ঢাকা - অক্টোবর ১৮, ২০১৯ : ২ কার্তিক, ১৪২৬

ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ড্রোন

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ১০, ২০১৯ ২১:০৯
১৪ বার পঠিত

দ্য ন্যাশনাল ইন্টারেস্ট

মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েনের জন্য মার্কিন সামরিক বাহিনীতে বোমা হামলার জন্য এফ-১৫ই যুদ্ধবিমান, গোয়েন্দা যুদ্ধবিমান এফ-২২ ও এফ-৩৫ এবং বোমারু বিমান বি-৫২ রয়েছে।একদিকে যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবসহ এর মিত্রদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। অন্যদিকে এই অঞ্চলে আমেরিকান যুদ্ধ বিমানগুলির ব্যাপারে ইরান ও ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হাউছি বিদ্রোহীদের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে তা বিবেচনা করার মতো বিষয়।

পেন্টাগন পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে একটি বিস্তৃত নজরদারি ব্যবস্থা বজায় রেখেছে যার মধ্যে উপগ্রহ, ড্রোন এবং স্থল-সমুদ্র ভিত্তিক রাডার রয়েছে। ২০১৯ সালের জুনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেভি গ্লোবাল হক ড্রোনটি ইরানের আকাশে ঢুকে পড়লে তা ইরান ভূপাতিত করে। তবে এটি সম্ভব যে অন্যান্য গোয়েন্দা ড্রোনগুলি অনেক উঁচুতে উড়ে যায় তবে গোপন গোয়েন্দা ড্রোনগুলো বেশি উঁচুতে উড়তে পারে না।

২০১০ সালে মার্কিন বিমান বাহিনী আরকিউ-১৭০ সেন্টিনেল স্টিলথ স্পাই ড্রোন মোতায়েনের জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি বিমানবন্দরে জরিপ করেছিল। সাংবাদিক জো ট্র্যাভিথিক তথ্য ফ্রিডম অফ ইনফরমেশন অ্যাক্টের মাধ্যমে ২০১০ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর সরকারের গোপন নথিপত্র পেয়েছিলেন। প্রকাশিত সেসব নথিপত্র অনুসারে বিমান বাহিনী কর্তৃক যুদ্ধে বিমান হামলা পরিচালনার নির্দেশনা দিতে কিছু ঘাঁটি স্থাপনের জন্য ‘প্রাক-স্থাপনার স্থান সমীক্ষা’ নিয়ে একটি অভ্যন্তরীণ স্মারকলিপি প্রচার করেছিল। আমিরাতের আল ধাফরা বিমানবন্দরে স্যাটেলাইট নিয়ন্ত্রিত আরকিউ-১৭০ স্থাপনের জন্য সমীক্ষাটি পরিচালনা করা হয়েছিল।

২০১৯ সালে আমেরিকান এফ-২২, এফ-৩৫, এফ-১৫ই ও অন্যান্য যুদ্ধবিমানগুলিকে মোতায়েন করা হয় আল ধাফরা বিমানবন্দরে। ২০১৯ সালের জুনে ইরান যে এমকিউ-৪সি ড্রোনটি ভূপাতিত করেছিল, সে ড্রোনটিও আল ধাফরা বিমানবন্দর থেকেই উড্ডয়ন করেছিল। সংযুক্ত আরব আমিরাতে আরকিউ-১৭০ মোতায়েনের আগেই ব্যস্ত ছিল বিমান বাহিনীর ছোট একটি দল। নেভাদার প্রত্যন্ত টোনোপাতে অবস্থিত একটি যৌথ বিমান বাহিনী ও সিআইএ ইউনিট দ্বারা নজরদারির জন্য ৩০তম অভিযান পরিচালিত হয়েছিল। সম্ভবত ২০০০ সালের শুরুর দিকে লকহিড মার্টিন বিমান বাহিনীর জন্য নির্মিত প্রায় ৩০টি আরকিউ-১৭০ দ্বারা গোটা অভিযানটি পরিচালনা করা হয়েছিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন ২০০৩ সালে ইরাকে আগ্রাসনের সময় ইরাকে গুপ্তচরবৃত্তি করতে সহায়তা করেছিল সীমান্তের নিরাপত্তা প্রহরীরা। ২০০৭ সালে এক সাংবাদিক দ্বারা কান্দাহার বিমান ঘাঁটির একটি ব্যাটের আকারের ভিন্নধর্মী ড্রোনের ছবি তোলেছিল। এসবের মাধ্যমেই ২০০৯ সালে বিমান বাহিনী সীমান্তের নিরাপত্তা প্রহরার অবস্থা জেনেছিল, তবে কোনো বিবরণ প্রকাশ করেনি। ২০১১ সালের মে মাসে নেভি সিলরা পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের আঙ্গিনায় হামলা চালিয়ে আল-কায়েদার এই নেতাকে হত্যা করে। লাদেনের নিহত হওয়ার পরে মাথার ওপর দিয়ে একটি আরকিউ-১৭০ প্রদক্ষিণ করেছিল বলে জানা গেছে।

