ঢাকা - অক্টোবর ১৮, ২০১৯ : ২ কার্তিক, ১৪২৬

সামাজিক নিরাপত্তায় এগিয়ে বাংলাদেশ

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ১০, ২০১৯ ১২:৩৩
৪৪ বার পঠিত

দারিদ্র্য বিমোচন এবং বৈষম্য কমাতে জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির উপকারভোগী বাড়িয়েছে সরকার। নতুন করে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে আরও ১৪ লাখ উপকারভোগী সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় আসছে। ২০১৯-২০ সালের বাজটে এ খাতে ৭৪ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যা মোট বাজেটের ১৪ দশমিক ২১ শতাংশ এবং জিডিপির ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ। ২০১৮-২০১৯ অর্থ বছরে এ খাতে বরাদ্দ ছিল ৬৪ হাজার ৪০৪ কোটি টাকা।

মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য সম্মানী ভাতা ১০ হাজার থেকে বাড়িয়ে ১২ হাজার টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। বয়স্ক ভাতাভোগীর সংখ্যা ৪০ লাখ থেকে ৪৪ লাখে উন্নীত করা হয়েছে । বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতাভোগী নারীর সংখ্যা ১৪ লাখ থেকে ১৭ লাখে উন্নীত হয়েছে। সব অসচ্ছল প্রতিবন্ধীদের ভাতা দেওয়ার লক্ষ্যে ভাতাভোগীর সংখ্যা ১০ লাখ থেকে ১৫ লাখ ৪৫ হাজারে উন্নীত করা হয়েছে। নতুন করে পাঁচ লাখ ৪৫ হাজার সুবিধাভোগী বেড়েছে।

প্রতিবন্ধী ছাত্রছাত্রীদের উপবৃত্তির সংখ্যা ৯০ হাজার থেকে এক লাখে উন্নীত করা হয়েছে। উপবৃত্তির হার বাড়িয়ে প্রাথমিক স্তরে ৭০০ টাকা থেকে ৭৫০ টাকা, মাধ্যমিক স্তরে ৭৫০টাকা থেকে ৮০০টাকা এবং উচ্চ মাধ্যমিক স্তরে ৮৫০ টাকা থেকে ৯০০ টাকা করা হয়েছে। সব হিজড়াকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আতওতায় এনে তাদের জীবনমান উন্নয়ন করতে উপকারভোগীর সংখ্যা ছয় হাজার জনে উন্নীত করা হচ্ছে। বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর উপকারভোগীর সংখ্যা ৬৪ হাজার থেকে ৮৪ হাজারে বৃদ্ধি করছে সরকার। ক্যান্সার, কিডনি, লিভার সিরোসিস, স্ট্রোকে প্যারালাইজড ও জন্মগত হৃদরোগীদের আর্থিক সহায়তা কর্মসূচির উপকারভোগীর সংখ্যা ১৫ হাজার থেকে ৩০ হাজারে উন্নীত করা হচ্ছে।

চা শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির উপকারভোগীর সংক্যা ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজারে বৃদ্ধি করেছে সরকার। দরিদ্র মায়েদের জন্য মাতৃত্বকালীন ভাতাভোগীর সংখ্যা সাত লাখ থেকে সাত লাখ ৭০ হাজার জনে উন্নীত করা হচ্ছে। কর্মজীবী ল্যাকটেটিং মাদার সহায়তার আওতায় ভাতাভোগীর সংখ্যা দুই লাখ ৫০ হাজার থেকে দুই লাখ ৭৫ হাজারে বৃদ্ধি করা হচ্ছে।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে বয়স্কভাতা খাতে জন প্রতি মাসিক ২৫০ টাকা হারে ২০ লক্ষ বয়স্ক ব্যক্তি/ উপকারভোগীর জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬০০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তা ৪০ লক্ষ উপকারভোগীর জন্য জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে বাজেট বৃদ্ধি পেয়ে ২৪০০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। ২০০৮-০৯ অর্থবছরে বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা খাতে জন প্রতি মাসিক ২৫০ টাকা হারে ৯ লক্ষ বিধবা, স্বামী নিগৃহীতা নারীর জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ২৭০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে জনপ্রতি মাসিক ৫০০ টাকা হারে ১৪ লক্ষ জনের জন্য বরাদ্দ ৮৪০ কোটি টাকা। বিগত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা ভাতা খাতে ৫২৬৮.২২ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে । ২০০৮-০৯ অর্থবছরে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা খাতে জন প্রতি মাসিক ২৫০ টাকা হারে ২ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তির জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬০ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে মাথাপিছু মাসিক ৭০০ টাকা হারে ১০ লক্ষ জনের জন্য বরাদ্দ প্রদান করা হয়েছে ৮৪০ কোটি টাকা। বিগত ১০ বছরে অস্বচ্ছল প্রতিবন্ধীভাতা খাতে ৩২৬৭.৬১ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে।

