরাহের লক্ষ্যে প্রতিটি ফিলিং স্টেশনে ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুত বন্ধের লক্ষ্যে ৩ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল ৩৪২টি অভিযান পরিচালিত হয়েছে। এর মধ্যে ২ হাজার ৪৫৬টি মামলা ও ৩১ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ সব অভিযানে এক কোটি ২৫ লাখ ৩৯ টাকার অর্থদণ্ড আদায় করা হয়েছে। ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৪৫৬ লিটার জ্বালানি তেল উদ্ধার করা হয়েছে।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে