ঢাকা - নভেম্বর ১৫, ২০১৯ : ১ অগ্রহায়ণ, ১৪২৬

খোকাকে নিয়ে আখতারুজ্জামানের আবেগঘন স্ট্যাটাস

নিউজ ডেস্ক
নভেম্বর ০৪, ২০১৯ ১৯:০৪
২৯ বার পঠিত

গুরুতর অসুস্থ হয়ে নিউইয়র্কের মানহাটানে মেমোরিয়াল স্লোন ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এবং অবিভক্ত ঢাকার সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকাকে নিয়ে ফেসবুক একটি আবেগময় স্ট্যাটাস দিয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) মো. আখতারুজ্জামান।

তার স্ট্যাটাসটি পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে দেয়া হলো- ‘খোকা তুমি ফিরে এস’। খোকা মনে রেখ নায়ক হতে হলে ভয়কে জয় করতে হবে। আমাদের নেতা সাদেক হোসেন খোকা সুদূর মার্কিন মুলুকে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে আজকে হেরে যাচ্ছেন। প্রতিটি মানুষের জীবনের অতি স্বাভাবিক পরিসমাপ্তির নাম মৃত্যু।

খোকা সাহেবের জীবনেও সেই পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে যা কোনো অসম্মানের নয়। কিন্তু একজন রাজনৈতিক নেতা খোকার মৃত্যু বেদনাদায়ক এবং রাজনৈতিক পরাজয়। খোকার তো এভাবে পরাজিত হওয়ার কথা ছিল না। তিনি শুধু রাজনৈতিক নেতাই ছিলেন না, তিনি ছিলেন এ দেশের মহান মুক্তিযোদ্ধা, যার অবদান আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ।

খোকার মৃত্যু বিদেশে হতে পারে সেটি কোনো অসম্মানের নয়। কিন্তু মৃত্যুর পর খোকার মরদেহ বাংলাদেশের মাটিতে দাফন হবে না এটি মেনে নেয়া যায় না। আজকে মৃত্যুর মুখোমুখী হয়ে খোকা সাহেবের এই যে আকুতি, এই যে দুঃখ্য বেদনা, দেশে তার মরদেহ নিয়ে আসার অনুনয় বিনয় বা ছলচাতুরি, তার তো কোনো প্রয়োজন নাই এবং ছিল না।

খোকা তো এখনও বেঁচে আছে এবং ডাক্তার তাকে আরও তিন সপ্তাহ বেঁচে থাকবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। তাহলে দেশের মাটিতে দাফনের আকুতি কেন? খোকা সাহেব কি পারেন না বা পারলেন না হাসপাতাল থেকে বের হয়ে বিমানের টিকিট নিয়ে সোজা ঢাকা চলে আসতে? জনগণ দেখ তো কে তাকে বাধা দেয়?

অপরাধী মন সব সময় দুর্বল থাকে। যে খোকাকে জনগণ ২০০১ সাল পর্যন্ত চিনতো ও জানতো সেই খোকার পরিবর্তন হয়ে গেছে ক্ষমতার রাজনীতি করার পরে। মুক্তিযোদ্ধা খোকার অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়ে গেছে ঢাকা মহানগরের মেয়র হয়ে অন্যায় এবং অপরাধের সঙ্গে মিশে গিয়ে। যে খোকাকে জনগণ ভালোবাসতো সেই খোকা জনগণের কাছে ঘৃণিত হয়ে গিয়েছিল মেয়রের ক্ষমতা অপব্যবহার ও অপপ্রয়োগের কারণে। যার মাশুল দিতে হচ্ছে দেশের মাটির জন্য মৃত্যুর শয্যায় কেঁদে কেঁদে।

এখনও সময় আছে। খোকাকেই এখন সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অপরাধীর মত বিদেশের মাটিতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করবে নাকি বীরের বেশে দেশে এসে এমন কি জালিমের কারাগারে হলেও নিজের স্বাধীন করা দেশে মৃত্যুকে বীরের মত আলিঙ্গন করে নেবে। জনগণ খোকাকে ক্ষমা করে দিয়েছে এবং এখনও খোকাকে ভালবাসে। যা ইতিমধ্যেই জনগণ প্রকাশ করেছে।

তাই খোকাকে বলবো-হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে পরাজিত ও কাপুরুষের মত মৃত্যুকে না মেনে নিয়ে ফিরে আসো বন্ধু। দেখ জনগণ তোমার পাশে থাকে কিনা। বন্ধু খোকাকে বলছি- ভুলে যেও না সেই সাহসী বীরদের কথা। ভয়ের পরেই জয় থাকে। তোমার এখন কিসের ভয় বন্ধু। আসো, চলে আসো, দেশে আসো, জনগণ তোমাকে শেষ বিদায় জানাতে অপেক্ষায়। জনগণ জীবিত খোকাকে দেশের মাটিতে দেখতে চায়। অপরাধী খোকার মৃতদেহ জনগণ দেশের মাটিতে দেখতে চায় না।

খোকাকে জনগণ ভালবাসে তার প্রমাণ জনগণ জীবন্ত খোকাকে দেখতে চায়। ডাক্তারের আশ্বাস মতো খোকা হয়তো আরও সপ্তাহ দুয়েক বাঁচবে। তাই খোকার কাছে আমাদের বিনীত আহ্বান- অন্তত শেষ একটি সপ্তাহ দেশের মাটিতে কাটাক। যদি হয় সেটি জালিম শাসকের জেলখানাও হয়, তবু তো সেটা বাংলাদেশের মাটিতে। খোকা তুমি ফিরে এসো।



মন্তব্য