ঢাকা - সেপ্টেম্বর ২৮, ২০২০ : ১২ আশ্বিন, ১৪২৭

একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার

নিউজ ডেস্ক
ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০ ১০:৩৭
১৩৬ বার পঠিত

দেশে শিক্ষা খাতে সরকার নানামুখী উদ্যোগ নিলেও কমাছে না ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার । বরং ৫ বছর ধরে একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে এ হার । শিক্ষার তিন স্তরেই ছেলেদের তুলনায় বেশি ঝরছে মেয়েরা। যারা ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারে না, তারাই ঝরে যায়। মানসম্মত ও জীবনমুখী শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ হার কমে যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা বিস্তার ও উন্নয়নে বৃত্তি, উপবৃত্তি, বিনামূল্যে বই বিতরণসহ নানা সুবিধা বাড়িয়েছে সরকার । ২০১৩ সালে প্রায় ২৬ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে জাতীয়করণ করা হয়েছে। গত বছর ২ হাজার ৭৩০টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধা, চাকরির স্থায়িত্ব ও পেশার প্রতি মর্যাদা বাড়ানো হচ্ছে। তারপরও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থীর ঝরে পড়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

২০০৯ সালে এ ঝরে পড়ার হার ছিল ৪৫.১ শতাংশ। ২০১৪ সালে ২০.৯ শতাংশ, ২০১৫ সালে ২০.৪ শতাংশ , ২০১৬ সালে ১৯.২ শতাংশ, ২০১৭ সালে ১৮.৮৫ শতাংশ ও ২০১৮ সালে এ হার ছিল ১৮.৬ শতাংশ।২০১৯ সালে প্রাথমিকে ঝরে পড়ার হার দাঁড়ায় ১৭.৯ শতাংশ। কিন্তু গত ৫ বছর ধরে ঝরে পড়া শিক্ষার্থীর হার একই বৃত্তে ঘুরপাক খাচ্ছে। মাধ্যমিকে ২০১৮ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ৩৭.৬২ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৩৭.৮১ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৩৮.৩০ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৪০.২৯ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ৪১.৫৯ শতাংশ। অথচ ২০০৯ সালে মাধ্যমিকের ঝরে পড়ার হার ছিল ৫৫.৩১। তার পরের ৫ বছর দ্রুতগতিতে ঝরে পড়ার হার কমলেও গত ৫ বছরে ঝিমিয়ে পড়েছে এ হার। উচ্চ মাধ্যমিকে ২০১৮ সালে ঝরে পড়ার হার ছিল ১৯.৬৩ শতাংশ, ২০১৭ সালে ১৯.৮৯ শতাংশ, ২০১৬ সালে ২০.০৮ শতাংশ, ২০১৫ সালে ২০.৭ শতাংশ এবং ২০১৪ সালে ২১.৩৭ শতাংশ। ২০০৯ সালে এ স্তরেও ঝরে পড়ার হার ছিল ৪২.১১ শতাংশ। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের মতোই পরবর্তী ৫ বছর ব্যাপকভাবে ঝরে পড়ার হার কমলেও গত ৫ বছরে প্রায় একই রয়েছে। বর্তমানে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলছে। এ পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে ২০ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৯ জন শিক্ষার্থী। ২০১৪ সালে এ শিক্ষার্থীরাই পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল। তখন পরীক্ষার্থী ছিল ৩০ লাখ ৯৪ হাজার ২৬৫ জন। এ হিসাবে ১০ লাখ ৪৬ হাজার শিক্ষার্থীর কোনো হদিস নেই। অর্থাৎ ষষ্ঠ থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত এ পাঁচ বছরে সাড়ে ১০ লাখ শিক্ষার্থী ঝরে পড়েছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. সৈয়দ গোলাম ফারুক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শিক্ষাকে জীবনমুখী করতে চায় সরকার। এ জন্য নানা উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। মাধ্যমিক শিক্ষা শেষেও চাকরির নিশ্চয়তা থাকবে। তাতে ঝরে পড়ে অনেকাংশেই কমে যাবে। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিব মো. আকরাম-আল-হোসেন গণমাধ্যমকে বলছেন, একটা পর্যায়ে এসে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার বেশি একটা কমে না। মূলতঃ যারা ভালোভাবে শিক্ষা অর্জন করতে পারে না, তারাই ঝরে যায়। মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হলে এ হার কমে যাবে। এ জন্য প্রাথমিকে রিডিং, রাইটিং ও ম্যাথ অলিম্পিয়াডের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার আরেকটি কারণ দারিদ্র্য। অনেক পরিবার গ্রাম থেকে শহরে মাইগ্রেট করলে আর স্কুলে যায় না। সব স্কুলেই স্কুল ফিডিং চালু করতে যাচ্ছে সরকার । তাতে ঝরে পড়ার হার অনেকাংশেই কমে যাবে।

এমআই



মন্তব্য