ঢাকা - অক্টোবর ১৮, ২০১৯ : ২ কার্তিক, ১৪২৬

আবরার ফাহাদ হত্যায় জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা

নিউজ ডেস্ক
অক্টোবর ০৭, ২০১৯ ১২:২৪
১৪৭ বার পঠিত

ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায় সোমবার সকালে বুয়েটে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেছেন, আবরার ফাহাদ হত্যায় যারাই জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে, রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা করা হবে না।

তিনি বলেন,প্রাথমিক তদন্তে আমরা তাকে পিটিয়ে হত্যার প্রমাণ পেয়েছি। ইতিমধ্যে দুইজনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ জব্দ করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে দৃশ্যমান কিছু নজরে এসেছে।

এদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে ‘পিটিয়ে হত্যা’র রহস্য উদঘাটন করা হবে বলে জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। সোমবার সকালে সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

আবরার ফাহাদকে ‘পিটিয়ে হত্যা’ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘ভিন্ন মতের জন্য একজন মানুষকে মেরে ফেলার কোনো অধিকার কারও নেই। কাজেই এ ক্ষেত্রে আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে।’

আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দুজনকে আটক করা হয়েছে। সোমবার সকালে তাদের আটক করে চকবাজার থানা পুলিশ। এর আগে সোমবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে ফাহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফাহাদ বুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিকস বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি শেরেবাংলা হলের ১০১১ নম্বর রুমে থাকতেন। ফাহাদ কুষ্টিয়া কুমারখালী উপজেলার রায়ডাঙ্গা গ্রামের বরকত উল্লাহ ছেলে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে হওয়া চুক্তি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়াকে কেন্দ্র করে রোববার রাতে ‘শিবির’ আখ্যা দিয়ে মারধর করে আবরারকে হত্যা করা হয়।আবরার সর্বশেষ ফেসবুক স্ট্যাটাসে লেখেন, ‘‘১.৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেওয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে। ২.কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব। ৩.কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তরভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব। হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন-"পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি এ জীবন মন সকলি দাও, তার মত সুখ কোথাও কি আছে আপনার কথা ভুলিয়া যাও।"

এদিকে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে (২১) হত্যার সময়কার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ গায়েব করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিবাদে হল প্রভোস্ট অফিস ঘিরে বিক্ষোভ করছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় কান্নায় ভেঙে পড়ছেন ওই শিক্ষার্থীর সহপাঠীরা। আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রাত ২টা ৬ মিনিটের পর আর কোনো ফুটেজ পাওয়া যাচ্ছে না। ওই ফুটেজ পেলে হত্যার বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, ফুটেজ উদ্ধারে সাত ঘণ্টার মতো সময় লাগবে। এরপর জানা যাবে ঘটনার মূল কারণ।

সোমবার দুপুর ১২ টার দিকে শেরে বাংলা হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক জাফর ইকবালের কাছে হত্যাকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ দেখতে চান। এ সময় প্রাধ্যক্ষ ফুটেজ দেখাতে গড়িমসি করলে কান্নায় ভেঙে পড়েন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তারা বলেন,‘আপনার ছেলে মারা গেলে তখন আপনি কী করতেন? স্যার! আমাদের জীবনের কী কোনো মূল্য নেই আপনাদের কাছে?’ হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজ না দেখা পর্যন্ত ও সব হত্যাকারীদের গ্রেফতার না করা পর্যন্ত কোথাও না যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবিতে প্রয়োজনে অনশন করার কথাও বলছেন তারা।

এদিকে এ হত্যাকাণ্ডের পর এখনও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আসেননি। এছাড়া মুঠোফোনে কল দিলেও কল ধরছেন না তিনি। দুপুর ১২ টার দিকে শিক্ষার্থীদের চাপের মুখে গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে উপাচার্যকে মুঠোফোনে কল দেন প্রাধ্যক্ষ। তখন উপাচার্যের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) কল রিসিভ করে উপাচার্য অসুস্থ বলে জানায়। এজন্য তিনি ক্যাম্পাসে আসতে পারবেন না।



মন্তব্য