ঢাকা - আগস্ট ১০, ২০২০ : ২৬ শ্রাবণ, ১৪২৭

ঈদে খাদ্য বিষয়ক সচেতনতা

নিউজ ডেস্ক
আগস্ট ০১, ২০২০ ০৬:৩৮
১৮ বার পঠিত

করোনাকালের ঈদে দৃশ্যমান জমানো চর্বি বাদ দিয়ে কম তেলে মাংস রান্না করতে হবে। রান্নার আগে সম্ভব হলে ৫-১০ মিনিট সিদ্ধ করে পানি ঝড়িয়ে নিলে চর্বির অংশ অনেকটা কমে যায়। উচ্চ তাপে রান্না করতে হবে। মাংসের সঙ্গে ভিনেগার, টকদই, পেঁপে বাটা ও লেবুর রস ইত্যাদি ব্যবহার করতে পারেন। এতে চর্বির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব।

যাদের উচ্চরক্তচাপ জনিত সমস্যা আছে বা কো-মরবিডিটি আছে তারা মাংস ভক্ষণ একেবারেই না এড়াতে পারলে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিয়ে অল্প পরিমাণ বা ১-২ টুকরো খেতে পারেন। সেক্ষেত্রে মাংস রান্নায় সবজি যেমন কাঁচা পেঁপে, লাউ, চালকুমড়া, টমেটো কিংবা মাশরুম ব্যবহার করতে পারেন। মাংসের সঙ্গে সবজি মিশিয়ে কাটলেট বা চপ করেও খেতে পারেন। একবারে ভুঁড়ি ভোজ না করে অল্প অল্প করে বারেবারে খাওয়া উচিত। কোরবানির সময় একবারে বেশি মাংস রান্না করে সেটা বারবার জ্বালিয়ে ঝুরি করে খাওয়া স্বাস্থ্যগত দিক থেকে এটি ক্ষতিকর বলে এড়িয়ে চলতে হবে। প্রতিবেলায় মাংসের ৩/৪ পদ না রেখে একবার একবার একটি একটি করে পদ নির্বাচন করুন।

গুরুপাক খাবারের সাথে শসা, লেবু, টমেটো ইত্যাদির সালাদ রাখা যেতে পারে। তিনবেলা ভারি খাবার না খেয়ে যে কোনো একবেলা হালকা খাবার যেমন সবজির স্যুপ, সবজি ও রুটি রাখতে পারেন। প্রত্যেক প্রধান খাবারের ২০ থেকে ৩০ মিনিট পূর্বে কুসুম গরম পানি পান করতে পারেন যা বিপাক ক্রিয়ার হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। খাবার কিছু সময় পর লেবু পানি বা টকদই খেলে তা হজম প্রক্রিয়া বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। অনেকে নানা সোডা পানি বা সফট ড্রিংকস পান করে। এগুলোর পরিবর্তে চিনি ছাড়া নানা মৌসুমি ফলের জুস গ্রহণ উত্তম। প্রতিবার মাংস খাওয়ার পর গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য এক টুকরো আদা চিবিয়ে খেতে পারেন। প্রতিদিন মধ্য সকাল বা বিকেলের নাস্তায় টক জাতীয় মৌসুমি ফল রাখুন। এটা রোগ প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করবে।

দিনে দুই একবার আদা, দারুচিনি, লবঙ্গ, তেজপাতা, এলাচ ইত্যাদি মসলা চা যেমন ক্লান্তিভাব কাটাতে সাহায্য করবে তেমনি শরীরের বিপাক হার বৃদ্ধিতে সাহায্য করবে পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধে সাহায্য করবে। পানীয় হিসেবে ডিটক্স ওয়াটার ঈদের এই সময় খুব কার্যকর ভূমিকা পালন করবে। মাংস খাওয়ার সময় ঝোল বাদে খাওয়া ভালো। আবার ভুনা মাংসের পরিবর্তে কম তেলে গ্রিল, বারবিকিউ বা কাবাব করেও খাওয়া যায়। ঈদে বাইরের সব খাবার এড়িয়ে চলুন। অবশ্যই সকাল বিকেল ব্যায়াম করে বা হেঁটে অতিরিক্ত ক্যালরি বার্ন করার চেষ্টা করুন।



মন্তব্য