ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৩ : ২০ মাঘ, ১৪২৯

আলো জ্বালিয়ে ঘুমানো ভালো না মন্দ?

বাংলাদেশ২৪অনলাইন ডেস্ক
জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ০৯:৫৮
১৪ বার পঠিত

রাতে ঘুমানোর সময় আলো জ্বালানো থাকবে না নিভানো থাকবে এ নিয়ে দ্বন্দ্বের শেষ নেই। কারো জন্য ঘুটঘুটে অন্ধকারে ঘুমানো কঠিন। কারো কাছে লাইট জ্বালানো থাকা মানে ঘুমের সর্বনাশ। তবে আলো জ্বালায়ে ঘুমানো স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না ক্ষতির-তা অনেকেরই অজানা।

ঘুমানোর সময় আলো জ্বালিয়ে রাখলে তা মানব শরীরের জন্য কি ক্ষতিকর? শুধু যে টিউবলাইট বা বাল্বের আলো তা নয়। এর সঙ্গে টিভি বা ল্যাপটপের আলোও সম্পর্কিত। শিকাগোর নর্থওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এ ধরনের আলোর নিচে ঘুমালে মানবদেহে গ্লুকোজের মাত্রা বৃদ্ধি পায়। বিপাক ক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটতে পারে। এমনকি হার্টের অসুখ, ডায়াবেটিসের ঝুঁকিও বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

গত বছর একটি জরিপ করা হয়। জরিপে আলো জ্বালিয়ে ও অন্ধকার ঘুমিয়েছেন এমন মানুষদের রাখা হয়। এতে দেখা যায়, আলো জ্বালিয়ে যারা ঘুমিয়েছে,ন তাদের বিপাক প্রক্রিয়া ও হার্টের উপর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে।

রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমানোর ফলে বেশ কিছু ক্ষতি হয়। প্রথমেই রয়েছে স্থূলতা। নারীদের ওপর একটি গবেষণা করে দেখা গেছে, যারা টিভি বা লাইট জ্বালিয়ে ঘুমায় তাদের স্থূলতার ঝুঁকি বেশি।

দ্বিতীয় ধাপে রয়েছে ডিপ্রেশন বা হতাশা। রাতে আলো জ্বালিয়ে ঘুমালে ডিপ্রেশনের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শুধু তাই নয়, ইলেকট্রনিক ডিভাইস থেকে নির্গত নীল আলো মেজাজের উপর খারাপ প্রভাব ফেলে। আলো ঘুমের অভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত, যা মেজাজের পরিবর্তন ও বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তৃতীয় সমস্যা হচ্ছে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যাওয়া। রাতে দীর্ঘ সময় আলোর মধ্যে ঘুমালে রক্তে শর্করার মাত্রা বেড়ে যায়। ফলে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ে ও ইনসুলিন হরমোন নিঃসরণে সমস্যা হয়।

চতুর্থ সমস্যা হলো হৃদরোগের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়া। আলো শরীরের স্বাভাবিক কাজে বাধা দেয়, যা বায়োমেকানিক্যাল পরিবর্তন ঘটায়। ফলে দীর্ঘমেয়াদে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের ঝুঁকি থাকে। যদি আলো ছাড়া ঘুমাতে সমস্যা হয়, তাহলে সাধারণ আলোর পরিবর্তে একটি লাল বাল্ব জ্বালিয়ে রাখা যায়। লাল বাল্বগুলো মেলাটোনিন উত্পাদনে অন্যান্য বাল্বের মতো ক্ষতিকারক প্রভাব ফেলে না। সার্বিকভাবে তাই আলো না জ্বালিয়ে ঘুমানোই ভালো।



মন্তব্য