ঢাকা - ডিসেম্বর ১২, ২০১৯ : ২৮ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬

হোটেল ভাড়া নিয়ে প্রতারণা!

নিউজ ডেস্ক
ডিসেম্বর ০২, ২০১৯ ০৮:৩৮
১৪৫ বার পঠিত

অনলাইনে পাঁচ তারকা হোটেলের রুম ভাড়া করে গুনেছিল মোটা অংকের টাকা। অথচ যে হোটেলে তারা বুকিং দিয়েছিলেন, সেখানে ওই নামে কোনো হোটেলই নেই। গত আগস্টের এ ঘটনায় ভুক্তভোগীদের একজন লিংকনশায়ারের বাসিন্দা মার্ক মোল্ড (৩৩)। তিনি লাভহলিডেস নামে একটি ট্রাভেল কোম্পানির মাধ্যমে ৩ হাজার ৪৬৫ পাউন্ডের বিনিময়ে (৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা প্রায়) দুই সপ্তাহের জন্য মিশরের একটি পাঁচ তারকা হোটেলে রুম ভাড়া করেন।

অনলাইনের বিজ্ঞাপন অনুসারে ক্রিস্টাল অ্যাক্যুয়া পার্ক অ্যান্ড হোটেলটি সৈকতের কাছে, ওয়াটার পার্কসহ নানা ধরনের বিলাসবহুল সুবিধা থাকার কথা। ভ্রমণে মার্ক আর তার স্ত্রী সারাহর সঙ্গী ছিলেন বান্ধবী নাটালি বার্নস এবং তার দুই শিশুসন্তান কাইজিয়া ও টাই। পরিকল্পনামাফিক নির্ধারিত দিনে মিশরের হুরঘাদা শহরে উপস্থিত হন তারা। কিন্তু বাস থেকে নেমেই প্রচণ্ড রকম ধাক্কা খান সবাই। ক্রিস্টাল অ্যাক্যুয়া পার্কের বদলে মার্কদের নিয়ে যাওয়া হয় প্যারাডাইস গোল্ডেন ৫ নামে একটি হোটেলে।

প্যারাডাইস হোটেলটির রুমগুলো ছিল একেবারে অপরিচ্ছন্ন, ধুলাবালিতে ভরা, বিছানার চাদর ছেঁড়া, প্রসাবের গন্ধ, বাথরুমের কমোড ভাঙা, গোসল করতে গেলে পুরো বাথরুম পানিতে ভরে যাচ্ছে, সুইমিংপুলগুলোও ছিল ময়লা-আবর্জনায় ভরপুর। বারের সিলিং খুলে পড়ছিল, সোফার কাপড় ছেড়া, পর্দা নোংরা আর ছেঁড়া, খাবারের মান জঘন্য। তাদের লাইফগার্ডরা সাঁতারও জানেন না। কারণ, আসল লাইফগার্ডরা চলে গেছেন, এখন সেখানে আছেন শুধু বাগান-মালিরা। কোনো রুমেই এসি চলে না। আরও অনেক সাধারণ সেবাও বন্ধ। কারণ হোটেলটি আসলে ভেঙে ফেলা হচ্ছিল। এটি কোনোভাবেই পর্যটক থাকার মতো পরিস্থিতিতে ছিল না।

দ্রুতই ট্রাভেল কোম্পানিতে অভিযোগ করেন মার্ক মোল্ড। পরে জানা যায়, তারা যে হোটেলটি ভাড়া করেছেন, আসলে ক্রিস্টাল অ্যাক্যুয়া পার্ক নামে সেখানে কোনদিনই কোনো হোটেল ছিল না। পুরো বিজ্ঞাপনটাই ভুয়া। সুদূর ইংল্যান্ড থেকে এসেছেন, হুট করে ফিরেও যাওয়া যাবে না। এজন্য পাশের আরেকটি হোটেলে যান মার্ক ও তার সঙ্গীরা। কিন্তু কেমপিনস্কি হোটেল সোমা বে নামে ওই হোটেলের লোকজন তাদের কাছে আট হাজার পাউন্ড (৮ লাখ ৭৬ হাজার টাকা প্রায়) ডিপোজিট দাবি করে বসেন।

মার্ক বলেন, আমাদের টাকা দিতে বাধ্য করা হয়। নাহয় রাস্তায় ফেলে রাখা হতো। সব ধরনের বিলের টাকা আগাম দেওয়া হলেও হোটেলটিতে ভ্রমণের পুরো সময়জুড়ে খাবার ও পানির জন্য তাদের আলাদাভাবে বিল পরিশোধ করতে হয়েছে। ফেরার পথে মার্কদের বাস ভুল পথে চলে যায় এবং তাদের বাধ্য হয়েই ট্যাক্সি ভাড়া করে বিমানবন্দরে পৌঁছাতে হয়। অসংখ্যবার অভিযোগের পর কেমপিনস্কি হোটেল কর্তৃপক্ষ অবশেষে তাদের ডিপোজিটের টাকা ফিরিয়ে দিয়েছে। আর ট্রাভেল কোম্পানি লাভহলিডেসও ৪ হাজার ৯৪২ পাউন্ড ক্ষতিপূরণ দিয়েছে।



মন্তব্য