রক্তস্নাত জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যাত্রা শুরু নতুন বাংলাদেশের। এ নতুন বাংলাদেশে প্রথম জাতীয় নির্বাচনের ভোট অনুষ্ঠিত হচ্ছে বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি)। শেখ হাসিনার সরকারের দীর্ঘ দেড় দশক ভোটাধিকারবঞ্চিত থাকা কোটি মানুষের দীর্ঘ আক্ষেপ ঘুচিয়ে এ দিন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ঐতিহাসিক ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ‘রাষ্ট্র সংস্কার সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোট’। স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পতনের পর আগামীর বাংলাদেশ কেমন হবে— সেটা ব্যালটের মাধ্যমে নির্ধারনে জাতি উন্মুখ হয়ে আছে।
এদিকে সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে বুধবার সন্ধ্যায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ আহ্বান জানিয়ে নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতি ও কমিশনের প্রত্যাশার কথা তুলে ধরেন সিইসি। ভাষণে তিনি ভোটদানকে কেবল নাগরিক অধিকার নয়, বরং একটি দায়িত্ব হিসেবে উল্লেখ করেন। দেশের ভোটাররা সচেতনভাবে এ দায়িত্ব পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। শান্তিপূর্ণ ভোট গ্রহণ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বদ্ধপরিকর উল্লেখ করে সিইসি বলেন, যে কোনো অনভিপ্রেত পরিস্থিতি মোকাবিলায় নির্বাচনী কর্মকর্তা, বিচারিক ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে সক্রিয় রয়েছে। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় দেশবাসী একটি সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচনের সাক্ষী হতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
নির্বাচনে ২৯৯টি আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। বাকি একটি আসন শেরপুর-৩ এ প্রতিদ্বন্দ্বি প্রার্থীর মৃত্যুতে সেখানে ভোট স্থগিত রাখা হয়েছে। নির্বাচনে মোট ২ হাজার ২৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রার্থী ১ হাজার ৭৫৫ জন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী ২৭৩ জন। মোট প্রার্থীর মধ্যে নারী প্রার্থী রয়েছেন ৮৩ জন। নির্বাচনে সারাদেশে মোট ৪২ হাজার ৭৭৯টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ঝুঁকি সামলাতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে কমিশন । নির্বাচনে ভোটার ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৪৮ লাখ ২৫ হাজার ৩৬১ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৮৫ হাজার ২০০ জন এবং হিজড়া ভোটার ১ হাজার ২৩২ জন।
নির্বাচনের জন্য ৪২ হাজার ৭৭৯ জন প্রিজাইডিং অফিসার নিয়োগ করেছে নির্বাচন কমিশন। এর বাইরে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ২ লাখ ৪৭ হাজার ৪৮২ জন, পোলিং অফিসার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৪ জন থাকছেন ভোট গ্রহণে। নির্বাচনী মাঠে পরিস্থিতি ও পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে সেনাবাহিনী (১ লাখ ৩ হাজার), পুলিশ (১ লাখ ৮৭ হাজার), আনসার (৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৬৮ জন), বিজিবি (৩৭ হাজার ৪৫৩), নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, র্যাব, কোস্টগার্ড ও বিএনসিসি মিলিয়ে মোট ৯ লাখ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। ভোটের মাঠে ম্যাজিস্ট্রেসি ক্ষমতাসহ দায়িত্ব পালন করছে সেনাবাহিনী।
ওদিকে ভোটের মাঠে থাকছেন ৫৪০ জন বিদেশি পর্যবেক্ষক ও সাংবাদিক। এর মধ্যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২২৩ জনসহ কমনওয়েলথ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি রয়েছেন। থাকছেন আল জাজিরা, বিবিসি, রয়টার্স ও এপির মতো সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিকরা।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে