ঢাকা - ফেব্রুয়ারি ০২, ২০২৩ : ২০ মাঘ, ১৪২৯

ডিসিদের ২৫ নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশ২৪অনলাইন
জানুয়ারি ২৫, ২০২৩ ০০:০০
২৬ বার পঠিত

দেশের জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) ২৫ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়ন করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এর মধ্যে খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজার মনিটরিং জোরদারের বিষয়টি রযেছে। সেই সঙ্গে কেবল প্রয়োজনীয় প্রকল্প গ্রহণ করার কথা বলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ জানুয়ারি) তিন দিনব্যাপী বার্ষিক জেলা প্রশাসক সম্মেলন উদ্বোধনকালে এ নির্দেশনা দেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের (পিএমও) শাপলা হলে এ সম্মেলন হচ্ছে। খবর বাসস

২৫ দফার নির্দেশনা হচ্ছে- ১. খাদ্য উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা হিসেবে কোনো জমি যেন অনাবাদি না থাকে, সে জন্য গ্রহণ করতে হবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা। ২. নিজেরা বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার সঙ্গে জনগণকে এ ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করতে হবে। ৩. সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে যথাযথ সেবা পাওয়াটা নিশ্চিত করতে হবে। ৪. কৃচ্ছ্রতা সাধন করতে হবে সরকারি তহবিল ব্যবহারে। ৫. জোরদার করতে হবে এসডিজি স্থানীয়করণের আওতায় নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে তৎপরতা । ৬. গৃহহীনদের জন্য গৃহনির্মাণ, ভূমিহীনদের কৃষি খাসজমি বন্দোবস্তসহ সব সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচিতে প্রকৃত অসহায়, দুস্থ ও সুবিধাবঞ্চিত প্রান্তিক শ্রেণির মানুষের সুযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। তাছাড়া জমি ও ঘর প্রদানের পাশাপাশি কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। ৭. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠদান কার্যক্রমের মানোন্নয়নে উদ্যোগী হতে হবে। বিশেষ মনোযোগ দিতে হবে অপেক্ষাকৃত দুর্গম এলাকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দিকে। ৮. কমিউনিটি ক্লিনিক ও ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ কেন্দ্র কার্যকর রাখতে প্রতিনিয়ত তত্ত্বাবধান করতে হবে। ৯. শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক বিকাশে তাদের জন্য প্রত্যেক এলাকায় সৃজনশীল চর্চা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ও ক্রীড়া সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। ১০. নাগরিকদের সুস্থ জীবনাচারের জন্য জেলা ও উপজেলায় পার্ক, খেলার মাঠ প্রভৃতির সংরক্ষণ এবং নতুন পার্ক ও খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। ১১. চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের সর্বোচ্চ সুবিধা নিতে উচ্চ প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ শ্রমশক্তি গড়ে তুলতে কাজ করতে হবে। ১২. সরকারি দপ্তরের ওয়েবসাইটে নিয়মিত নিজ নিজ জেলার সরকারের উন্নয়ন, অগ্রগতি ও সাফল্য তুলে ধরে হালনাগাদ করতে হবে। ১৩. জনসাধারণের মধ্যে তথ্য-প্রযুক্তি ও ইন্টারনেটের নিরাপদ ব্যবহার একদিকে যেমন নিশ্চিত করতে হবে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অপব্যবহার, গুজব ইত্যাদি রোধে উদ্যোগ নিতে হবে। ১৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দিকে নজরদারি জোরদার করতে হবে যেন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই অবনতি না হয়। ১৫. মিথ্যা গুজব ছড়িয়ে সম্প্রদায়িক সম্প্রীতি কেউ যেন বিনষ্ট করতে না পারে, সে বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। ১৬. মাদক, জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস দূর করতে হবে। নিরীহ ধর্মপ্রাণ মানুষ যেন জঙ্গিবাদে না জড়ায়, সে জন্য সচেতনতা সৃষ্টির উদ্যোগ নিতে হবে। ১৭. বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং, খাদ্যে ভেজাল, নকল পণ্য তৈরি ইত্যাদি অপরাধ প্রতিরোধে নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে। ১৮. বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন, কৃত্রিম সংকট রোধ ও পণ্যমূল্য স্বাভাবিক রাখতে বাজার মনিটরিং কার্যক্রম জোরদার করতে হবে। ১৯. সরকারি জমি, নদী, বনভূমি, পাহাড়, প্রাকৃতিক জলাশয় প্রভৃতি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। ২০. নিয়মিত নদী ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে নাব্যতা বৃদ্ধি করতে হবে। স্লুইচগেট বা অন্য কোনো কারণে জলাবদ্ধতার যেন সৃষ্টি না হয়, সে দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। ২১. বজ্রপাতপ্রবণ এলাকায় তালগাছ রোপণ করতে হবে। ২২. পর্যটন শিল্পের বিকাশ এবং রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।

২৩. জেলার নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষা এবং জেলাভিত্তিক বিখ্যাত পণ্যের প্রচার, বিপণন এবং ব্রান্ডিং করতে হবে। ২৪. সেবার মনোভাব নিয়ে আর জনস্বার্থকে সবকিছুর ঊর্ধ্বে রেখে সরকারি সব দপ্তর যেন পরিচালিত হয়, সে জন্য জোরদার করতে হবে মনিটরিং। ২৫. জেলার সব সরকারি দপ্তরের কার্যক্রম যথাযথ সমন্বয়ের মাধ্যমে ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত, সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ তথা ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’ বিনির্মাণে ব্রতী হতে হবে।

এমকে



মন্তব্য