ঢাকা - অক্টোবর ০২, ২০২০ : ১৬ আশ্বিন, ১৪২৭

বাংলাদেশে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস পালিত

নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯ ১৯:৩০
২২০ বার পঠিত

বাংলাদেশে যথাযোগ্য মর্যাদা ও শোকের আবহে ১৪ ডিসেম্বর (শনিবার) পালিত হলো শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস। দেশের সর্বত্র অর্ধনমিত রাখা হয় জাতীয় পতাকা। ওড়ানো হয় শোকের প্রতীক কালো পতাকা। দিবসটি পালনে রকম রকম কর্মসূচি হাতে নেয় সরকার, রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন । কর্মসূচির মধ্যে ছিল শহীদদের স্মৃতির উদ্দেশে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, আলোচনা সভা, গান, আবৃত্তি, মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক চলচ্চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা।

দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক বাণী দেন। সকালে ঢাকার মিরপুরে বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রীয় ভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তারা। শ্রদ্ধা জানান আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতারাও।দিনের শুরুতেই মানুষের ঢল নামে রায়ের বাজারে শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ, মিরপুর শহীদ বুদ্ধিজীবী কবরস্থান ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতিস্তম্ভের সামনে। শ্রদ্ধা জানাতে যান বুদ্ধিজীবীদের পরিবারের সদস্যরা। অর্পণ করা হয় পুষ্পার্ঘ্য। দর্শনার্থীদের অশ্রুজলে ভিজে উঠে স্বজনের আনা ভালোবাসার অর্ঘ্য।

জানা গেছে, একাত্তরের ৯ মাস রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের পর দেশের স্বাধীনতার ঊষালগ্নে বাংলার শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যাকাণ্ডে মেতে উঠেছিল পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দোসর নরঘাতক হায়েনার দল রাজাকার, আলবদর, আলশামস ও শান্তি কমিটির সদস্যরা । বাঙালি জাতিকে মেধা-মননশূন্য করতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর আত্মসমর্পণের মাত্র ২ দিন আগে ১৪ ডিসেম্বর এ হত্যাযজ্ঞ চালায় তারা। ফলে জাতি হারায় অসংখ্য মেধাবী সন্তান।

এর আগে দেশের বিশিষ্ট শিক্ষক, সাংবাদিক, চিকিৎসক, প্রকৌশলী, আইনজীবী, শিল্পী, সাহিত্যিক, সংস্কৃতিসেবী ও পদস্থ সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তাসহ বুদ্ধিজীবী এবং বিভিন্ন পেশার কৃতী সন্তানদের ধরে নিয়ে যায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী এবং তাদের দালালরা । পরে মিরপুরের ডোবা-নালা ও রায়েরবাজার ইটভাটায় বিক্ষিপ্তভাবে পড়ে থাকতে দেখা যায় ধরে নিয়ে যাওয়া দেশের মেধাবী সন্তানদের বুলেটবিদ্ধ নিথর দেহ। অনেকের হাত পেছনে বাঁধা ও শরীরজুড়ে ক্ষতচিহ্ন ছিল শহীদদের শরীর জুড়ে। এদেরকে হত্যার আগে চালানো হয়েছিল পৈশাচিক নির্যাতন । এসব মৃতদেহ পাওয়ায় উন্মোচিত হয় ঘাতকদের বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা। এ ঘটনায় বিশ্ববিবেক স্তম্ভিত হয়ে যায়। আর কষ্টের দরিয়ায় ভেসে যায় গোটা জাতি।

দেশ স্বাধীনের ৪৯ বছরেও নিরূপণ করা হয়নি শহীদ বুদ্ধিজীবীদের প্রকৃত সংখ্যা । বাংলাপিডিয়ায় তথ্যানুযায়ী একাত্তরে শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে ছিলেন ৯৯১ শিক্ষাবিদ, ১৩ সাংবাদিক, ৪৯ চিকিৎসক, ৪২ আইনজীবী এবং ১৬ জন শিল্পী, সাহিত্যিক ও প্রকৌশলী।

এমআই



মন্তব্য