নতুন সরকারের কাছে জনগণের যে প্রধান দুটি প্রত্যাশা ছিল, বিগত ছয় মাসের সার্বিক পর্যালোচনায় একটিতেও আশাব্যঞ্জক অগ্রগতি দেখা যায়নি। বরং দুই প্রত্যাশাতেই সৃষ্টি হয়েছে এক ধরনের অস্বস্তি। দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, দখলবাজি, সিন্ডিকেট এবং ‘মব কালচার’ বন্ধ করাটা মূল লক্ষ্য থাকলেও বাস্তব চিত্র দেখা গেছে ভিন্ন। এছাড়া মেধার ভিত্তিতে নিয়োগের প্রতিশ্রুতি থাকলেও রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের উচ্চপদে পদায়ন করা হয়েছে এ সময়ে, যেটা গ্রহণযোগ্য নয়। তাছাড়া চলতি বছরের জানুয়ারির পর থেকে এ পর্যন্ত প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে ৯৫টি শিল্প-কারখানা স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে গেছে। সেই সঙ্গে কাজ হারিয়েছেন ৬১ হাজার ৮৮১ জন।
সোমবার
(২৪ আগস্ট) বেসরকারি
গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগ
(সিপিডি) আয়োজিত ‘সরকারের ছয় মাস :একটি
অর্থনৈতিক পর্যালোচনা’ শীর্ষক মিডিয়া সংলাপে এসব তথ্য ও বিশ্লেষণ তুলে
ধরেন সংস্থাটির সম্মাননীয় ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সংলাপে
বিগত ছয় মাসের মূল্যায়ন তুলে ধরা হয়।
সংলাপে
বলা হয়, নতুন সরকারের
কাছে জনগণের প্রধান দুটি প্রত্যাশা ছিল- অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু দেশের অর্থনীতির ৩১টি প্রধান
সূচকের মধ্যে প্রবাসী আয় ও রিজার্ভসহ
১২টি খাতে অগ্রগতি অর্জিত হলেও, মূল্যস্ফীতি ও মাথাপিছু ঋণসহ
বাকি ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ সূচকে অবনতি হয়েছে। বিগত সরকারের কাছ থেকে একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার। টাকা সংকট, ব্যাংকিং খাতের করুণ দশা, অনাদায়ী ঋণ, অর্থ পাচার ও রাজস্ব ঘাটতির
মতো বড় বড় চ্যালেঞ্জ
সামনে ছিল তাদের। তবে এগুলো সামলে অর্থনীতির ঘুরে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে আশানুরূপ গতি দেখা যায়নি।
সংলাপে
জানানো হয়, সরকারের পক্ষ থেকে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণার পরও দেশে মব ভায়োলেন্স অব্যাহত
রয়েছে। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের
ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। কিন্তু এসবের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কার্যকর প্রতিরোধ দেখা যায়নি। তাছাড়া গুম ও মানবাধিকার রক্ষায়
তৈরি আইনে নানা ত্রুটি ও অসম্পূর্ণতা রয়েছে।
বিশেষ করে, আইন ভঙ্গকারীকে দিয়ে অনুসন্ধান করানোর কারণে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হচ্ছে। অবশ্য কিছু সাফল্যও রয়েছে সরকারের
সংলাপে বলা হয়, এ সরকার যখন আসে, তখন বৈশ্বিক পরিস্থিতি ইতিবাচক ছিল না। শুরু হয় যুদ্ধ। সমস্যা হচ্ছে, দায়িত্ব নেওয়ার সময়কার পরিস্থিতি নিয়ে এ সরকার একটি সমন্বিত দলিল তৈরি করেনি। এ কারণে এখন বিভিন্ন পদক্ষেপ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি মূল্যায়ন করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। সরকার বারবার বলছে- তারা খারাপ পরিস্থিতির মধ্যে দায়িত্ব নিয়েছে। কিন্তু কী পরিস্থিতি থেকে দায়িত্ব নেওয়া হয়েছে, তার একটি সমন্বিত তথ্যভিত্তিক দলিল তৈরি করা হয়নি। ফলে এখন সরকারের বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে পরিসংখ্যানের সমন্বয় করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
সিপিডির পর্যালোচনার তথ্য তুলে ধরে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, গত ফেব্রুয়ারি থেকে জুনের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৬ শতাংশ থেকে কমে ৪.৫ শতাংশে নেমেছে। মূলধনি যন্ত্রপাতির জন্য ঋণপত্র খোলার প্রবৃদ্ধিও ইতিবাচক থেকে নেতিবাচক হয়েছে এবং নিট বিদেশি বিনিয়োগ কমেছে। শিল্প খাতে প্রবৃদ্ধি থেকে নেতিবাচক অবস্থায় চলে গেছে। এসব সূচকে দ্রুত বেসরকারি বিনিয়োগ পুনরুদ্ধারের কোনো স্পষ্ট ইঙ্গিত নেই।
বিডি২৪অনলাইন/এনএন/এমকে