সম্ভবত ২০১১ সালের ডিসেম্বরে দক্ষিণ আফগানিস্তানের কান্দাহার থেকে উড়ে আসা ৬০ ফুট প্রস্থের প্রহরী ড্রোনগুলির একটি ইরান-পাকিস্তান সীমান্তে বিধ্বস্ত হয়েছিল এবং ইরানী বাহিনী ড্রোনটিকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল। সেই গোয়েন্দা ড্রোনটি সম্ভবত তেহরানের সন্দেহজনক পারমাণবিক অস্ত্র কর্মসূচির উপর নজরদারি করছিল।

ইরানি প্রকৌশলীরা বিধ্বস্ত আরকিউ-১৭০ নিয়ে গবেষণা করেছেন এবং দ্রুত রাডার ফাঁকি দিতে সক্ষম ড্রোনটির একটি অশোধিত অনুলিপি তৈরি করেছেন। ২০১০ সালের ৭ অক্টোবর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিমান বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দলের সাথে মার্কিন বিমান বাহিনীর একটি শক্তিশালী প্রতিনিধি দল সাক্ষাত করেছে। মার্কিন বিমান বাহিনীর প্রতিনিধি দলটিতে মার্কিন তৈরি প্রিডেটর ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান পরিচালনাকারীরাও ছিল।

জরিপ ও বৈঠক স্পষ্টতই আল ধাফরা থেকে গোয়েন্দা ড্রোনদের ওড়ার পথ প্রশস্ত করেছিল। তবে ইরানের আশেপাশের মার্কিন বাহিনীগুলির এসব ড্রোন দ্রুতই ইরানের নিরাপত্তার জন্য একটি বড় সমস্যা হয়ে ওঠে। তেহরানের বিমান বাহিনী ইরানের বিমান বন্দরের কাছাকাছি আমেরিকান ড্রোনকে আটকাতে শুরু করে। ২০১২ সালের নভেম্বরে ইরানের একটি এস-২৫ যুদ্ধবিমান একটি এমকিউ-১ প্রিডেটারের দিকে গুলি চালিয়েছিল। তবে গুলিটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়েছিল। ২০১৩ সালের মার্চে ইরানের এফ-৪ যুদ্ধবিমান অন্য একটি ড্রোনকে চলাচলে বাধা দিয়েছিল। তবে একটি এফ-২২ দ্বারা তাড়া করার পর ১৯৬০ সালের ভিনটেজ এফ-৪ নীচে পিছলে পড়ে যায়।

২০১৯ সালে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র যখন একটি এমকিউ-৪সিকে আকাশ থেকে ছিটকে ফেলেছিল তখন গোয়েন্দা ড্রোনের প্রয়োজনীয়তা আরও বেশি জরুরি হয়ে ওঠেছিল। ড্রোনটি ভূপাতিত হবার পরে রাডার ফাঁকি দিয়ে উড়তে সক্ষম এমন আমেরিকান ড্রোন বিস্ফোরকসহ ইরানের চারপাশে উড়ছে।



মন্তব্য