ঢাকা - অক্টোবর ০১, ২০২০ : ১৬ আশ্বিন, ১৪২৭

আওয়ামী লীগের তৃণমুলে সম্মেলন, জনসম্মুখে আসছে কোন্দল ও গ্রুপিং

নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ ১৮:১৩
১৩৭ বার পঠিত

বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলায় সম্মেলনকে ঘিরে জনসম্মুখে আসছে তৃণমুলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিং । এতে বিব্রতর পরিস্থতি সৃষ্টি হয়েছে দলের ভেতরে। এ ঘটনায় বেশ হতভম্ব কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সমস্যা সমাধানে কার্যকর উপায় খুঁজছেন দলটির নীতিনির্ধারকরা- গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর থেকে পাওয়া গেছে এ তথ্য।

জানা গেছে, একটনা ৩ মেয়াদে ক্ষমতায় আছে আওয়ামী লীগ। এ কারণে দেশের রাজনীতির মাঠে আধিপত্যের বিস্তার ঘটেছে দলের নেতা-কর্মীদের। মাঠে তাদের কার্যকর প্রতিপক্ষ নেই বললেই চলে। এ অবস্থায় দলীয় পদ-পদবী বাগে নিতে ও আধিপত্য দখলে নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে নেতা-কর্মীরা। করছেন গ্রুপিং, বাড়ছে আভ্যন্তরীণ কোন্দল।

গেল ৭ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয় চট্টগ্রাম জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন। সম্মেলন চলাকালে মঞ্চে থাকা নেতাদের সামনেই সংঘর্ষে জড়ান মিরসরাই উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আতাউর রহমানের ও মিরসরাই উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান এবং উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহসভাপতি গিয়াসউদ্দিনের অনুসারীরা। মৌলভীবাজার সদর উপজেলায় আওয়ামী লীগের সম্মেলন চলাকালে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপ। ২ ডিসেম্বর ঘটে এ ঘটনা। এর আগে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুটি গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এ সময় পুলিশ লাঠিচার্জ করে সংঘর্ষকারীদেরকে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে শেষমেশ পুলিশ টিয়ার শেল ও রবার বুলেট নিক্ষেপ। এ ঘটনায় ৪ পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হন। ৩০ নভেম্বর ঘটে এ ঘটনা।একদিন আগে ২৯ নভেম্বর চট্টগ্রামের সীতাকু- উপজেলা সম্মেলনেও দুপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে কমপক্ষে ১২ জন আহত হয়। তারও ৯দিন আগে ২০ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হয় নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন। সম্মেলনে আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টায় সংঘর্ষে লিপ্ত হয় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী ও নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদউল্লাহ খান সোহেলের অনুসারীরা। চলে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া। এ সময় সংঘর্ষে প্রায় শতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের সামনেই ঘটে এ ঘটনা।মাঝে ২৫ নভেম্বর কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলনকে কেন্দ্র করে মাঠ দখল নিয়ে আওয়ামী লীগের দুগ্রুপের নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়।

অন্যদিকে, অনেকটা নির্ঝঞ্ঝাটভাবেই শেষ হয়েছে বেশ কিছু জেলা-উপজেলা ও মহানগর সম্মেলন । খুলনা জেলা ও মহানগর, বরিশাল মহানগর, নড়াইল, বগুড়া ও বাগেরহাট জেলাসহ বেশ কিছু ইউনিটে আওয়ামী লীগের সম্মেলনে নেতাকর্মীরা ছিলেন উৎসবমুখর।

সংঘর্ষের ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন দাবি করেছেন দলের নীতিনির্ধারক পর্যায়ের বেশ কয়েক জন নেতা। আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান গণমাধ্যমকে বলেছেন- আওয়ামী লীগ একটি বড় দল। এখানে নেতৃত্বের প্রতিযোগিতাও বেশি। যেসব এলাকায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, সেগুলো নিছকই বিচ্ছিন্ন ঘটনা। তবে যারা ঘটনা ঘটিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। জানান, স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীকে সামনে রেখে ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশত বার্ষিকীর দ্বারপ্রান্তে থাকা আওয়ামী লীগ চাচ্ছে দেশের সব ইউনিটে শক্তিশালী সংগঠন হিসেবে দলকে প্রতিষ্ঠা করতে। সে লক্ষ্যেই ঢেলে সাজানো হচ্ছে সব অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন।

এমআই



মন্তব্য