২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি খাতে ১৩ হাজার প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বাজেট বরাদ্দ ছিল ৬ কোটি টাকা। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ১ লক্ষ প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীর জন্য বাজেট ৮০ কোটি ৩৭ লক্ষ টাকা। বিগত ১০ বছরে (২০০৯-১৮) প্রতিবন্ধী শিক্ষা উপবৃত্তি খাতে ১১৭১.৫৩ কোটি টাকা প্রদান করা হয়েছে । দেশব্যাপী ১০৩টি প্রতিবন্ধী সেবা ও সাহায্য কেন্দ্র স্থাপন এবং প্রতিটি কেন্দ্রে অটিজম রিসোর্স সেন্টার চালু, যা থেকে বছরে প্রায় ৪ লক্ষ প্রতিবন্ধী ব্যক্তি সরাসরি সেবা পাচ্ছে। ৩২টি মোবাইল থেরাপি ভ্যানের মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হচ্ছে। চা বাগানের শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে খাদ্য, চিকিৎসা সহায়তা প্রদান কার্যক্রম চালু করা হয়েছে। এ কর্মসূচির আওতায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে সারাদেশে ৩০,০০০ জন চা শ্রমিকের জীবনমান উন্নয়নে খাদ্য সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। ২০১৩-১৪ অর্থবছর থেকে শুর হয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত মোট ৪৬ কোটি টাকা বিতরণ করা হয়েছে ।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর (হিজড়া, বেদে ও অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর) জীবনমান উন্নয়ন কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে এর মাধ্যমে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ৭৬ হাজার ব্যক্তি প্রশিক্ষণ, বিশেষ ভাতা এবং শিশুরা উপবৃত্তি পাচ্ছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ২৭ কোটি টাকা এবং মোট উপকারভোগী ৩৫,৯৩২ জন। পল্লী অঞ্চলে বসবাসরত দুস্থ, অসহায়, অবহেলিত, অনগ্রসর ও পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠিকে ক্ষুদ্রঋণ প্রদানের মাধ্যমে আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন তথা দারিদ্র্য বিমোচনের লক্ষ্যে পল্লী সমাজসেবা (আরএসএস) কার্যক্রম, পল্লী মাতৃকেন্দ্র (আরএমসি), দগ্ধ ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের পুনর্বাসন কার্যক্রম এবং আশ্রয়ণ কার্যক্রম এ চারটি কর্মসূচি পরিচালনা করে যাচ্ছে। শুর হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত সর্বমোট পুঞ্জিত বিতরণ ৮৭০ কোটি ৩৮ লক্ষ টাকা। শুর হতে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত উপকারভোগীর সংখ্যা ৩৫ লক্ষ ৪১ হাজার ৭৮১ জন।

পথশিশুদের অধিকার সুরক্ষার জন্য স্থায়ীভাবে ১২টি শেখ রাসেল প্রশিক্ষণ ও পুনর্বাসন কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। যাতে ২৩টি আবসস্থলে ২০১২-১৩ অর্থ বছর থেকে ২০১৭-১৮ অর্থবছর পর্যন্ত প্রায় ৯০৪৯ জন (৪৪৩৩ জন বালক ও ৪৬১৬ জন বালিকা) শিশুকে সুরক্ষা প্রদান করা হয়েছে। গ্রামীন দরিদ্র রোগীদের চিকিৎসা সহায়তা প্রদান নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে ৪১৯ টি উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সে রোগকল্যাণ সমিতির মাধ্যমে হাসপাতাল সমাজসেবা কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হয়েছে।

বিগত ১০ বছরে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় মোট ৩২টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে যাতে জিওবি অনুদান ৬৩৫.৮৪ কোটি টাকা । ৮টি শিশু পরিবার এর হোস্টেল ভবন নবনির্মিত হয়েছে। দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য ৩৭টি হোস্টেল নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে এবং দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আরও ৩৭টি হোস্টেল নির্মাণ চলমান রয়েছে । প্রতিটি জেলায় সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় ১ম পর্যায়ে ২২টি জেলা সমাজসেবা কমপ্লেক্স নির্মাণ চলমান রয়েছে । বিগত ১০ বছরে (২০০৯ হতে ২০১৮) মোট উপকারভোগীর সংখ্যা = ৪১৬.৮৪ লক্ষ জন এবং অর্থ বিতরণের পরিমাণ = ১৯১৪০.২৯ কোটি টাকা। ২৩০টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। ৪২৩টি বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের দরপত্র আহবান। ১০০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ। ২২০টি বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণের কার্যক্রম বাস্তবায়নাধীন। সরকারি অর্থায়নে হত দরিদ্রদের বসতবাড়িতে ২,১৫,৬৫৯টি সোলার প্যানেল স্থাপন।



মন্তব্য