ঢাকা - আগস্ট ১০, ২০২০ : ২৬ শ্রাবণ, ১৪২৭

প্রতিদিন ১২ হাজার মানুষের মৃত্যুর শঙ্কা

নিউজ ডেস্ক
জুলাই ১০, ২০২০ ০৭:১৭
২৮ বার পঠিত

করোনাভাইরাস মহামারীতে আক্রান্ত হয়ে যত মানুষ না মৃত্যুবরণ করবে, তার চেয়ে বেশি মানুষ মারা যাবে ক্ষুধার যন্ত্রণায়। কোভিড-১৯ এর কারণে চলতি বছরের শেষ নাগাদ প্রতিদিন ১২ হাজার মানুষ খাবার না পেয়ে মারা যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী ক্ষুধা মহামারী সৃষ্টি হবে। বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে দাতব্য সংস্থা অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, খাদ্য সংকটে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এমন দশটি দেশ হচ্ছে- ইয়েমেন, কঙ্গো, আফগানিস্তান, ভেনেজুয়েলা, পশ্চিম আফ্রিকান সাহেল, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ সুদান, সিরিয়া, সুদান এবং হাইতি। বিশ্বের দশটি ক্ষুধার হটস্পট দেশগুলোর মধ্যে ভেনেজুয়েলা এবং দক্ষিণ সুদানে খাদ্য সমস্যা সবচেয়ে মারাত্মক এবং মহামারির ফলে আরো খারাপ হচ্ছে।

এর কারণ হিসেবে অক্সফাম জানিয়েছে, করোনার প্রাদুর্ভাবের জেরে গণহারে চাকরি হারানো, খাবার উৎপাদন কমে যাওয়া, ত্রাণ সহায়তা হ্রাস পাওয়া এবং পরিবহনে বাধা এই সমস্যাটিতে নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে আসবে; সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবক্ষয় তৈরি হবে। চলতি বছরের শেষে প্রায় ১২ কোটি ২০ লাখ মানুষ নিদারুণ খাদ্যাভাবে ভুগতে পারে। ‘ক্ষুধা ভাইরাস’ এর আক্রমণে ক্ষুধার জ্বালায় ভুগবে মাানুষ। করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে প্রতিদিন ১০,০০০ মানুষের মৃত্যুর ঘটে ২০২০ সালের এপ্রিলে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা জানিয়েছে, চলতি বছর শেষের আগেই খাদ্য সংকটে ভোগা মানুষের সংখ্যা বেড়ে ২৭ কোটিতে পৌঁছাতে পারে। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৪ কোটি ৯০ লাখ।

অক্সফ্যামের অন্তর্র্বতীকালীন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর ছেমা ভেরা বলেন, সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন, বৈষম্য এবং একটি ভাঙ্গা খাদ্য ব্যবস্থার প্রভাবের সাথে লড়াই করা লক্ষ লক্ষ খাদ্য উৎপাদনকারী ও শ্রমিককে করোনাভাইরাস ইতিমধ্যে দরিদ্র করে তুলেছে। মধ্য আয়ের দেশ যেমন ভারত, সাউথ আফ্রিকা, ব্রাজিলেও অনেকেই ভঙ্গুর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে গেছে।

অক্সফাম জিবির প্রধান নির্বাহী ড্যানি শ্রীস্কান্দারাজাহ বলেন, করোনার প্রভাবে বিশ্বের লাখো দরিদ্র মানুষকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যের গভীরে ঠেলে দিয়েছে। সরকারগুলো এখন জাতিসংঘ করোনা আবেদন তহবিলে অর্থায়ন করে এবং মহামারি মোকাবিলায় সংঘাতের অবসান ঘটাতে জীবন বাঁচাতে পারে।

এর আগে গত এপ্রিলে অক্সফাম জানায়, করোনা মহামারি বিশ্বজুড়ে ৫০ কোটি মানুষকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিতে পারে। অক্সফামের দৃষ্টিতে করোনার কারণে বিশ্বব্যাপী চলমান অর্থনৈতিক সংকট ২০০৮ সালের বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকটের চেয়েও গভীর।



মন্তব্য